সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

উৎপাদন বাড়লেও কমলা ও মাল্টা আমদানিনির্ভর

ঢাকা অফিস / ৩২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

১২৬ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান

 

দেশে লেবুজাতীয় ফলের চাহিদা বাড়ছে। সারা বছরই কমলা-মাল্টা, জাম্বুরা বা বাতাবি লেবুসহ নানা ধরনের লেবুজাতীয় ফলের কদর রয়েছে। কিন্তু মানুষের এই চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনের পরিমাণ খুবই কম। যে কারণে আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কমলা ও মাল্টা আমদানি করতে হচ্ছে। লেবুজাতীয় ফলের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে সরকারের ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্প চলমান। ভিটামিন-সি ও অন্যান্য পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ২০১৯-২০ অর্থবছরে লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি নামে এই প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে। দেশের ৩০টি জেলাধীন ১২৩টি উপজেলায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন করে আরো ৪০ হাজার টন মাল্টা এবং লেবুজাতীয় ফল উৎপাদিত হবে দেশে। এতে সরকারের আমদানিনির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে। সাশ্রয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ ড. ফারুক আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বর্তমানে ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে লেবুজাতীয় ফসল আবাদ হয়। উৎপাদন চার লাখ টনের উপরে ওঠেনি। আমরা চাচ্ছি চার হাজার হেক্টরে যদি লেবুজাতীয় আবাদ বাড়াতে পারি তাহলে ৪০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া মানুষ যাতে সহজে চারা পায়, সেজন্য হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে চারা উৎপাদন বাড়ানো হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক যুবকের বেকারত্ব দূর হবে, কর্মসংস্থান হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এক লাখ ৫৯ হাজার ৬০১ টন লেবু এবং ৯ হাজার ৪০৭ টন কমলাসদৃশ ফল কেনু আমদানি হয়েছে। আগের বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমলা ২১ হাজার ৮৮৯ টন, মাল্টা ৪৯ টন এবং কমলাসদৃশ ফল কেনু আমদানি করা হয় ১০ হাজার ৭৩৯ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কমলা দুই লাখ ৫০ হাজার ৬৯৮ টন, মাল্টা ২১৭ টন এবং কেনু আমদানি হয় ৯ হাজার ৯০০ টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কমলা এক লাখ ৭২ হাজার ৬৭৫ টন, মাল্টা ২৩ টন এবং কেনু ছয় হাজার ২৮৫ টন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর লেবুজাতীয় ফলের আমদানি বাড়ছে। তবে লেবুজাতীয় ফল দেশে আমদানি হলেও রফতানি তুলনামূলক বেশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১৮৯ টন লেবু রফতানি হয়েছে। আগের বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে হয়েছে মাত্র ১৭৫ টন। মূলত লেবুজাতীয় ফল ভিটামিন-সির অন্যতম প্রধান উৎস। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইম্যুনিটি বাড়াতে সাইট্রাস জাতীয় ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিবিদদের মতে, একজনপূর্ণ বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি গ্রহণ করা উচিত। সেই হিসাবে বছরে ৩০ লাখ মে. টন সাইট্রাস জাতীয় ফলের প্রয়োজন। মাল্টা, কমলা, লেবু, বাতাবি লেবু প্রভৃতি ফলে প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে। এ জন্য পুষ্টি সচেতনদের কাছে এসব ফলের চাহিদা বেশি। প্রকল্প পরিচালক এ বিষয়ে বলেন, কমলা-মাল্টাজাতীয় ফলে প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে। তবে ভিটামিন-সি শুধু মাল্টা-কমলাজাতীয় ফলে না, অন্য ফসলেও আছে। তিনি বলেন, লেবুজাতীয় ফসলের আবাদের পরিধি বেড়েছে বটে। কিন্তু এখনো উৎপাদন ওই অর্থে বাড়েনি। আরো একটু সময় লাগবে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, দেশে লেবুজাতীয় ফসলের উৎপাদন দিনে দিনে বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম। দেশে মাল্টা, জাম্বুরা বা বাতাবি লেবু, কমলা, এলাচি লেবু, জারা লেবু, কলম্বে^া লেবু, সাতকরা, আদাজামিরসহ নানা ধরনের লেবুজাতীয় ফল রয়েছে। বৃষ্টিবহুল ও উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে এ ফল ভালো হয়। জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় কমলা, মাল্টা, বাতাবিলেবু ও লেবুজাতীয় ফসলের ৫৪ হাজার ১০০টি প্রদর্শনী স্থাপন ও পাঁচ হাজার পুরাতন বাগান পরিচর্যা প্রদর্শনী স্থাপন, ৫৯ হাজার ১০০ জন প্রদর্শনী কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এছাড়া ২০টি হর্টিকালচার সেন্টারে বিভিন্ন লেবু ফসলের উন্নত জাতের মাতৃবাগান স্থাপন করা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত দেশে মাল্টা, লেবু, কমলা এবং বাতাবি লেবুর উৎপাদন ও ফলন বাড়ানোর জন্য কৃষককে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে শুধু কমলা চাষ করা হচ্ছে চার হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। সবুজ রঙের মাল্টা উৎপাদনসহ কিভাবে এই ফলটি দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়টি নিয়েও কাজ করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। দেশী ফলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানো এবং ফলের আমদানিনির্ভরতা কমানোই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে বাজারে সবুজ রঙের মাল্টা (বারি মাল্টা-১) পাওয়া যাচ্ছে। এটি প্রকল্পেরই সফলতা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর