বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ১১:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঘুষ দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করতে হলো ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে! রওশন আরা খাতুনের মৃত্যুতে মেহেদী রুমীর শোক কুষ্টিয়ায় উর্দ্ধমুখী সংক্রমনে ২৪ঘন্টায় আক্রান্ত ১২২, মৃত্যু-৫, জেলায় মোট মৃত্যু ২৬২জন ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু কুষ্টিয়ায় করোনায় আরো চার জনের মৃত্যু এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৩ দেশের একটি : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বড় বড় পন্ডিতরা টিকার নামে মুলা দেখিয়ে যাচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউপি নির্বাচনে ভোট কলঙ্কের আরেকটি অধ্যায়ের যোগ হলো : পীর সাহেব চরমোনাই লকডাউনের নামে সরকার প্রতারণা করছে : মির্জা ফখরুল উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর দাবি বিএনপির তিন দেশে নারী পাচারে ১০টি নাম ব্যবহার করতো নদী

আগামী প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস / ২৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ১১:২৪ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ভবিষ্যতে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি কাঠামো করে দিয়ে যাচ্ছে, যাকে ধরে আগামী প্রজন্ম দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তার সরকারের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় তিনি যেটা করতে পেরেছেন, এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটা কাঠামো তিনি তৈরি করে দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সাল পর্যন্ত কী করণীয়, স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনকালে ২০৭১ সালে বাংলাদেশ কোথায় যাবে বা ২১০০ সালে এই বদ্বীপ অঞ্চলের বাসিন্দারা যেন এক সুন্দর জীবন পেতে পারে তারও একটা পরিকল্পনা করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তাহলে এগিয়ে চলা সম্ভব। এজন্য যতটুকু আমরা করে দিয়ে যাচ্ছি এতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যারাই আসবে তারা যেন উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে পারে। তিনি বলেন, এই কাঠামোটা সময়ের বিবর্তনে পরিবর্তনশীল। কারণ যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়েই সকলকে চলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের বিকাশ, নব নব উদ্ভাবন আমাদেরকে নতুন করে পথ দেখাবে। যার সাথে তাল মিলিয়েই চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২১ এ ভূষিত করেন। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে এ পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে এবার চারজন স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন মরহুম এ কে এম বজলুর রহমান, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ ও মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী। সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা, সংস্কৃতিতে নাট্যজন আতাউর রহমান ও সুরকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। ‘সমাজসেবা/জনসেবা’ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা: এম আমজাদ হোসেন এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল। সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার প্রদান করে আসলেও এবার করোনার কারণে বিলম্ব হয়েছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনিই পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশনও পাঠ করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে আতাউর রহমান নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই, আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। স্ব-স্ব কর্মস্থানে মেধা ও মননের মাধ্যমে তারা যোগ্য একটা অবস্থান করে নেবে। দেশ ও জাতির জন্য তারা কিছু অবদান রেখে যাবে। আপনাদের কাছ থেকে তারা অন্তত উৎসাহ পাবে। দেশের জন্য, জাতির জন্য বা জাতির কল্যাণের জন্য কাজ করতে।’ অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসে মৃতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এটা যেন এগিয়ে যেতে পারে। এজন্য সকলে দোয়া করবেন। কাজও করবেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন এই দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দেখিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের প্রশ্ন ‘এখানেতো কিছুই নেই, আপনি কী করে দেশ গড়বেন’-এর পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর উত্তর ‘আমার মাটি আছে, মানুষ আছে। আমি এদেরকে দিয়েই বাংলাদেশ গড়ে তুলবো’-স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের মানুষ ও মাটি এটাই বড় শক্তি। আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, আজকে এটুকু বলতে পারি, আমাদের সব সময় একটা প্রচেষ্টা ছিল যে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। তাই সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো। কারো কাছে হাত পেতে, করুণা ভিক্ষা করে আমরা চলবো না। বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তুলবো। আজকের বাংলাদেশকে এমন অবস্থানে নিয়ে আসতে আমাকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৪০ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অন্তত এটুকু করতে পেরেছি যে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর যখন আমরা উদযাপন করছি তখনই এই স্বীকৃতিটা আমরা পেলাম। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই আজকে বেঁচে নেই। কিন্তু তাদের পরিবার রয়েছে। তাদের ঘর করে দেয়া থেকে মাসোহারার ব্যবস্থা করাসহ নানাভাবে আমরা সহযোগিতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় মিত্রশক্তিকে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য আবারো কৃতজ্ঞতা জানান। শেখ হাসিনা একাত্তরে জাতির মহান আত্মত্যাগ পুণরায় স্মরণ করে বলেন,‘ এত রক্ত, এত ত্যাগ কোনো দিন বৃথা যেতে পারে না। একে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। আমরা একে বৃথা যেতে দেব না।’ সূত্র : বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর