সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ১০:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

কিশোরগঞ্জে শত বিপত্তির শিকল ছিড়েঁ সাফল্যের সিড়িঁতে ৩ নারী

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি / ৩৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ১০:১২ অপরাহ্ন

তৎকালিন সময়ে ঘুনে ধরা সমাজ থেকে নারী অধিকার রক্ষা করে নারীদের মর্যাদা আসনে বসাতে লড়াই শুরু করেছিলেন মহিয়ষী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে শত বিপত্তির শিকল ছেড়ে সাফল্যের সিঁড়িতে পৌঁচ্ছেন ৩ নারী। অর্থনৈতিকভাবে সফল খাদিজা মেমীঃ তিনি উপজেলার উঃ চাঁদখানা ইউনিয়নে নগর বন্দ গ্রামের ফয়জুল ইসলামের মেয়ে। খাদিজা মেমীর পিতা একজন দিনমজুর। দিনমজুর পিতা আর দুঃখী জননী মায়ের পক্ষে ৭ সন্তানের মুখে দু-বেলা খাবার তুলে দেয়াসহ লেখা পড়ার খরচ যোগাতে হিমশিমদশা।দারিদ্রের কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে মনের সুপ্ত বিকাশকে জাগ্রত করে যাপিত জীবনের হাজারো কষ্ট আর বেদনাকে ছাপিয়ে পিতাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা,দুঃখীণি মায়ের দুঃখগুলো কাটিয়ে উঠতে কিছু করার তাগিদে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে, আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ব্লক বাটিক ট্রেডে ৩ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ৬ হাজার টাকা ভাতা পান। এ টাকা দিয়ে সেলাই মেশিনের পাশাপাশি কিছু কাপড় ক্রয় করে নকশী কাঁথা, পুঁথির কাজ, এপ্লিকের কাজ, হাতের কাজের থ্রি পিস ও ছোট ছোট বাচ্চাদের পছন্দসই পোশাক তৈরি ও বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আয় করেন। এর পাশাপাশি যুবউন্নয়ন অফিস কর্তৃক হাঁস-মুরগি, গবাদি পশু পালন, মোটাতাজাকরণে প্রাথামিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নিয়ে হয়ে উঠেন একজন সফল পল্লীচিকিৎসক। এতে প্রতিমাসে ২০হাজার টাকা আয় করেন। পরবর্তীতে ওই অধিদপ্তরের সহযোগিতায়, উপজেলা পরিষদে জাইকা কর্তৃক পরিচালিত ২০জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর পুঁথির, শো-পিচ তৈরি প্রশিক্ষণ এর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে ৬ হাজার টাকা উপার্জন করেন। এভাবেই নিজেকে সফল উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হন। বর্তমানে একজন সফল উদ্যোক্তা নারী হিসেবে ৮ থেকে ১০ হতদরিদ্র নারীকে তার কাজের সাথে যুক্ত করে তাদের আর্থিক উপার্জন করতে সহায়তা করেন। তিনি এখন বিএসসি (অনার্স) তৃতীয় বর্ষের নিয়মিত ছাত্রী। লেখাপড়ার পাশাপাশি পিতার দৈন্যদশা থেকে মুক্তি সবই তার হাত ধরে। নিজেও স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং অন্যাকেও করেছেন। আজ খাদিজা মেমী সমাজে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অজর্নকারী নারী। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে পেলে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করা ফাতেমা আক্তার মিনিঃ তিনি চাঁদখানা ইউনিয়নের একই গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী। পিতার দৈন্যদশা থেকে ২০২১ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পর অন্তঃসত্তৃা অবস্থায় লক্ষাধিক টাকা যৌতুকের জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়ীতে ঠাঁই হয়। পরে সেখানে কন্যা সন্তানের জম্ম দেন। অনেক চেষ্টা করেও স্বামীর ঘরে আশ্রয় হয়নি তার। এর প্রতিকার চেয়ে মামলা করা হয়। যা এখনো চলমান। দীর্ঘ চার বছর পর আবার লেখা পড়া শুরু মধ্যে দিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাবার অভাব-অনটন সংসারে দুর্বিষহ জীবযাপন করেন। অনেক যন্ত্রণা এবং বুক ভরা ব্যথা নিয়ে নিজেকে বদলানোর জন্য নতুন উদ্যোমে জীবন গড়ার লক্ষে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় আয় বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ফ্যাশন ডিজাইনে ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণের পর পরবর্তীতে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের অধীনে গবাদি পশু পালন ও মোটাতাজাকরণে ১ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ প্রশিক্ষণ ভাতার ৩ হাজার টাকা এবং আইজিএ প্রশিক্ষণ ভাতার ৬হাজার টাকা পরবর্তীতে জাইকা কর্তৃক ২০জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষক ভাতার ৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি সেলাই মেশিন, কিছু কাপড় ক্রয় করেন। এ কাপড় দ্বারা বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরির বিক্রির উপার্জিত অর্থের পাশাপাশি ১০টি মূরগির ডিম,২টি গরু,২টি ছাগল পালন করে দৈনিক যা আয় হয় তা দিয়ে নিজের ও সন্তানসহ বাবার সংসারে সকল সদস্যদের ভরনপোষন চল্।ে এভাবে নিযার্তানের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্দ্যোমে জীবন শুরু করা ফাতেমা মিনি এখন সফল উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাড়ানো দিগি¦জয়ী নারী। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা সফিয়া আক্তার বিজলীঃ বিজলী উপজেলার মাগুরা দর্জি পাড়া গ্রামের মৃত্যু বফিল উদ্দিনের মেয়ে । বিবাহিত জীবনে এক কন্যা সন্তানের জননী এবং একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। ছোটেবেলা থেকেই তার বেড়ে ওঠা অসহায় মানুষের জন্য কিছু করা। পেশার ফাঁকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পূক্ত থেকে অসহায় মানুষের সহাতায় এগিয়ে আসলে তিনি নিজেকে খুব ধন্য মনে করেন। এভাবেই অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসা, খাদ্য সংগ্রহ, হুইলচেয়ার সংগ্রহ, গৃহীন, প্রতিবন্ধীর ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ করার মাধ্যমে নিভৃতে নীরবে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছাম্মৎ সাবিকুন্নাহার বলেন, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি কোন বাধাই বাধা নয়, নারীরাও শতবাধাঁ পেরিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারে। তাই এ অধিদপ্তরের “জয়ীতা অন্নেষনে বাংলাদেশ” এর নির্বাচিত ওই সংগ্রামী ৩ নারী বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব সংগ্রামী নারী সমাজের অবহেলিত নয়, এখন সমাজে আর দশজন নারীরই প্রতিচ্ছবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর