সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

সীমান্তের গ্রামে গ্রামে করোনার উপসর্গ!

ঢাকা অফিস / ৩০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার খবরেও সতর্ক হয়নি সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করলে গ্রামের মানুষের হাটে-বাজারে বিচরণ কিছুটা কমে। লকডাউন সরিয়ে নিলে আগের মতোই জনসমাগম জমজমাট হয়ে যায়। করোনার উপসর্গ দেখা দিলেও টেস্ট করাতে আগ্রহ নেই কারো। আবার টেস্টে যারা পজেটিভ হচ্ছেন তারা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের আলাদা কোনো উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার চিকিৎসকরা। তাদের কাছে আসা রোগী আদৌ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কিনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে আর জানানো হয় না। গতকাল সীমান্তবর্তী এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এমন কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপকালে এ চিত্র পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী সীমান্তবর্তী খুলনা বিভাগে সংক্রমণ হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। গতকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, খুলনা বিভাগে ১৫৪৫টি টেস্টের মধ্যে ৫৫৭ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন নাহার লাকী মানবজমিনকে বলেন, উপজেলায় গত বুধবারের ফলাফলে ১২টি স্যাম্পলের মধ্যে ৮টি পজেটিভ এসেছে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জ্বরের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সবাই টেস্ট করাতেও আগ্রহী না। ডা. লাকী বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা চৌগাছায় যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা কোন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন তা জানার কোনো উপায় নেই। কারণ, করোনা টেস্টের রেজাল্টে তা লেখা থাকে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও আলাদাভাবে কিছু জানাচ্ছে না। পরিস্থিতি খারাপের পর্যায়ে থাকলেও এলাকার মানুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র সচেতনতা নেই বলে আক্ষেপ করেন ডা. লাকী। চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন ডা. মো. সালাউদ্দিন। তিনি জানান, চাঁপাই নবাবগঞ্জে যখন লকডাউন ঘোষণা করা হলো তখন মানুষের মধ্যে কিছুটা ভীতি কাজ করেছিল। কিন্তু লকডাউন তুলে নেয়ায় সেই ভীতি আর নেই। যেসব রোগী করোনা উপসর্গ নিয়ে চেম্বারে আসেন তারা সাধারণ জ্বরের চিকিৎসা নিচ্ছেন। করোনা পরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই তারা প্রকৃত করোনা রোগী কিনা। ডা. সালাউদ্দিন তার এলাকায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়ানোর কথা শুনেছেন। কিন্তু কারা আক্রান্ত হয়েছেন সেই বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য পাননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল বুধবার রাজশাহী বিভাগে ৪৪১১ জন রোগীর স্যাম্পল পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে ৬৪১ জনের। শতকরা হিসেবে যা ১৪ শতাংশ। একই সময়ে রংপুর বিভাগে ৪০৯টি স্যাম্পল পরীক্ষা করে পজেটিভ এসেছে ১৩১টির। এখানে সংক্রমণ হার ৩২ শতাংশ। ঠাকুরগাঁও শহরে বিনামূল্যে রোগীদের পরামর্শ দেন পল্লী চিকিৎসক রেজাউল করিম। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী উপজেলার অনেক রোগী তার কাছে আসেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। কিন্তু তাদের পরীক্ষা করানোর সুযোগ নেই। নিয়ম না থাকলেও সন্দেহজনক করোনা রোগী হিসেবে তাদের এন্টিবায়োটিক প্রদান করছেন। তারা সুস্থও হচ্ছেন। রেজাউল করিম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা পর্যায়ে করোনা স্যাম্পল সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা হচ্ছে দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজে। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। মানুষ টেস্ট করাতে আগ্রহী হচ্ছে না। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে নিয়মিত রোগী দেখেন ডা. সুজন। তিনি জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে চেম্বারে আসলেও রোগীদের মধ্যে কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই। তারা মাস্ক পরতেও আগ্রহী নন। করোনাকে তারা সাধারণ জ্বর মনে করেন। যদিও এই দুই জেলায় অনেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সীমান্ত জেলা নওগাঁয় ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছিল ঈদের পর থেকেই। দৈনিক শনাক্ত রোগী বাড়তে থাকায় ৩ থেকে ৯ই জুন নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় লকডাউনের বিধিনিষেধ জারি করে জেলা প্রশাসন। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এই জেলায় শনাক্তের বাইরে থেকে যাওয়া আক্রান্তের সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পেতে স্বাস্থ্য বিভাগ গত রবি ও সোমবার নওগাঁ সদরসহ ১১ উপজেলায় দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে পথ চলতি মানুষের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালায়। দুই দিনে জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫৮০ জনের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। তাতে ৮.০৮ শতাংশ মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে, যদিও তাদের বেশিরভাগ উপসর্গহীন ছিলেন। নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আবু হানিফ বলেন, নানা কারণে যারা করোনাভাইরাস পরীক্ষা করেননি, এরকম বিভিন্ন বয়সের পথচারী, যানবাহনের যাত্রী, ছাত্র/ছাত্রী, দিনমজুর, চা-পান দোকানিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা খরচে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করিয়েছিলেন তারা। পরীক্ষার ফলাফল দেখে মনে হয়, জেলায় আনসিন এবং উপসর্গ আছে এমন আক্রান্তের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩ থেকে ৫ শতাংশও হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর