সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

নাব্য সংকটে দেশের ১৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে

ঢাকা অফিস / ৪৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

চার শতাধিক নদ-নদীতে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন পলি জমে

নদীগুলো জালের মতো বিছিয়ে আছে বাংলাদেশের হৃদয়জুড়ে। যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম আমাদের নৌপথ। কিন্তু নাব্য সংকট ভোগাচ্ছে দীর্ঘদিন। কমছে নৌপথ, বিঘœ ঘটছে নৌযান চলাচলে। শীতকালে নদীর পানি কমে গেলে সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। শীত মৌসুম আসতে না আসতেই এরইমধ্যে বিভিন্ন নৌরুটে দেখা দিয়েছে নাব্য সংকট। এছাড়াও ড্রেজিং করে মাটি ফেলার জায়গা পাওয়া যায় না। নদীর মাটি নদীতেই ফেলতে হয়। এতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ৪০ বছরে ১৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে। দূষণ-দখল ছাড়াও নিয়মিত নদী খনন না করাকে এ জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দায়সারা গোছের কাজ না করে সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে খনন তথা বৃহৎ বা গভীর খনন করতে হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৪শ’ কিলোমিটার নৌপথ নাব্য হারিয়ে নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ ২৮ নৌরুট। আরো তিনটি রুট বন্ধ হওয়ার পথে। সারাদেশের চার শতাধিক নদ-নদীতে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন পলি জমে মানচিত্র হারিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে গত ৪৪ বছরে প্রায় ১৩২ কোটি টন পলি জমেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, নদ-নদী সংরক্ষণ বিষয়ক টাক্সফোর্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নদীর প্রবাহ ফেরাতে ৮ লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ২০০টি ড্রেজার প্রয়োজন বলেও জানায় তারা। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ১৯৬২-৬৭ পর্যন্ত নেডকোর সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে নদীপথের মোট দৈর্ঘ ছিল ২৪, ১৪০ কিলোমিটার। ১৯৮৭-৮৮ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বর্ষাকালে বাংলাদেশে নদীপথের দৈর্ঘ মাত্র ৬০০০ কিলোমিটার এবং শুষ্ক মৌসুমে ৩৮২৪ কিলোমিটার। ১৯৮৭-৮৮ সনে ডাচ ডিএইচভির করা নৗপথ জরিপের পর প্রায় ২৮ বছর প্রয়োজনীয় অর্থাভাবে নৌপথের জরিপ হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। বিভাগের ছয়টি জেলা ও ৪১টি উপজেলার কয়েক কোটি মানুষকে যাতায়াত করতে হয় নৌপথে। নৌ রুট রয়েছে ৮৮টি। এরমধ্যে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে ২৮টি রুটে লঞ্চ চলাচল করতে পারে না। ৪৩টি রুটে দোতলা লঞ্চ চলাচল করে। বাকি অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে চলাচল করে এমএল টাইপের লঞ্চ। বিআইডব্লিউটিএ’র হিসেবে প্রতিদিন গড়ে লক্ষাধিক লোক এসব রুটে যাতায়াত করে। প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে ১৪শ’ কিলোমিটার নৌ-পথই থাকে চলাচলের অনুপযোগী। নাব্য সংকটের কারণে এবারো পাঁচটি নদীর প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় নৌ চলাচল বলতে গেলে এক প্রকার বন্ধই হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে এখন মোট নৌপথ প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার। তবে শুষ্ক মৌসুমে তা আরও কমে যায়। সচল রাখা ও বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌপথ ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংই একমাত্র উপায়। কিন্তু প্রতিবছর চাহিদার অর্ধেক নদীও ড্রেজিং করতে পারে না সরকার। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৮৮টি নৌপথে এবার নাব্য-সংকট দেখা দিয়েছে। শীত মৌসুমে পানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য ডুবোচরের কারণে এসব নৌপথ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর মধ্যে ৫৭টি নৌপথে ঝুঁকি নিয়ে দোতলা লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করছে। বাকি ২৭টি নৌপথ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নদী খননের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, বছরে দেশে ড্রেজিংয়ের চাহিদা পাঁচ কোটি ঘনমিটারের মতো। উন্নয়ন (ডেভেলপমেন্ট) ও সংরক্ষণ (মেইটেন্যান্স) খননের আওতায় বিআইডব্লিউটিএ দুই থেকে আড়াই কোটি ঘনফুট ড্রেজিং করে। কর্মকর্তারা জানান, ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে বাজেট কম। তাই গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ও ফেরি রুটগুলো সচল রাখার দিকেই নজর বেশি থাকে বি আইডব্লিউটিএ’র। চলতি শীত মৌসুম সামনে রেখে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে বাজেট স্বল্পতা ছাড়াও বিআইডব্লিউটিএকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ড্রেজিং করে মাটি ফেলার জায়গা পাওয়া যায় না। নদীর মাটি নদীতেই ফেলতে হয়। এতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা জানান, নাব্য সংকটের কারণে লঞ্চ চলাচলে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন লঞ্চ মালিকরা। বিআইডব্লিউটিএ’র তথ্যানুযায়ী, গত ৪০ বছরে ১৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে। বিআইডব্লিউটিএ বর্তমানে ৪৫টি ড্রেজার ও বেসরকারিভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে ড্রেজিং করে। নদী খননের সক্ষমতা বাড়াতে আরও ৩৫টি ড্রেজার কেনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এদিকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদী থেকে ঝালকাঠির সুগন্ধা হয়ে বিষখালী নদী পাড়ি দিয়ে নৌযানে চলাচল করতে হয় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের। কিন্তু সিগন্যাল বাতি না থাকায় বিষখালী নদীতে ডুবোচরে একের পর এক আটকা পড়ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। এতে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, নাব্য সংকটের কারণে নৌ-চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, তা নয়। সমস্যায় পড়তে হয়। এখন সারাদেশে ৭৮০টি জলযান চলাচল করে। এরা আমাদের রুট পারমিট নিয়ে চলছে। সারাদেশে মোট ১৪৫টির মতো রুট আছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুটগুলোতে বেশি নজর রাখতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এসব রুটকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। পুরোটা তো ড্রেজিং করা যায় না। সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। এখন পর্যন্ত ৫-৬টি রুটের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। সেখানে নাব্য সমস্যা হচ্ছে। জোয়ার ধরে চলতে হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার নেতা বদিউজ্জামান বাদল গণমাধ্যমকে বলেন, ইতোমধ্যে ৩০ নৌরুটে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেটা উপেক্ষা করেই আমরা লঞ্চ চালাচ্ছি। বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির নেতা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, নাব্য সংকট প্রতি বছরের সমস্যা। তবে কোনো স্থানে নাব্য সংকট দেখা দিলে আমাদের লঞ্চে বড় বড় ইঞ্জিন চলায় নতুন করে চ্যানেল তৈরি হয়। সরকারও ড্রেজিং করে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় দুটি মন্ত্রণালয় কাজ করলেও ড্রেজার সঙ্কটে সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৫টি ড্রেজার থাকলেও বেশিরভাগই বিকল হয়ে আছে। আর নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০টি ড্রেজারের মধ্যে ২টির অবস্থা খারাপ। তবে প্রতিষ্ঠান ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলছে। সূত্র জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে নৌযান ও ফেরি চলাচল উপযোগী রাখতে বছরে অন্তত এককোটি ঘনমিটার পলি খনন করা জরুরি। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দশটি খননযন্ত্র দিয়ে ৫০ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে পারে। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে আনতে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। নদীভিত্তিক নৌপথ সমৃদ্ধ হচ্ছে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মোহনগঞ্জ হতে নালিতাবাড়ি পর্যন্ত ১৫৫ কিলোমিটার নৌপথে এক কোটি ঘনমিটার মাটি খনন করা হবে। এজন্য ব্যয় হবে ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এই খনন কাজ চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২১ এর জুন পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলায় নৌ-রুট রয়েছে ৮৮টি। এরমধ্যে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে ২৮টি রুটে কোন ধরনের লঞ্চ চলাচল করতে পারে না। ৪৩টি রুটে দ্বিতল লঞ্চ চলাচল করে। বাকী ১৭টি রুটে চলাচল করে ৬৫ ফুটের নীচের দৈর্ঘ্যরে একতলা (এমএল টাইপ) লঞ্চ। বি আইডব্লিউটিএর হিসেবে প্রতিদিন গড়ে লক্ষাধিক লোক এসব রুটে যাতায়াত করলেও প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে ১৪শ কিলোমিটার নৌপথই থাকে অচল। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল নৌ-বন্দর সহ একাধিক রুটে নাব্যতা টিকিয়ে রাখতে ধারাবাহিকভাবে এবারেও চলছে ড্রেজিং কার্যক্রম। প্রথম শ্রেণির নৌপথের জন্য কমপক্ষে ৯-১২ ফুট এবং ২য় শ্রেণির নৌপথের জন্য ৭-৯ ফুট পানি প্রয়োজন। কিন্তু গত ডিসেম্বরের শুরু থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের নদ নদীতে পানি কমতে থাকে। এর ফলে কীর্তনখোলা, লোহালিয়া, বিষখালী, পায়রা, নিশিন্দা, ইলিশা, কালাবদর তেতুঁলিয়া, গণেষপুরা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, আড়িয়াল খাঁ, ঝুনাহার, ধানসিঁড়ি ও পালরদী নদীর পানি কমে গেছে। এসব নদীতে জেগে উঠেছে চর। বরিশাল-ঢাকা রুটের ভাষাণচর, কালীগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জের কয়েকটি চ্যানেলের অবস্থাও খুব নাজুক। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বরিশাল-ভোলা নৌরুট। এ রুটের সাহেবেরহাট ও লাহারহাট পয়েন্টে নাব্যতা কমে যাওয়ায় দুধল, দাঁড়িয়াল, বাকেরগঞ্জ, চরামদ্দি, বলাইকাঠী, চন্দ্রমোহন, বুখাইনগর, রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হতে চলেছে। বাউফল ও ভোলার লালমোহনসহ কয়েকটি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। ঢাকা-বরিশাল রুট কিংবা বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটের চলাচলকারী নৌযানগুলোর জন্য কোন বিকল্প চ্যানেল নেই। এ সকল রুটের কোন কোন স্থানে ৩/৪ ফুট পানিও নেই। ফলে এসব রুটের বড় নৌ যানকে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার নেতা আলমগীর কবির দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, নদীতে পলি জমে নাব্য-সংকট সৃষ্টি হয় মূলত প্রাকৃতিক কারণে। আর শুষ্ক মৌসুমে নৌপথে চর ও ডুবোচর জেগে ওঠা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিয়মিত খনন না করার কারণে বাংলাদেশে শত শত নদ-নদী ও সেগুলোর নৌপথের নাব্য-সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। খনন করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো সচল রাখার একটা চেষ্টা থাকে বটে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা সীমিত পরিসরেই দেখা যায়। এটা মোটেই কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, নদীমাতৃক দেশ হয়েও সব সময় নিজেদের নৌপথ নির্বিঘœ রাখতে না পারা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। যে করেই হোক নৌপথগুলোকে সচল রাখতে হবে। কেন না, কম খরচে, নিরাপদ ও সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য নৌপথের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষত, পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য নৌপথ বিশ্বজুড়েই আদর্শ মাধ্যম। কিন্তু অবহেলা, অনিয়ম ও অদুরদর্শিতার কারণে আমাদের নদ-নদী ও নৌপথগুলোকে সেভাবে কাজে লাগানো যায়নি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর