মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল শাবি : বাসভবন ঘেরাও নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে মার্কিন দূত-মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের জবাবদিহিতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কুষ্টিয়ায় নিখোজ যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ৯ পুলিশ কর্মকর্তার রদবদল সন্ত্রাসবাদকে না বলুন এই স্লোগানে কুষ্টিয়ায় উগ্রবাদ প্রতিরোধে পুলিশের মতবিনিময় সভা অক্সফামের রিপোর্ট : করোনায় শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে, মরছে গরিব, বাড়ছে বৈষম্য কুষ্টিয়ার মিরপুরে অবাধে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি সরকারি চিনিকলে বিক্রির তিনগুণ লোকসান কুষ্টিয়ায় গত চার মাস পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু চলতি অধিবেশনেই পাস হচ্ছে নির্বাচন কমিশন আইন

সরবরাহ সংকটে সারের দাম দ্বিগুণ

ঢাকা অফিস / ৭০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৯ অপরাহ্ন

চাহিদামতো ট্রাক দিচ্ছে না বিআরটিসি

টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট) সার পরিবহণে পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাক দিতে পারছে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি)। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এ দুধরনের সার মিল রেটের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি এ ব্যয়ের কারণে কৃষক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিলারদের পরিবর্তে বিআরটিসির মাধ্যমে সার পরিবহণের নিয়ম চালু করার পর থেকে সার পরিবহণ ও সরবরাহে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের ডিলারদের পক্ষে ৩৮ জন বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট দাখিল করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো নিয়মে অর্থাৎ ডিলারদের মাধ্যমে সার পরিবহণের নির্দেশনা দেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। ঠিকাদারদের মাধ্যমে সার পরিবহণের নির্দেশনা সংবলিত প্রজ্ঞাপন ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। অভিযোগ উঠেছে, টিএসপি ও ডিএপি সার কারখানা কর্তৃপক্ষ আগের নিয়মেই সার পরিবহণ অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে পরিবহণ সংকট ও দামে নৈরাজ্য থামছে না। জানা যায়, চট্টগ্রামে অবস্থিত টিএসপি কমপ্লেক্স দৈনিক ৪০০ টন টিএসপি সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে ডিএপি কারখানাও প্রায় ৫০০ টন সার উৎপাদন করছে। এই দুই ধরনের সার দেশের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বেশি ব্যবহৃত হয়। চট্টগ্রামের কারখানা থেকে বিআরটিসির ট্রাকে বিসিআইসি এসব সার আপৎকালীন মজুতের জন্য সরকারি বাফার গুদামে পাঠায়। সেখান থেকে ডিলাররা তা তুলে প্রান্তিক কৃষকের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু দুই কারখানা প্রতিদিন যে পরিমাণ সার উৎপাদন করছে সে পরিমাণ সার সরবরাহ করতে পারছে না। এই দুই কারখানার সার পরিবহণে চুক্তি রয়েছে আরেক সরকারি সংস্থা বিআরটিসির সঙ্গে। কিন্তু প্রতিদিন সার পরিবহণে যে সংখ্যক ট্রাক প্রয়োজন হয় সে সংখ্যক ট্রাক দিতে পারছে না বিআরটিসি। সূত্র জানায়, টিএসপি কমপ্লেক্স সার পরিবহণে প্রতিদিন অন্তত ৩০টি ট্রাকের চাহিদাপত্র দেয়। কিন্তু বিআরটিসি ট্রাক দিচ্ছে গড়ে ২০টি। একইভাবে ৩০-৩৫টি ট্রাকের চাহিদার বিপরীতে ডিএপি সার কারখানাকেও বিআরটিসি ট্রাক সরবরাহ দিচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০টি। অর্থাৎ দুই কারখানা কর্তৃপক্ষ উৎপাদিত সারের দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করছে। বাকি সার হয়েতো মজুত থেকে যাচ্ছে কারখানায়। নয়তো উৎপাদন কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এ পরিবহণ ও সরবরাহ সংকটের কারণে কৃষক পর্যায়ে যেতে সারের দাম দ্বিগুণ বা এর বেশি বেড়েছে বস্তা প্রতি। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ডিএপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ৭০০ টাকা। টিএসপি সারের নির্ধারিত মূল্য ১০০০ টাকা। পরিবহণ খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কৃষক পর্যায়ে এ দুই ধরনের সার প্রতিবস্তা সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা থেকে ১১শ-১২শ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ ৭০০ টাকার ডিএপি সার কৃষককে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। ১ হাজার টাকার টিএসপি সার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। বিআরটিসি থেকে চাহিদামতো ট্রাক সরবরাহ না পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন টিএসপি কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে দৈনিক সার উত্তোলনের চাহিদা আসে ৬০০ টনের। কিন্তু আমরা উৎপাদন করি ৪০০ টনের মতো। এই সার পরিবহণে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০টি ট্রাক দরকার। কিন্তু বিআরটিসি আমাদের ট্রাক সরবরাহ করে গড়ে ২০টি। এতে ৩০০ টন সার পরিবহণ করা যায়। ট্রাক সংকটের কারণে উৎপাদিত সব সার সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।’ তিনি বলেন, ‘এ সংকট লাঘবে বেসরকারি পর্যায়ে পরিবহণ ঠিকাদার নিয়োগের জন্য তারা টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। শিগগিরই সংকট কেটে যাবে।’ ডিলারদের করা মামলায় উচ্চ আদালত তাদের মাধ্যমে সার পরিবহণের যে নির্দেশনা প্রদান করেছেন সে নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে আমরা রিট দাখিলকারী ৩৮ ডিলারকে সার পরিবহণের জন্য চিঠি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।’ সার পরিবহণে চাহিদামতো ট্রাক সরবরাহ দিতে পারছে না বিআরটিসি এ কথা স্বীকার করেছেন, ডিএপি কারখানার মহাব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিআরটিসি আমাদের চাহিদামতো ট্রাক দিতে পারছে না। যে কারণে উৎপাদিত সব সার দিনে দিনে গন্তব্যে বা বাফার গুদামে পাঠানো যাচ্ছে না।’ বিআরটিসি চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মফিজ উদ্দিন অবশ্য টিএসপি ও ডিএপি সার কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাফার গুদামে সার পরিবহণে বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) থেকে টিএসপি ও ডিএপি সার কারখানার জন্য যখন যে সংখ্যক ট্রাকের চাহিদা দেওয়া হয় তখন সে সংখ্যক ট্রাক আমরা প্রোভাইড করি। ফেরিতে কোনো সমস্যা হলে, বাফার গুদামে লোড-আনলোডে কোনো সমস্যা হলে, রাস্তাঘাটে চলাচলের কারণে যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি হলে শুধু তখনই মাঝে-মধ্যে চাহিদামতো ট্রাক সরবরাহ দেওয়া যায় না। সেটা কারখানা কর্তৃপক্ষও ভালো করে জানে। প্রতিদিন চাহিদামতো ট্রাক সরবরাহ না দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অভিযোগ করেছে, মূলত ডিলারদের মাধ্যমে সার পরিবহণের যে নিয়ম ছিল তা বদলে ফেলার পর থেকে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে দেশে নৈরাজ্য শুরু হয়। প্রান্তিক কৃষক গুণগত মানসম্পন্ন ও চাহিদামতো সার পাচ্ছে না। একই সার একবার বাফার গুদামে আবার ডিলার পর্যায়ে নেওয়ার জন্য দুবার পরিবহণে ব্যয় যেমন করতে হচ্ছে; তেমনি সারের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। মূলত এ কারণে দেশে সারের সাড়ে ৫ হাজার ডিলারের পক্ষে আগের নিয়মে অর্থাৎ ডিলারদের মাধ্যমে সার পরিবহণ ব্যবস্থা চালু করার জন্য উচ্চ আদালতে রিট করেন ৩৮ ডিলার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর