শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

অপারেশন জ্যাকপট পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক

ঢাকা অফিস / ৪৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন- ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিতর্ক হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে ওই অপারেশন অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা এ নিয়ে বিতর্কে অবতীর্ণ হন মন্ত্রী, সংসদীয় কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্য ও সচিব। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপারেশন জ্যাকপট নিয়ে এ বিতর্কের ঘটনা ঘটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। কমিটির ১৯তম বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। অপারেশন জ্যাকপট বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন। এটি ছিল একটি আত্মঘাতী অপারেশন। এ অপারেশন ১৯৭১-এর ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরে চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে একই সময়ে পরিচালিত হয়। ১০নং সেক্টরের অধীনে ট্রেনিংপ্রাপ্ত নৌ কমান্ডো যোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার নিদর্শন এই অপারেশন জ্যাকপট। এই গেরিলা অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেকগুলো অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বড় রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংসদীয় কমিটির ১৮তম বৈঠকে সুপারিশ করে বলা হয়- মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোর দুর্র্ধষ কমান্ডো অপারেশন জ্যাকপট অধ্যায়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ রকম আরও ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানের ঘটনা পাঠ্যসূচিভুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। কমিটির বৈঠকে এর বিরোধিতা করেন চাঁদপুর-৫ আসনের এমপি মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। তিনি বলেন, এগুলো মিলিটারি অপারেশন। পৃথিবীর কোনো দেশে আজ পর্যন্ত নরমাল একাডেমি কারিকুলামে এসব অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এগুলো সামরিক বাহিনীর কাজ। তারা স্টাফ কলেজ ও টেকনিক্যাল কলেজে পড়াতে পারে। তিনি কমিটি থেকে এ ধরনের সুপারিশ না দেয়ার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে খণ্ডের দলিল আছে সেখানে জ্যাকপট আছে। এর বাইরে অনেকেই বই লিখেছেন। কমান্ডোগণ লিখেছেন। এখন পাঠ্যপুস্তকে কোনটা অন্তর্ভুক্ত হবে? ছেলে-মেয়েরা কোনটা পড়বে? তারা কি এগুলো পড়বে না তাদের ক্যারিয়ার গড়বে। তিনি বলেন, অপারেশন জ্যাকপট সম্পর্কে বিভিন্ন বইয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই বর্তমানে এগুলো পাঠ্যপুস্তকে ঢুকানোর কোনো কারণ নেই। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো পুরো ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নিরপেক্ষভাবে সামগ্রিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি সেক্টরে মূল যুদ্ধগুলোর নাম দিয়ে সংক্ষেপে ১০টা সেক্টরের যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধগুলোকে ১০টি ভাগে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মোসলেম উদ্দীন আহমদ। বৈঠকে তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে যদি আসতে হয় তাহলে টোটাল মুক্তিযুদ্ধের উপর ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ যুদ্ধটাই কিন্তু ছিল গেরিলা যুদ্ধ। সম্মুখ যুদ্ধও হয়েছে। তবে বেশির ভাগ যারা জীবন বিপন্ন করে দেশের ভিতর থেকে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে, তাদের এরূপ বিষয়ে অনেক বীরত্বপূর্ণ কাহিনী আছে। যা মিডিয়ার কারণে কিছু কিছু এলেও সবগুলো আসছে না। তাই তিনি খণ্ডিত আকারে বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তকে না এনে সামগ্রিকভাবে আনার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো ধর্মযুদ্ধ ছিল না এটা একটা জনযুদ্ধ ছিল। সর্বস্তরের মানুষ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্যকে তাদের বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব দেয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত তৎকালীন সরকার এটার প্রতি মনোযোগ দেয়নি। যারা গেরিলা যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে তাদের মধ্যে বেসামরিক লোকদেরকে কোনো রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়া হয়নি। এ ধরনের বেসামরিক বীরত্বপূর্ণ দুর্র্ধষ যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়া যায় কি না সে বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। এদিকে পাঠ্যপুস্তকে যুদ্ধের বিস্তারিত না রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন কমিটির অপর সদস্য ঢাকা-৬ আসনের এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ। বৈঠকে তিনি বলেন, আমাদের পাঠ্যপুস্তকে যুদ্ধের বিস্তারিত না দিয়ে বা যুদ্ধের কৌশল না বুঝিয়ে শুধু কোথায় কোথায় কতগুলো যুদ্ধ হয়েছিল সেগুলো পাঠ্যপুস্তকে থাকলে ছেলেমেয়েরা জানতে পারবে যুদ্ধগুলো কীভাবে হয়েছিল। যুদ্ধটা জনযুদ্ধ হলেও এর নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তার নেতৃত্বে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সেখানে ইপিআর, পুলিশ, ছাত্র-জনতা সবাই অংশগ্রহণ করেছে। এগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে পাঠ্যপুস্তকে দেয়া যায় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। ওদিকে অপারেশন জ্যাকপটের মতো গেরিলা অপারেশনগুলো পাঠ্যপুস্তকে রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সচিব খাজা মিয়া। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাথা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ যে সকল দৃষ্টান্তমূলক বা জাতিকে অনুপ্রাণিত করার মতো যুদ্ধ করেছে সেগুলো জাতি যেন অবহিত হতে পারে। নৌ-কমান্ডো যদিও একটা গুরুত্বপূর্ণ তার সাথে নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, পদাতিক বাহিনী, গেরিলা বাহিনীর ঘটনাগুলো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কতগুলো যুদ্ধ আছে যা সর্বজনবিদিত, বীরত্বগাথা বা ঘটনাগুলো যাতে শিক্ষার্থীগণ জানতে পারে সে লক্ষ্যেই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার বিষয়ে বলেন- তিনি মন্ত্রী হিসেবে যোগদানের পর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বহুবার পত্রালাপ করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করে বিসিএস পরীক্ষায় ২৩ বছরের মুক্তি সংগ্রাম-এর জন্য ৫০ নম্বর, ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের উপর ৫০ নম্বর রাখার অনুরোধ করেছেন। তাছাড়া পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কীভাবে মানুষ হত্যা করেছে এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শাম্?স কীভাবে লুটপাট করেছে, মানুষের বাড়ি পুড়িয়েছে এগুলো পড়াতে এবং জানাতে হবে বলে তিনি অভিমত জানান। এরপরই বক্তব্য দিতে গিয়ে সচিব খাজা মিয়া বৈঠকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন নামে একটি অনুষ্ঠান ৭ই জুন থেকে টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে। এই ‘প্রতিদিন’-এ অনুপ্রাণিত করার মতো এবং যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করার মতো ঘটনাগুলো দেখানো হয়। এর মধ্যে জ্যাকপটও আছে বলে তিনি কমিটিকে জানান। তিনি বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর বহু ছবি নির্মাণ হয়েছে। তাই জ্যাকপটও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এসব বিতর্কের পর সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বৈঠকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি সাধারণ ও রাজনৈতিক যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক চেতনা ও সামরিক চেতনা এক নয়। সেখানে একটি আদর্শের ভিত্তিতে আমরা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলাম। সামরিকযুদ্ধ নিয়ে বহু দেশে বই লেখা হয়েছে। বাংলাদেশেও কিছু সামরিক বাহিনীর সদস্য যেমন সদস্যের মতো কিছু লোক যারা বিভিন্ন কাজে ও পরিকল্পনায় সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। অপারেশনগুলো করেছেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আমাদের দেশের কৃষক-শ্রমিকের সন্তানেরা। বাঙালি নৌ-কমান্ডোদের অপারেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, এত বড় একটা যুদ্ধ তা আমরা সকলে জানি না কীভাবে যুদ্ধ হলো। ৫০ বছর কেন ১০০ বছর পরও ইতিহাস জানতে হলে পড়াতে হবে। বাঙালি জাতি জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে সম্পদ হারিয়ে, ইজ্জত দিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। সে ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানানোর জন্য এই পরিকল্পনা বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর। এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা যায়নি। বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাত্র ১টি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, কল্যাণ ট্রাস্টের আইনেও এটা যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। তিনি বলেন, শুধু এই যুদ্ধ নয় অন্যান্য যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনা সংক্ষিপ্ত আকারে পাঠ্যপুস্তকে থাকা দরকার। অপারেশন জ্যাকপটের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলো এবং মেজর রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম যে কথা বললেন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সিদ্ধান্তটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল তার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সকল নৌ চলাচল, বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ১০নং সেক্টর বা নৌ সেক্টর। এ সেক্টরের কোনো নির্দিষ্ট সেক্টর কমান্ডার ছিল না। যখন যে সেক্টরে অপারেশন চলতো তখন সেই সেক্টরের কমান্ডারদের সহযোগিতায় নৌ- গেরিলাদের কাজ করতে হতো। তারা সরাসরি মুজিবনগর হেডকোয়ার্টারের অধীনে কাজ করতেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর