সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রাজধানীর ক্লাবগুলো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভাগাড় সেনাবাহিনীকে আধুনিক টাইগার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট মিসাইল সিস্টেম প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘একদলীয় শাসনের কবরের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান : নজরুল ইসলাম খান মাদক বিস্তারের পরিণাম জঙ্গিবাদের মতোই ভয়াবহ : জিএম কাদের পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি : সাইফুল হক শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি : হানিফ করোনা আক্রান্ত মাহবুব তালুকদার চাকরি হারালেন আবু ত্ব-হার সেই বন্ধু সিয়াম হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড করার সিদ্ধান্ত কুষ্টিয়ায় এবার করোনায় সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু অনৈতিক কাজ করতে মেহজাবিনকে বাধ্য করেছিল মা

ধেয়ে আসছে যশ : কন্ট্রোল রুম চালু

ঢাকা অফিস / ৭৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

টানা প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালাতে পারে ঘূর্ণিঝড় যশ। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় গড়ে ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস ঢাকা পোস্টকে ঘূর্ণিঝড় যর্শের সর্বশেষ পরিস্থিতি এভাবে তুলে ধরেন। এ আবহাওয়াবিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি মূলত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িষা ও বিহার উপকূলীয় এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে। এসময়ে বাংলাদেশের খুলনা উপকূলেও আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে ঝড়টির। ধারণা করছি বুধবার (আগামিকাল) বিকেলের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানা শুরু করবে উলে­খ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হয়তো ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আঘাতের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেমন গতি থাকতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, আঘাতের কেন্দ্রস্থলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি হতে পারে। তবে টানা ঝড় বয়ে যাওয়ার গতি গড়ে ১৮০ কিলোমিটার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের দেওয়া সবশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭০০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬২৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭১০ কি.মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫৫ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আবহওয়া অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝোড়ো হওয়ার আকারে ৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় চট্টগ্রামে জেলা ও উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্র। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টিম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল টিম। মজুদ করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার।রোববার (২৩ মে) বিকেল পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ইতিমধ্যে জেলার আওতাধীন প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনের উদ্যোগে চলছে সচেতনতামূলক মাইকিং। কন্ট্রোল রুম চালু : ঘূর্ণিঝড় যশ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কন্ট্রোল রুমের মোবাইল ফোন নম্বর ০১৩১৮-২৩৪৫৬০। আসন্ন ঘূর্ণিঝড় যর্শের প্রভাব মোকাবিলার নির্দেশনা দিয়ে রবিবার (২৩ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইনে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনলাইনে যুক্ত হয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহŸান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, ‘বন্যা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা আমাদের জন্য নতুন নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মনিটরিংসহ জরুরি কাজের জন্য পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকৌশলীদের কাছে আক্রান্তদের জন্য মাস্ক, স্যালাইনের ব্যবস্থা রাখা হবে।’ মাঠপর্যায়ে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে লোকবল নিশ্চিত করাসহ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ স্টেশন ত্যাগ করতে পারবে না। কোথাও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আলম আরা বেগম, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) রোকন উদ দৌলা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফজলুর রশীদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক একেএম শামসুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর