সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

অতি প্রবল রূপে ইয়াস, ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশংকা!

ঢাকা অফিস / ২০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এখন অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারতের ওড়িশার বালেশ্বর আঘাত হেনেছে । বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০-১৪০ কিলোমিটার। দেশের সব বন্দরে দেয়া হয়েছে ৩ নম্বর সতর্কতা। ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘুর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র তাণ্ডব ৩ ঘণ্টা চলতে পারে।

যমুনা টিভি বেলা ১১টার দিকে জানায়, সাতক্ষীরার সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে পানির চাপ বেড়েছে। সব ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে, কোনভাবেই পানি ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষ ঘরের মধ্যে টং তুলে মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বেশিরভাগ মৎস খামার তলিয়ে যাচ্ছে। বাগেরহাটের ভৈরব ইয়াসের কারণে নদী ও খালে দ্রুত পানি বাড়ছে। প্রচুর বাতাস ও ঝড় হচ্ছে। মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গা পানির জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বাড়িতে পানি উঠেছে। পানিতে গাড়ি ভেসে ১৪০-১৭০ বেগে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। দুপুরে মূল ঘুর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। সময় টিভি

ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞান দপ্তর বলছে, আগে মনে করা হচ্ছিল যে ঘূর্ণিঝড়টি উড়িষ্যার পারাদ্বীপ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যে আছড়ে পড়বে, কিন্তু এখন নির্দিষ্টভাবে জানা যাচ্ছে যে উড়িষ্যার বালেশ্বর শহর থেকে ধামরা বন্দরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়বে। ওই রাজ্যের ভদ্রক জেলার চাঁদবালিতেই সব থেকে বেশি ক্ষতি করবে এই ঘূর্ণিঝড়। যার গতিবেগ ১৮০ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপক‚লীয় এলাকাগুলোয় ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে পূর্ণিমার কারণে উপক‚লের নিম্নাঞ্চলগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে চার ফিট বেশি উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে। তবে এই ঝড়টি ‘সুপার সাইক্লোনে’ পরিণত হবে না।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মঙ্গলবার বিকাল থেকে বাংলাদেশে সারাদেশে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ )।

কলকাতা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী জানান, ইতোমধ্যেই উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলোতে চূড়ান্ত স্তরের ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। উড়িষ্যার সাতটি জেলার প্রায় ১১ লক্ষ মানুষকে এবং পশ্চিমবঙ্গের ১৪টি জেলার আট লাখেরও বেশি মানুষকে আয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা দেবাশীষ শ্যামল জানা, এখন সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। খুব জোরে হাওয়া বইছে। আকাশ মেঘলা। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগ নিয়ে ত্রিপল আর করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত করেছেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এবিপি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গের ১০টি জেলায় ১৭ কোম্পানি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো— উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পুরুলিয়া, বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি ও নদিয়া। এছাড়াও সিভিক ভলান্টিয়ার, অফিসারসহ তিন লাখ পুলিশ মোতায়েত করা হয়েছে।

ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনি, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে চার ফিট বেশি উচ্চতার পানিতে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ভোলায় রাতে জোয়ারে তলিয়ে গেছে সাগর উপকূলের দ্বীপচর ঢালচর। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। জোয়ারের চাপে পুরো এলাকার ৫০টি দোকান ও মাছের আড়তসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো দ্বীপচরটি ৫ ফুট পানির নিচে ডুবে গেছে।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র পাড়ি জমিয়েছে। ক্রমান্নয়ে নদীর পাড় ও রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে সকাল ১০টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এতে বাংলাদেশে ঘর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ তেমন কোনও আঘাত আনবে না। ভারতে এর প্রভাব পড়বে। কিন্তু আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। ভারতের উপকূল থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

চাঁদপুর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে চাঁদপুরে বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে নদী উপক‚ল ও চরাঞ্চলে। সেইসঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে পদ্মা-মেঘনার পানি। স্থানীয়ভাবে নদী বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দা ও জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নূর ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিভিন্ন ঘাঁটিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল গঠনের পাশাপাশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন এবং মানবিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন ধরনের বিমান ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানায়, উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে বড়মাছুয়া, কচুবাড়িয়া ও খেতাচিরা এলাকার বেশ কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, উপজেলার বলেশ্বর নদের মধ্যবর্তী মাঝের চর এবং তীরবর্তী খেতাচিরা বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। খেতাচিরার প্লাবিত এলাকায় এখনো পৌঁছায়নি ত্রাণ সহায়তা, জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর