সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

সাত বছরে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পাচার

ঢাকা অফিস / ৪৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

করোনার মতো অর্থপাচার মহামারি রূপ নিয়েছে

করোনা ভাইরাস মহামারির মতো অর্থপাচারও মহামারি রূপ নিয়েছে। একসময় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা অর্থ পাচার না করে দেশেই বিনিয়োগের কথা ভাবতেন। শুধু রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ বিদেশে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে রাখতেন। কিন্তু এখন দেশের ভেতরে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও বিনিয়োগ সুরক্ষার অভাব আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরাও বিদেশে অর্থ পাচার করে বাড়ি বানাচ্ছেন, জমি কিনছেন, কারখানা গড়ছেন। ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানির আড়ালে; আমদানি পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে আর রফতানি পণ্যের দাম কম দেখিয়ে অর্থ পাচার করছেন। মধ্যম সারির কর্মকর্তা থেকে উচ্চপর্যায়ের আমলা, বেসরকারি চাকরিজীবীরাও নগদ অর্থ পাচার করছেন হুন্ডি করে, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তথ্য বলছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল এই সাত বছরে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি (৬১৪৪ ডলার) পাচার হয়ে গেছে। প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কোনো তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জিএফআই প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থপাচারের এমন ভয়াবহ তথ্য রয়েছে। কেবল অবৈধভাবে অর্থপাচার নয়, বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশেও ঢুকছে প্রতিবছর। তাদের হিসাবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অবৈধভাবে আসা অর্থের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৩৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত জিএফআই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অর্থপাচারের দিক থেকে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৬তম। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল অর্থপাচার হওয়ার এ পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা। অর্থপাচার প্রতিরোধে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে অর্থপাচারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও পাচার থামানো যাবে না। তথ্য বলছে, শুধু এক বছরের পাচার করা অর্থ দিয়েই তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। জিএফআই’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের হার আরও বেড়েছে। গত ৬ বছরে দেশের চার লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা (৪৯৬৫ কোটি ডলার) বিদেশে পাচার হয়েছে। এ হিসাবে গড়ে প্রতি বছর পাচার হচ্ছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৫ সালেই পাচার হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। জিএফআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২টি প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে আছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)। তবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৫ সালের তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। কারণ এ সময়ের পর জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কোনো তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ। এ বিষয়ে, জিএফআইর সিনিয়র ইকোনমিস্ট রিক রাউডেন জানান, অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত দিয়ে আসছিল। কিন্তু ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের কোনো তথ্য দেয়নি দেশটি। ফলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির ২০১৫, ২০১৭ সাল ও সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই সাত বছরে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা (৬১৪৪ ডলার) পাচার হয়ে গেছে (প্রতি ডলার ৮৮ টাকা হিসাবে)। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। পাচার হওয়া এই অর্থের পরিমান দেশের চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের প্রায় সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না হওয়ায় টাকা পাচার বেড়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতিও টাকা পাচারের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। অর্থপাচারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ব্যাপক হারে বেড়েছে অর্থ পাচারের পরিমান। যত বছর যাচ্ছে ততই রেকর্ড করছে অর্থপাচার। জিএফআই’র তথ্যে ২০১৫ সালেই পাচার হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি যা ডলারের হিসাবে ১১৫০ কোটি ডলার। এটাই দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্থপারের ঘটনা। এরপর ২০১৪ সালে ৯১৫ কোটি ডলার অর্থ বিদেশে পাচার হয় যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৮০ হাজার ৫২০ টাকা। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার সময় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে আগের যে কোন সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অর্থপাচার হয়েছে। ওই বছরটিতে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ অর্থ বাংলাদেশী মুদ্রায় ৮২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ পাচারের ঘটনা। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৬৭ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। ২০১০ সালে পাচার হয়েছে ৫৪১ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪৭ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে ৬১৩ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এটা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫৩ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। আর ২০০৮ সালে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এটা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬৩ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। এর আগের অন্যান্য বছরের মধ্যে ২০০৪ সালে ৩৩৫ কোটি ডলার, ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি ডলার, ২০০৬ সালে ৩৩৮ কোটি ডলার, ২০০৭ সালে ৪১০ কোটি ডলারের সমপরিমান অর্থ পাচার হয়। জিএফআই’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে সরকারের প্রথম ৬ বছরের তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ছয় বছরে বাংলাদেশ থেকে চার হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। প্রতি ডলার ৮৮ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় যা চার লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এই ছয় বছরে প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া অর্থ পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এর মধ্যে ২০১৫ সালেই পাচার হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। এ সময়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের ১৮ শতাংশই ছিল ভুয়া। তথ্য বছছে, শুধু এক বছরের পাচার করা অর্থ দিয়েই তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। জিএফআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২টি প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে আছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)। তবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৫ সালের তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। কারণ এ সময়ের পর জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কোনো তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ। জিএফআইর তথ্য মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ছয় বছরে বাংলাদেশ থেকে চার হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। প্রতি ডলার ৮৮ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় যা চার লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ পরিমাণ টাকা দেশের চলতি বছরের (২০২১-২০২২) জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান। প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। টাকা পাচারে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৩৪টি দেশের অর্থ পাচারের তথ্য উঠেছে। আলোচ্য সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে এক দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না হওয়ায় টাকা পাচার বেড়েছে। এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমছে। বিনিয়োগের পরিবেশ নেই, যে কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। অনেকেই এ দেশে টাকা রাখতে নিরাপদ মনে করেন না। ফলে টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, যন্ত্রপাতির মূল্য বেশি দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশ থেকে প্রতি বছর যে টাকা পাচার হয়, এটি তার আংশিক চিত্র। প্রতি বছরই অর্থ পাচার বাড়ছে। অর্থ পাচারের অনেক কারণ রয়েছে। এগুলো বন্ধের জন্য সরকারের সদিচ্ছার অভাব থাকতে পারে। যারা অর্থ পাচার করছে তারা আর্থিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিকভাবে অনেক প্রভাবশালী। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দুঃখজনক বিষয় হলো পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন-কানুন অনেক আধুনিক। এরপর কেন বাংলাদেশ এই সুবিধা নিয়ে টাকা ফিরিয়ে আনতে না পারাটা দু:খজনক। তারা বলছেন, এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলের পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন কেন পারা যাচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। হয়তো সরকার চাচ্ছে না, এসব তথ্য বাইরে প্রচার হোক। বাংলাদেশের সরকারি তথ্যে দেখা যায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যে দেখা গেল তারা বাংলাদেশ থেকে চার বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মানে হলো বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির তথ্য গোপন করেছে। ওই অর্থ পাচার হিসাবে ধরা হয়। যেহেতু সব দেশের বাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, সে কারণে রিপোর্ট প্রকাশ করতে জিএফআই’র দুুই বছর সময় লেগে যায়। এদিকে জিএফআইর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংস্থার রিপোর্টেই বাংলাদেশ থেকে ভয়াবহ আকারে টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে-সুইস ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজের পানামা, প্যারাডাইস এবং পেনডোরা পেপারস। বাংলাদেশ থেকে যেসব টাকা পাচার হয়, তার বড় অংশই যায় উন্নত ৩৬ দেশে। তবে দফায় দফায় রিপোর্ট প্রকাশ হলেও পাচার বন্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ।করোনার মতো অর্থপাচার মহামারি রূপ নিয়েছে
সাত বছরে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পাচার
ঢাকা অফিস : করোনা ভাইরাস মহামারির মতো অর্থপাচারও মহামারি রূপ নিয়েছে। একসময় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা অর্থ পাচার না করে দেশেই বিনিয়োগের কথা ভাবতেন। শুধু রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ বিদেশে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে রাখতেন। কিন্তু এখন দেশের ভেতরে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও বিনিয়োগ সুরক্ষার অভাব আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরাও বিদেশে অর্থ পাচার করে বাড়ি বানাচ্ছেন, জমি কিনছেন, কারখানা গড়ছেন। ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানির আড়ালে; আমদানি পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে আর রফতানি পণ্যের দাম কম দেখিয়ে অর্থ পাচার করছেন। মধ্যম সারির কর্মকর্তা থেকে উচ্চপর্যায়ের আমলা, বেসরকারি চাকরিজীবীরাও নগদ অর্থ পাচার করছেন হুন্ডি করে, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তথ্য বলছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল এই সাত বছরে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি (৬১৪৪ ডলার) পাচার হয়ে গেছে। প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কোনো তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জিএফআই প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থপাচারের এমন ভয়াবহ তথ্য রয়েছে। কেবল অবৈধভাবে অর্থপাচার নয়, বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশেও ঢুকছে প্রতিবছর। তাদের হিসাবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অবৈধভাবে আসা অর্থের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৩৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত জিএফআই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অর্থপাচারের দিক থেকে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৬তম। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল অর্থপাচার হওয়ার এ পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা। অর্থপাচার প্রতিরোধে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে অর্থপাচারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও পাচার থামানো যাবে না। তথ্য বলছে, শুধু এক বছরের পাচার করা অর্থ দিয়েই তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। জিএফআই’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের হার আরও বেড়েছে। গত ৬ বছরে দেশের চার লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা (৪৯৬৫ কোটি ডলার) বিদেশে পাচার হয়েছে। এ হিসাবে গড়ে প্রতি বছর পাচার হচ্ছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৫ সালেই পাচার হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। জিএফআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২টি প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে আছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)। তবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৫ সালের তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। কারণ এ সময়ের পর জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কোনো তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ। এ বিষয়ে, জিএফআইর সিনিয়র ইকোনমিস্ট রিক রাউডেন জানান, অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত দিয়ে আসছিল। কিন্তু ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের কোনো তথ্য দেয়নি দেশটি। ফলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির ২০১৫, ২০১৭ সাল ও সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই সাত বছরে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা (৬১৪৪ ডলার) পাচার হয়ে গেছে (প্রতি ডলার ৮৮ টাকা হিসাবে)। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। পাচার হওয়া এই অর্থের পরিমান দেশের চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের প্রায় সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না হওয়ায় টাকা পাচার বেড়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতিও টাকা পাচারের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। অর্থপাচারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ব্যাপক হারে বেড়েছে অর্থ পাচারের পরিমান। যত বছর যাচ্ছে ততই রেকর্ড করছে অর্থপাচার। জিএফআই’র তথ্যে ২০১৫ সালেই পাচার হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি যা ডলারের হিসাবে ১১৫০ কোটি ডলার। এটাই দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্থপারের ঘটনা। এরপর ২০১৪ সালে ৯১৫ কোটি ডলার অর্থ বিদেশে পাচার হয় যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৮০ হাজার ৫২০ টাকা। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার সময় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে আগের যে কোন সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অর্থপাচার হয়েছে। ওই বছরটিতে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ অর্থ বাংলাদেশী মুদ্রায় ৮২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ পাচারের ঘটনা। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৬৭ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। ২০১০ সালে পাচার হয়েছে ৫৪১ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪৭ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে ৬১৩ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এটা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫৩ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। আর ২০০৮ সালে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এটা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬৩ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। এর আগের অন্যান্য বছরের মধ্যে ২০০৪ সালে ৩৩৫ কোটি ডলার, ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি ডলার, ২০০৬ সালে ৩৩৮ কোটি ডলার, ২০০৭ সালে ৪১০ কোটি ডলারের সমপরিমান অর্থ পাচার হয়। জিএফআই’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে সরকারের প্রথম ৬ বছরের তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ছয় বছরে বাংলাদেশ থেকে চার হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। প্রতি ডলার ৮৮ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় যা চার লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এই ছয় বছরে প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া অর্থ পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এর মধ্যে ২০১৫ সালেই পাচার হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। এ সময়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের ১৮ শতাংশই ছিল ভুয়া। তথ্য বছছে, শুধু এক বছরের পাচার করা অর্থ দিয়েই তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। জিএফআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২টি প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে আছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং)। তবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। কিন্তু ২০১৫ সালের তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। কারণ এ সময়ের পর জাতিসংঘকে বৈদেশিক বাণিজ্যের কোনো তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ। জিএফআইর তথ্য মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ছয় বছরে বাংলাদেশ থেকে চার হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। প্রতি ডলার ৮৮ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় যা চার লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ পরিমাণ টাকা দেশের চলতি বছরের (২০২১-২০২২) জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান। প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। টাকা পাচারে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৩৪টি দেশের অর্থ পাচারের তথ্য উঠেছে। আলোচ্য সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে এক দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না হওয়ায় টাকা পাচার বেড়েছে। এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমছে। বিনিয়োগের পরিবেশ নেই, যে কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। অনেকেই এ দেশে টাকা রাখতে নিরাপদ মনে করেন না। ফলে টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, যন্ত্রপাতির মূল্য বেশি দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশ থেকে প্রতি বছর যে টাকা পাচার হয়, এটি তার আংশিক চিত্র। প্রতি বছরই অর্থ পাচার বাড়ছে। অর্থ পাচারের অনেক কারণ রয়েছে। এগুলো বন্ধের জন্য সরকারের সদিচ্ছার অভাব থাকতে পারে। যারা অর্থ পাচার করছে তারা আর্থিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিকভাবে অনেক প্রভাবশালী। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দুঃখজনক বিষয় হলো পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন-কানুন অনেক আধুনিক। এরপর কেন বাংলাদেশ এই সুবিধা নিয়ে টাকা ফিরিয়ে আনতে না পারাটা দু:খজনক। তারা বলছেন, এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলের পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন কেন পারা যাচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। হয়তো সরকার চাচ্ছে না, এসব তথ্য বাইরে প্রচার হোক। বাংলাদেশের সরকারি তথ্যে দেখা যায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যে দেখা গেল তারা বাংলাদেশ থেকে চার বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মানে হলো বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির তথ্য গোপন করেছে। ওই অর্থ পাচার হিসাবে ধরা হয়। যেহেতু সব দেশের বাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, সে কারণে রিপোর্ট প্রকাশ করতে জিএফআই’র দুুই বছর সময় লেগে যায়। এদিকে জিএফআইর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংস্থার রিপোর্টেই বাংলাদেশ থেকে ভয়াবহ আকারে টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে-সুইস ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজের পানামা, প্যারাডাইস এবং পেনডোরা পেপারস। বাংলাদেশ থেকে যেসব টাকা পাচার হয়, তার বড় অংশই যায় উন্নত ৩৬ দেশে। তবে দফায় দফায় রিপোর্ট প্রকাশ হলেও পাচার বন্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর