শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১০:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

স্বাস্থ্যবিধি লাপাত্তা সর্বত্র

ঢাকা অফিস / ৬৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১০:২২ অপরাহ্ন

তদারকি অনুপস্থিত

করোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের দ্বিতীয় দিনে প্রায় সবখানেই স্বাস্থ্যবিধি ছিল লাপাত্তা। মানুষের বেপরোয়া চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একরকম নিষ্ক্রিয়তার কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণপরিবহণ, দোকানপাট, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, কাঁচাবাজার, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চ ও ফেরিঘাট এবং রেলস্টেশনে ছিল না যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব। অনেক যাত্রীর মুখে মাস্ক থাকলেও বেশিরভাগ বাস ড্রাইভার-হেলপারের মুখে সেটি ছিল অনুপস্থিত। বেশিরভাগ স্থানেই ছিল না হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। সড়ক-মহাসড়কে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করেছে। চাহিদার চেয়ে কম চলাচল করেছে বাস। যেসব বাস চলাচল করেছে সেগুলোতে নির্দেশনা উপেক্ষা করে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহন করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ইউজিসি (ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন) অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণের বর্তমান অবস্থায় সবকিছু খুলে দেওয়ায় ঝুঁকি থেকে গেছে। এখন জনগণকে সচেতন হতে হবে। অতি জরুরি হচ্ছে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা। এটা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে জরিমানা করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে করোনা সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সে জন্য এ বিষয়ে প্রশাসনকে খুবই কঠোর হতে হবে। রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়ায় জীবন ও জীবিকার তাগিদে সরকারকে অনেক কিছু করতে হচ্ছে। দেশের বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি বিপদ সীমার উপরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিপদ সীমানার নিচে না আসা পর্যন্ত সতর্কতার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে যে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে রোগী শনাক্ত করে আইসোলেশন নিশ্চিত করণ এবং টেলিমেডিসিন সেবা কার্যকর করতে হবে। তাহলে সংক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও টিকা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। বৃহস্পতিবার ছিল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাসার বাইরে বের হতে দেখা গেছে। প্রধান সড়ক, অলিগলি সব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মব্যস্ততায় বাইরে বের হওয়া মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচল করতে দেখা গেছে। কারও মুখে মাস্ক আছে, কারও মুখে নেই। সামাজিক দূরত্ব ও পরিবহণে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও কোথাও এর দেখা মেলেনি। বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহণ করা হয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন খালি রেখে চালু করার কথা থাকলেও সেটা মানা হচ্ছে না। একই চিত্র জনসমাগম স্থান, সড়ক, অফিসসহ সর্বত্র জটলা করে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও অন্যান্য জনসমাগম স্থানেও ব্যাপকসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। আরও দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর মহাখালী, ফার্মগেট, বাংলামোটর, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মিরপুর, কাকরাইল, পল্টন, মতিঝিল, গুলশান, বনানী, উত্তরা, কুড়িল, বাড্ডাসহ বেশিরভাগ এলাকার সড়কে যানজট। ফুটপাত, সড়ক ও দোকানপাট, বাজারে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। হাতিরঝিল, গুলশান লেকপাড়, নতুন বাজার, আফতাব নগর, গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকার পার্ক ও খেলার মাঠে যুবক-যুবতীদের গায়ে গায়ে লেগে চলাচল করতে দেখা গেছে। এসব স্পটে চলাচল ও অবস্থানকারীদের বেশিরভাগের মুখে মাস্ক ছিল না। হাতিরঝিলে কথা হয় শিমুল ও আলামিন নামের দুই যুবকের সঙ্গে। তারা মাস্ক ছাড়া হাতিরঝিলের লেকপাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। করোনা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বলেন, তাদের দুজনের কাছে মাস্ক আছে। আসার সময় তারা মাস্ক পরে এসেছেন। যাওয়ার সময়ও মাস্ক পরে যাবেন। অনেক দিন পর দুজনের সঙ্গে দেখা হলো- এজন্য আড্ডার সময় তারা মাস্ক খুলে রেখেছেন। ঢাকার ব্যস্ততম ফার্মগেট, গুলিস্তান, কাওরান বাজার, সায়েদাবাদ, মালিবাগ, গাবতলী, মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর, বাড্ডা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গণপরিবহণ চলাচল করছে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই। মালিবাগ আবুল হোটেল এলাকায় কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মনোয়ারুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল থেকে শত শত মানুষ অফিসে যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়ানো। কিন্তু গণপরিবহণ সংকটের কারণে অনেকেই গন্তব্যে যেতে পারছেন না। যানজটে বাস সিগন্যালে আটকে থাকায় গুলশান-১ নম্বর এলাকায় বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন অনিকেত হাসান। তিনি বলেন, একদিকে গণপরিবহণ সংকটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বাসে উঠেছিলাম। এছাড়া সড়কজুড়েই যানজট তাই নেমে পড়লাম। সব ধরনের অফিস খোলায় গণপরিবহণ অর্ধেক চালু করায় কাজে বের হওয়া মানুষের জন্য খুব সমস্যা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই বাসে উঠতে পারছেন না, কারণ বাসগুলো আগে থেকেই আসনসহ দাঁড়ানোর জায়গা পরিপূর্ণ হয়ে আসছে। একই সঙ্গে সব ধরনের যানবাহন সড়কে নামায় সড়কগুলোতেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল হয় বুধবার। প্রথম দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার অর্ধেক বাস চলার পরেও রাজধানীতে যানজটের সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে একদিকে গণপরিবহণ সংকট এবং যানজটে ধকল সামলাতে হয়েছে ঢাকাবাসীকে। এ অবস্থায় ১৯ আগস্ট থেকে সড়কে শতভাগ গণপরিবহণ চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সড়ক, রেল ও নৌপথে সব ধরনের গণপরিবহণ চলাচল করতে পারবে। এরআগে ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়ে ১৫ জুলাই ঈদের কারণে শিথিল করা হয়। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়, যা প্রথমে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এবং পরে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আর বুধবার থেকে শর্তসাপেক্ষে অফিস, গণপরিবহণসহ সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। ৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর