সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

দেশে ক্রিকেট জুয়ার বাজার ৭০০০ কোটি টাকার

ঢাকা অফিস / ৩৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

ক্রিকেটবিশ্বে সবচেয়ে ধনী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তাদের আয়োজন করা শতকোটি ডলারের লীগ আইপিএল খেলতে মুখিয়ে থাকেন খেলোয়াড়রা। ক্রিকেটবিশ্বে সবচেয়ে বেশি জুয়া হচ্ছে এই আইপিএল ঘিরে। প্রভাবশালী ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া গত বছর জানিয়েছিল, ভারতে জুয়ার বাজার ছয় হাজার কোটি ডলার বা পাঁচ লাখ চার হাজার কোটি টাকার। এই অর্থ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের সমান। এই জুয়ার ৮০ শতাংশ চলে ক্রিকেট ঘিরে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভারতের উচ্চতায় পৌঁছেনি। তবু বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে পাঁচতারা হোটেল পর্যন্ত যেভাবে ক্রিকেট নিয়ে বাজি চলে, তাতে বলা যায় ছোট নয় এখানকার জুয়ার বাজারও। অঙ্কটা আনুমানিক কত? সিআইডির সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, দেশে ক্রিকেট জুয়ার বাজার আনুমানিক সাত হাজার কোটি টাকার। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেছেন, ‘আমরা বিভিন্ন সাইটে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার লেনদেন হতে দেখি। আইপিএল, বিপিএল ও বিশ্বকাপের মতো আসর থাকলে এই লেনদেন বেড়ে যায়। বেশির ভাগ জুয়া হয় ক্রিকেট নিয়ে। ফুটবলের লা লিগা আর প্রিমিয়ার লীগ নিয়েও জুয়াড়িদের আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি আছে বিভিন্ন দোকান, ক্লাব ও হোটেলে বসা বাজির আসর। সেখানে কত টাকা লেনদেন হয় বলা কঠিন। তবে বছরে অনলাইন জুয়ায় পাচার হয়ে যায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো। এটা ঠেকাতেই নিরলস কাজ করে চলেছি আমরা।’ বিদেশের বৈধ বেটিং সাইটে বিপিএলের একেকটি ম্যাচে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাজি ধরার রেকর্ড আছে। আইপিএলের ম্যাচে অঙ্কটা আরো বেশি। গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে অবৈধ ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে দিনে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা বাজির কথা উল্লেখ আছে। যদিও আমেরিকান গেমিং অ্যাসোসিয়েশনের জরিপ মতে, বিশ্বে ২০৩ বিলিয়ন ডলারের বৈধ জুয়ার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ জুয়ার বাজার। সিআইডির হিসাব মতেও অবৈধ জুয়ার বাজার পরিধি ভীতিকর। আর পুরো বিশ্বে খেলাধুলা ঘিরে অবৈধ জুয়ার বাজার অবিশ্বাস্য অঙ্কের, ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার! এই হিসাবটি জাতিসংঘের ড্রাগ ও অপরাধ শাখার জরিপ থেকে পাওয়া। তো, বাংলাদেশে দিনে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা জুয়ার গড় ১২.৫ কোটি ধরলে অবৈধ জুয়ার সাইটে বছরে লেনদেন হয় চার হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। ক্রিকেট জুয়া তদন্তকারী গোয়েন্দাদের অনুমান, দোকান, ক্লাব, হোটেলেও এই অঙ্কের কাছাকাছি লেনদেন হয় বছরজুড়ে। তাহলে অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকার জুয়ার বাজার আছে বাংলাদেশে। কিন্তু এর পুরোটা ক্রিকেটকেন্দ্রিক নয়। ফুটবল আর অনলাইন ক্যাসিনোতেও অংশ নেয় জুয়াড়িরা। তবে বেশির ভাগ জুয়া ক্রিকেট নিয়েই। তাই সিআইডির সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, দেশে ক্রিকেট জুয়ার বাজার আনুমানিক সাত হাজার কোটি টাকার। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সায় দিলেন তাতে, ‘মানি লন্ডারিং নিয়ে কাজ করে সিআইডি। তারা যদি বলে দিনে জুয়ার সাইটে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা অনলাইনে অবৈধ লেনদেন হচ্ছে, তাহলে তথ্যটি ঠিকই আছে বলা যায়।’ জুয়া বৈধ অনেক দেশে বাংলাদেশ ও ভারতে জুয়া খেলা অবৈধ। তবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এটি বৈধ। আরব আমিরাতের আইনটি অদ্ভুত। স্থানীয়দের জন্য জুয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু বিদেশিদের খেলতে বাধা নেই। এমন কিছু চাইছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি অনুরাগ ঠাকুরও। বর্তমানে ভারতের যুব, ক্রীড়া ও তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অনুরাগ কিছুদিন আগে দাবি জানিয়েছিলেন, ‘ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো জুয়া বৈধ করে দেওয়া উচিত ভারতে। এই টাকা মূলধারার অর্থনীতিতে যোগ হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। ম্যাচ পাতানোও কমবে।’ অনুরাগের এই ভাবনার সঙ্গে ভারতীয় সরকার একমত হয়নি। পাত্তা দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসকে প্রশ্নটা করলে আঁতকে ওঠেন তিনি, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের বাইরে নই। সরকারিভাবে জুয়া নিষিদ্ধ, বিসিবিও এই আইন সমর্থন করে।’ রুপালি জগতের সম্পৃক্ততা নেই জুয়া আর ম্যাচ পাতানোয় ভারতসহ বিভিন্ন দেশে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয় মডেল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের। আবার ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহের কারণে আইপিএলে দল পর্যন্ত কিনেছেন বলিউড নায়িকা প্রীতি জিনতা ও শিল্পা শেঠি। বলিউড বাদশা খ্যাত শাহরুখ খান আইপিএলের পাশাপাশি দল কিনেছেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগেও। তবে বাংলাদেশের কোনো নায়ক-নায়িকা ক্রিকেটে সরাসরি সম্পৃক্ত হননি এখনো। ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন থাকলেও জুয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা পায়নি সিআইডি। সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ‘নায়ক-নায়িকাদের টোপ হিসেবে ব্যবহার না হওয়াটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য স্বস্তির। জুয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা পাইনি আমরা। অনেকের ভিগো, লাইকি, স্ট্রিমকার অ্যাপ আছে। করোনার সময় এসব থেকে আয় ছিল তাঁদের প্রধান উৎস। অশ্লীলতার কারণে জনপ্রিয় এক তারকা দম্পতিকে আমরা সতর্ক করায় তাঁরা বের হয়ে এসেছেন এসব থেকে।’ ক্রিকেটারদের টোপ জুয়ার বাজারটা অনেক বড় বলে জুয়াড়িরা ম্যাচ পাতানোর টোপ দেয় ক্রিকেটারদের। চেষ্টা করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার। ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ এক ক্রিকেটারের সঙ্গেও করা হয়েছিল সেই চেষ্টা। দক্ষিণ আফ্রিকার গোয়েন্দা বিভাগ থেকে সে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে ফ্যাক্স আসে একটি। সেই ক্রিকেটারের বিপক্ষে নানা অভিযোগ জানায় সংস্থাটি। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গঠন করে তদন্ত কমিটি। কমিটির সুপারিশ ছিল, ওই ক্রিকেটারকে যেন দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে না রাখা হয়। জুয়াড়ির প্রভাব বিস্তারের সন্দেহে ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-কানাডা ও বাংলাদেশ-কেনিয়া ম্যাচটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) কালো তালিকাভুক্ত হয়ে আছে। দুটি ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। বিপিএল শুরুর পর তো রীতিমতো জুয়াড়িদের মহোৎসব। মোহাম্মদ আশরাফুল ২০০৭ সালে প্রলোভনে পা না দিয়ে জুয়াড়ির প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন যথাযথ কর্তৃপক্ষকে। সেই তিনিই ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যান ২০১৩ সালে, নিষিদ্ধ হন পাঁচ বছর। স্বীকারোক্তির সময় দুজন সিনিয়র ক্রিকেটারের নামও বলেছিলেন তিনি। মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবালরা একাধিকবার জুয়াড়ির প্রস্তাব পেলেও সেই ফাঁদে পা না দিয়ে জানিয়েছেন বিসিবি আর আইসিসিকে। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আরো একবার কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট। জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগের খবর আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে (এসিইউ) অবহিত না করার অপরাধে দুই বছর নিষিদ্ধ হন সাকিব আল হাসান। তবে দোষ স্বীকার করার জন্য এক বছরের শাস্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় আইসিসি। দোষ ও শাস্তি মেনে নেওয়ায় আপিলের সুযোগ ছিল না সাকিবের। অসহায় দুর্নীতি দমন বিভাগ বিপিএল কেলেঙ্কারি তদন্তে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) কর্তারা সহায়তা নিয়েছিলেন র‌্যাবের। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলার সময় সেই আকসুর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক ধরমবীর সিং যাদবের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট জুয়াড়ি অতনু দত্তের কথোপকথনের তথ্য পায় র‌্যাব। সে বছর ২১ মার্চ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ চলার সময় সন্দেহবশত অতনুকে মিরপুরে আটক করেছিলেন গোয়েন্দারা। কিন্তু অতনুকে ছাড়িয়ে নেন ধরমবীর সিং। তিনি দাবি করেছিলেন, অতনু ম্যাচ পাতানো বিষয়ে তাঁর তথ্যদাতা। বাধ্য হয়ে অতনুকে ছেড়ে দেয় র‌্যাব। তবে সন্দেহের জন্য আড়ি পাতা হয় মোবাইলে। তখনই গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ছাড়া পাওয়ার পরই ২১ মার্চ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সময় কলকাতার জুয়াড়ি কুনাল দাগার সঙ্গে অনর্গল কথা বলছেন অতনু। এরপর র‌্যাব পাসপোর্টের কপি সংগ্রহ করে কালো তালিকাভুক্ত করে এই জুয়াড়িকে। বাংলাদেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা জারির পর সে বছর ৩ এপ্রিল বেনাপোলে গ্রেপ্তার হন অতনু। তবে মামলাটি জামিনযোগ্য হওয়ায় বিস্ময়করভাবে এক ক্রীড়া সংগঠক উদ্যোগ নেন তাঁর জামিনের! আইনজীবীদের চেষ্টায় জেল থেকে ছাড়া পেতেও সময় লাগেনি। আইসিসি তো বটেই বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন বিভাগের ক্ষমতাও সীমিত। ২০১৩ সালের বিপিএলের জন্য প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকায় আকসুর কয়েকজন কর্তাকে এনেছিল বিসিবি। অথচ তাঁদের সামনে প্রতিটি ম্যাচ গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসে দেখছিলেন বিদেশি বেটিং কম্পানির তিন প্রতিনিধি। আকসু কর্তাদের কিছু করার ছিল না, কারণ তাঁদের মাঠে প্রবেশে কোনো আইনি বাধা নেই। ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার করারও ক্ষমতা নেই। তাই কথিত আছে, ক্রিকেটের দুর্নামের কথা ভেবে সজ্ঞানে জুয়াড়িদের উপস্থিতি এড়িয়ে যায় সংশ্লিষ্ট বোর্ড, এমনকি আইসিসিও।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর