মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৬:১১ অপরাহ্ন

সাকিব নৈপুণ্যে সিরিজ জয়

ঢাকা অফিস / ৪১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৬:১১ অপরাহ্ন

শুধু সিরিজ জয়ই নয়। হারারেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অনন্য একটি রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট জাতীয় দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইতোমধ্যেই টানা ১৭ ম্যাচে অপরাজিত বাংলাদেশ। জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে দেশটির বিপক্ষে টানা ১৮ জয়ের রেকর্ড করলেন সাকিব-তামিমরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২৪০ রান। বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়াই করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার সুবাদে ৪৯.১ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪২ রান করলে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। সাথে ২-০তে সিরিজ জয়। আগামীকাল একই মাঠে সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে। রানের দেখা পাচ্ছিলেন না সাকিব আল হাসান। চলতি বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ব্যাট হাতে দাপট দেখানোর পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিফটি অধরা ছিল সাকিবের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে সে আক্ষেপ কিছুটা ঘুচল তার। ৫৯ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার উইলো থেকে আসে ১০৯ বলে অপরাজিত ৯৬ রান। যেখানে চারের মার ৮টি। তামিম ইকবাল (২০) ও লিটন দাস (২১) ফিরেন দুই ওভারের ব্যবধানে। ওয়ানডাউনে নেমে সাকিব সঙ্গী হিসেবে যোগ্য কাউকে পাননি। মিঠুন ও মোসাদ্দেক ফিরেন ২ ও ৫ করে। অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ (২৬) টিকে ছিলেন ২৮ ওভার পর্যন্ত। পরে মিরাজ (৬) আফিফ (১৫) নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। একপ্রান্ত ঠিকই আগলে রাখেন সাকিব। শেষ দিকে সাইফউদ্দিন তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ম্যাচ নিয়ে যান রোমাঞ্চের দিকে। সাকিবের সাথে সাইফউদ্দিন ২৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। এর আগে হারারে স্পোর্টস মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একটা সময় মনে হচ্ছিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের স্কোর হয়তো দুই শ’ ছাড়াবে না। একটা সময় তারা ম্যাচে ফিরে আসে। এই প্রত্যাবর্তনে ব্যাট হাতে দারুণ ভূমিকা রাখেন ওয়েসলি মাধভেরে এবং সিকান্দার রাজা। ৪৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের শেষটা ধসিয়ে দেন শরীফুল ইসলাম। এটাই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোট পেয়ে তার ওভার বাকি রেখেই মাঠ ছাড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। বল-ব্যাটের মাঝে পড়ে কেটে গেছে এই অফ স্পিনারের আঙুল। মিরাজের অসম্পূর্ণ ওভার শেষ করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। তবে স্বস্তির খবর ৩৭তম ওভারে ফিরেন মিরাজ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করছিলেন তাসকিন। প্রথম ওভারের শেষ বলে তাসকিন ফিরিয়ে দিলেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার টিনাশে কামুনহুকামউইকে। ৫ বলে ১ রান করেন কামুনহুকামউই। তাসকিনের তৃতীয় ওভারে দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। দুবারই বেঁচে যাওয়া ব্যাটসম্যান তাদিওয়ানাশে মারুমানি। প্রথমে ক্যাচ ঠিকঠাক নিতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ। এর পরের বলেই ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন সাইফউদ্দিন। মারুমানি আউট হতে পারতেন ৬ ও ১০ রানে। যদিও তাকে বেশি দূর যেতে দেননি মিরাজ। দলীয় ৩৩ রানে তার ঘূর্ণিতেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ২ চারে ১৩ রান করেন মারুমানি। হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাটিং নেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তার বলে আফিফ হোসেনের তালুবন্দী হন টিনাশে কামুনহুকামউই (১)। ষষ্ঠ ওভারে মঞ্চে আবির্ভাব মিরাজের। তিনি বোল্ড করেন মারুমিকে (১৩)। গত ম্যাচে ৫ উইকেট নেয়া সাকিব শিকার ধরেন ১৬তম ওভারে। বোল্ড হন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান রেগিস চাকাভাব (২৬)। ৮০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর এবং ডিওন মরিস। ২৫তম ওভারে শরীফুল ইসলামের শর্ট বলে তিনি আপার কাট করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। হতাশায় ব্যাটের শ্যাডো করতে গিয়ে সেটা গিয়ে লাগে স্টাম্পে। ৫৭ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ৪৬ রান করে ফিরেন টেলর। এরপর ফিল্ডিং করার সময় হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মিরাজ। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয় সাকিবের ঘূর্ণিতে। দলীয় ১৪৬ রানে মাহমুদুল্লাহর তালুবন্দী হন ডিওন মায়ার্স (৩৪)। সিকান্দার রাজা ও মাধভেরের ব্যাটে দুইশ ছাড়ায় জিম্বাবুয়ের স্কোর। ৫৪ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন মাধভেরে। তার ৬৩ বলে ৫৬ রানের ইনিংসটির ইতি ঘটান শরীফুল। শরীফুলের তৃতীয় শিকার লুক জংউই (৮)। দুই বল পরে মুজরাবানিকে (০) ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ শিকার শরীফুলের। সিকান্দারকে ৩০ রানে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী করেন সাইফউদ্দিন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৪০ রান। ১০ ওভারে ৪৬ রানে ৪ উইকেট নেন শরীফুল। সংক্ষিপ্ত স্কোর : জিম্বাবুয়ে : ২৪০/৯ (চাকাভা ২৬, টেলর ৪৬, মায়ার্স ৩৪, মাধেভেরে ৫৬, সিকান্দার ৩০, তাসকিন ১/৩৮, সাইফ ১/৫৪, মিরাজ ১/৩৪, শরিফুল ৪/৪৬, সাকিব ২/৪২) বাংলাদেশ : ৪৯.১ ওভারে ২৪২/৭ (তামিম ২০, লিটন ২১, সাকিব ৯৬*, মাহমুদুল্লাহ ২৬, সাইফউদ্দিন ২৮*; মুজারাবানি ১/৩১, জংউই ২/৪৬, এনগারাভা ১/৩৩, মাধেভেরে ১/৩৯, সিকান্দার ১/৩৩) ফল : বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী ম্যাচসেরা : সাকিব আল হাসান সিরিজ : ৩ ম্যাচে ২-০ তে সিরিজ জয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর