শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

সর্বাধিক কর্মজীবী নারী রংপুরে সবনিম্নে বরিশাল ও ময়মনসিংহ

ঢাকা অফিস / ৩৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারী রংপুরে। অন্য দিকে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা কম বরিশাল ও ময়মনসিংহে। এ হার যথাক্রমে ৩৬ শতাংশ এবং ৮ শতাংশ। ২০২১ সালের জিডিপির তথ্য বিবেচনা করলে কেবল ১০ শতাংশ নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে যোগ করতে পারত বাড়তি ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্বের ওপর সানেম এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূমিকার ওপর গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ও সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিন। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সামগ্রিক দৃশ্যমান মূল্যায়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জিডিপির মধ্যে সম্পর্কের পরিমাপের লক্ষ্যে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সাতক্ষীরা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সুনামগঞ্জের ৮৫০টি খানায় ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল। জরিপে প্রকল্পের সুবিধাভোগী এবং সুবিধা ভোগ করেন না এরকম পরিবারের মধ্যে তুলনা করে দেখা গেছে যে, ১৫-৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের ৮১.৯ শতাংশ উপার্জন করলেও মাত্র ৩৪.৪ শতাংশ মহিলা একই কাজ করে। এ ছাড়াও উপার্জনকারী, সুবিধাভোগী এবং সুবিধা ভোগ করেন না এরকম নারীর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪.০১ শতাংশ এবং ৩৪.৮৪ শতাংশ। বাংলাদেশে মজুরি কর্মসংস্থানের আওতায় ৪২.৬ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে রয়েছেন ৩১.২ শতাংশ নারী, আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ৫২.৫ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে ৩৯.২ শতাংশ নারী। অবৈতনিক শ্রমের দিক থেকে নারী-পুরুষের মধ্যে রয়েছে বিরাট ব্যবধান। কেবল ৪.২ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে দেশের প্রায় ২৯.১ শতাংশ নারী অবৈতনিক শ্রমের আওতাধীন। অন্য দিকে এলাকাভিত্তিক কর্মজীবী নারীদের হিসাবে রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ নারী কাজ করেন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ নারী কাজ করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে কর্মজীবী নারীদের ২২.৯৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গ্রহণকারী, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ২০ শতাংশ নারী, যারা কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি। পেশাগত দিক থেকে নারীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ দেখা যায় কৃষি, মৎস্য ও বনজ খাতে ৫৩.৮ শতাংশ, প্রাথমিক পেশায় আছেন ৪০.৬ শতাংশ নারী এবং ম্যানেজার পর্যায়ে সর্বনিম্ন কেবল ১১.৩ শতাংশ নারী কর্মরত আছেন। পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শহরে নারীপ্রধান পরিবার রয়েছে ১২.১২ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১০.৩২ শতাংশ। প্রায় ১০.৯৪ শতাংশ পরিবারে নারী মূল সিদ্ধান্তকারী, স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির সাথে সিদ্ধান্ত নেয়ায় থাকেন ৩৯.৩১ শতাংশ নারী, ২০.৩ শতাংশ পরিবারে নারী কোনো সিদ্ধান্ত দেন না এবং ২৮.১৮ শতাংশ পরিবারে সব সদস্যের গ্রহণের সুযোগ আছে। জরিপে প্রায় ৬৪.১ শতাংশ প্রকল্পের সদস্য নারীর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ধারণা রয়েছে। অন্য দিকে প্রকল্পের সদস্য নয় এরকম নারীদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ধারণা রাখেন। সব মিলিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে এরকম ৪২.৫ শতাংশ সুবিধাভোগী নারীর বিপরীতে ২৮.৪ শতাংশ প্রকল্পের সুবিধা পান না এরকম নারী রয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিয়ে, বিনিয়োগ ও ঋণ গ্রহণ, মূল্যবান সম্পদ কেনা প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রকল্পের সদস্য নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বেশি। গবাদিপশু ও কৃষিভিত্তিক সম্পদের মালিকানার ক্ষেত্রেও প্রকল্পের সদস্য নারীদের সংখ্যা বেশি। স্কুলে ভর্তির হারের দিক থেকেও প্রকল্পের সদস্য পরিবারগুলো এগিয়ে আছে। ৯৬.৮ শতাংশ সদস্য পরিবারের বিপরীতে ৯৩.০ শতাংশ সদস্য নয় এমন পরিবারের শিশুরা স্কুলে ভর্তি হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য গড় মাসিক খরচের দিকে থেকেও সদস্য পরিবারগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য ভালো অবস্থান লক্ষ করা যায়। তবে খুবই উদ্বেগজনক বিষয় এই যে, নারীর প্রতি সহিংসতার দিক থেকে সদস্য পরিবারগুলোর অবস্থা প্রায় সব ধরনের সহিংসতার ক্ষেত্রেই খারাপ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই অতি দরিদ্র হওয়ায় সহিংসতার এই চিত্রটি খুবই উদ্বেগজনক অবস্থার ইঙ্গিত করে। সামগ্রিকভাবে জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, নারীর ক্ষমতায়নে দিক থেকে প্রকল্পের সদস্যদের (৪৭.৯) অবস্থান যারা সদস্য নন (৪২.৬১) তাদের থেকে ভালো। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রকল্পগুলোর দ্বারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন ঢাকা বিভাগের সদস্যরা এবং সবচেয়ে কম পাচ্ছেন বরিশাল বিভাগের সদস্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ পরিচালক চন্দন গোমেজ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেনÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। উপস্থাপনায় নারীর কর্মসংস্থান কিভাবে জিডিপিতে প্রভাব ফেলে সেই বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সানেমের পক্ষ থেকে বলা হয়, নারী কর্মসংস্থানে এক শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকরভাবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি করতে পারে ০.৩১ শতাংশ। ২০২১ সালের জিডিপির তথ্য বিবেচনা করলে কেবল ১০ শতাংশ নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে যোগ করতে পারত বাড়তি ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। যদিও স্বল্প সময়কালে জিডিপি ও নারী বা পুরুষের কর্মসংস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর