সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

কুষ্টিয়ার খোকসায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর জমি দখল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

খোকসা প্রতিনিধি / ৩২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

একজন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর জমি দখল করে রাখা এবং দির্ঘ ১৫ বছর তার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা উত্তোলনের তথ্য গোপন রেখে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদ এর স্ত্রী রহিমা খাতুন এমনটায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার বিবরণে রহিমা খাতুন বলেন, যুদ্ধের পর আমরা ইন্ডিয়াতে ছিলাম তারপর আবার দেশে এসেছি। আমার স্বামী মারা যাবার পর আমি আমার বাবার বাড়িতে থেকেছি মাঝে মাঝে স্বামীর বাড়িতে এসেছি। কিন্ত আমার নিজের ঘর না থাকায় প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হত। এ সময় রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, তার দেবর ওহাব বিশ্বাস (৬৫) ও তার ছেলে মিন্টু বিশ্বাস (৩৮) এর কাছে আমি বহুবার জানতে চেয়েছি আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পান কিনা? কিন্ত তারা সেটা আমার কাছে গোপন করে। দির্ঘ ১৫/১৬ বছর পর জানতে পারি আমার স্বামী ভাতার টাকা পায়, এবং আমার শাশুড়ীর নামে টাকা উত্তোলন করা হত। এছাড়া আমার স্বামীর পৈতৃক সুত্রে পাওয়া ১ শতক ৮০ পয়েন্ট জায়গা বুঝিয়ে দিতে নানা টালবাহানা করে আসছে। আমার জমির উপর মিন্টু ঘর তুলে দখল করে রেখেছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবশীরা বলেও কোন ফল পায়নি। শেষ পর্যন্ত আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খোকসা থানা পুলিশকে অবহিত করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তারা সেটা দিচ্ছে না। তবে ২০১৭ সালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম তরুণের সহযোগিতায় ভাতার বই তার নামে ইস্যু করা হয়। এ সময় তিনি নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, এই বৃদ্ধ বয়সে আমি আর ভেসে বেড়াতে চায়না, আমি এখানে ঘড় তুলে বসবাস করতে চায় এবং আমার ঘর থেকে বেরোবার পথ চাই। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার চাচাত ভাই লুৎফর (৬৫) বলেন, ওহাবের ছেলে মিন্টু ঘর তুলে রাখছে ও ঘর সরিয়ে নিলেই সে (মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী) ঘর তুলতে পারে। কিন্তু সে (মিন্টু) তো তা করছেনা। ভাতার টাকা তুলে ওরাই ভাগবাটোয়ারা করে নিত। এ বিষয়ে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদের ভাই ওহাব বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে তার নিজের জমির উপর ঘর তুলে রয়েছে সে যতটুকু পাবে সেটা তাকে ফেরত দেওয়া হবে। এ সময় তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তারাই তো ঘর আমার ঘর নির্মানে বাধা দিচ্ছে। সে জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য দখলীয় জায়গার অংশ থেকে ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে কিন্তু তারা এখন আমার ছেলের ঘর নির্মান করতে দিচ্ছে না। অপর দিকে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদের বড় ভাই মৃত আঃ গফুরের ছেলে আলম (৪০) অভিযোগ করে বলেন, আমার দাদার সম্পত্তির থেকে আমার বাবা সহ তার অন্যান্য চাচারা প্রত্যেকেই ১ শতক ৮০ পয়েন্ট করে জমি পেয়েছে। মিন্টু আমার দাদীর কাছ থেকে আমার বাবার ও আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচা আঃ মজিদের জমির ৩০ পয়েন্ট করে দুজনার কাছ থেকে ৬০ পয়েন্ট জমি কৌশলে লিখে নিয়েছে যা আমরা জানতাম না। এখন আমার চাচীকে ১ শতক ৫০ পয়েন্ট জমি ফেরত দিবে বলেছে। এভাবে দিলে আমার চাচীর বেরোনোর রাস্তা থাকে না। আর তাছাড়া আমার বাবার জমি ও কেন নিবে। এ ব্যাপারে মিন্টুর কাছে জানতে চাওয়া হলে মিন্টু বলেন, আমার দাদী আমার দুই চাচার থেকে আমাকে ৬০ পয়েন্ট জমি লিখে দিয়ে গেছে। আমি এর থেকে ৩০ পয়েন্ট জমি চাচীর জন্য ছেড়ে দিব। আর বাঁকী ৩০ পয়েন্ট জমি আলমের ভেতরে রয়েছে ওই দিক দিয়ে চাচীকে যাতায়াত করার কথা বলেছি। কিন্ত আলম দাবী করেছে ঐ ৩০ পয়েন্ট জমি তাকে লিখে দিতে হবে। আমি লিখে দেব না। এ বিষয়ে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কাশেম তরুন বলেন, যখন তাদের জমি ভাগাভাগি হয় তখন আমরা মজিদের ভাগের ১ শতক ৮০ পয়েন্ট জমি আলাদা ভাবে রেখে খুটি গেড়ে দিয়েছিলাম। পরে আস্তে আস্তে তার জায়গাটা মিন্টু দখল করে নেয়। তারপর এক সময় মজিদের স্ত্রী এখানে আসলে তার জমি বুঝিয়ে দিতে মিন্টু গড়িমসি করে। পরবর্তীতে রহিমা খাতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করে। যার প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করেন। পরে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায় মিন্টু তার দাদীর কাছ থেকে তার মৃত দুই চাচা মজিদ ও গফুরের জমি থেকে ৬০ পয়েন্ট জমি লিখে নেয়। মা জীবিত থেকে সন্তানের মৃত্য হলে মা আজমা সুত্রে যে জমিটুকু পায় সেটুকু কৌশলে মিন্টু তার শতবর্ষী দাদীর কাছ থেকে লিখে নেয়। যার ফলে রহিমা খাতুনের জমির পরিমান কমে দাঁড়ায় ১.৫০ পয়েন্ট। সেই অনুযায়ী জমি মাপতে গেলেও দেখা যায় মিন্টুর ঘড় বেঁধে যায়। তাকে ঘর সরিয়ে নিয়ে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও , সে ভাঙ্গে আবার গড়ে। প্রসাসনের পক্ষ থেকেও মিন্টুকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে । আর ভাতার টাকার বিষয় হলো তারা ইন্ডিয়াতে থাকত মাঝে মধ্যে যাতায়াত করত যার ফলে মজিদের মায়ের নামে বই হয়। রহিমা খাতুন তাদের কাছে ভাতার ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা তাকে পাত্তা দিতনা যা পাইছে তারাই ( ওহাব ) ভোগ করেছে। এক পর্যায়ে সে আমার কাছে আসলে আমি তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলীর সহযোগীতায় তার নামে ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। এ ব্যাপারে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার খোকসা উপজেলা কমান্ড, মনজিল আলী বলেন, মজিদ তো ইন্ডিয়াতে থাকত মজিদের স্ত্রী সন্তানের কোন খোঁজ আমরা জানতাম না। যার ফলে তার মায়ের নামে ভাতার কার্ড ইস্যু হয়। রহিমা খাতুন মজিদের স্ত্রী দাবী করলে, তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলি সে কাগজ পত্র জমা দিলে আমরা তার নামে বই ইস্যু করে দেই। এ সময় তিনি আরও বলেন, এতদিন সে ছিল না যেহেতু সে এখন এসেছে এবং তার স্বামীর ভিটায় বসবাস করতে চায় তার শরীকদের উচিৎ তার জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া সে যেন বসবাস করতে পারে। একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসেবে আমরা তার সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা সহকারী ভূমি মোঃ ইসাহক আলী জানান, আমি সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষকে বলেছি আপনারা জায়গাটা মেপে আমার কাছে একটা রিপোর্ট দেন। কিন্ত তারা এখনও সেটা করেনি যেহেতু পাবলিক প্রপার্টি তাই আইনগত ভাবেই বিষয়টা সমাধান করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর