বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত: কী ঘটেছে বাঁশখালীতে?

ঢাকা অফিস / ৭০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারায় ‘এস এস পাওয়ার প্লান্টের’ শ্রমিকরা বিভিন্ন বিষয়ে দাবি দাওয়া জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া না দেয়ায় শনিবার তারা বিােভ করেন।

বিােভে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে গুলিতে মোট পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন কমপে ২৫ জন। তিনি শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শ্রমিকরা সকালে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে গিয়ে সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ আত্মরার্থে গুলি করে।’’

কিন্তু শ্রমিকরা দাবি করেছেন, পুলিশ আগেই গুলি করেছে। একজন শ্রমিক অভিযোগ বলেন, ‘‘আমাদের রমজানে ইফতারের সময় দেয়া হয় না। আমরা বলেছি আমাদেরকে নামাজ, ইফতার ও রোজার ছুটি দিতে হবে। এসব দাবি না মেনে পুলিশকে দিয়ে আমাদের আন্দোলনে গুলি চালানো হয়েছে।’’ আরেক জন শ্রমিক অভিযোগ করেন, ‘‘আন্দোলন শুরুর পরই পুলিশ গোলাগুলি শুরু করে। অনেকের মাথায় পিঠে গুলি লাগে। যে যেভাবে পেরেছি ছুটে পালিয়েছি।’’ নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের মধ্যেই পুলিশের একটি ক্যাম্প আছে। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, মালিকপ তাদের ন্যায্য আন্দোলন দমনে পুলিশকে ব্যবহার করেছেন।

শনিবারের ঘটনায় চারজনকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ মৃত ঘোষণা করা হয়। আরেকজন মারা যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, তিনজন পুলিশসহ ১৯ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন শ্রমিক মারা যান। তিনি বলেন, ‘‘আহত শ্রমিকরা জানিয়েছেন দাবি দাওয়া নিয়ে মালিক পরে সাথে তাদের আগে থেকেই ঝামেলা চলছিলো।’’

ঘটনার পর বাঁশখালী এবং হাসপাতালে আহত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তাদের বেশ কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বেতন দেয়া হচ্ছিল না। সেই সঙ্গে তারা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। রোজার মাসে কাজের সময় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন তারা, তাও মানা হচ্ছিল না। এছাড়াও শ্রমিকদের অভিযোগ সেখানে পানি ও টয়লেটের সংকট রয়েছে। আট ঘণ্টার পরিবর্তে ১০ ঘণ্টা কাজে বাধ্য করা হয়। তাদের সাথে সবসময় খারাপ ব্যবহার করা হয়। এনিয়ে তারা ১১ দফা লিখিত দাবি দিয়েছিল। শুক্রবারও তাদের কাজ করতে হয়। এনিয়ে শুক্রবার তারা বিােভ করেন। শনিবার সকালে তারা আবার বিােভ করলে তা দমনে গুলি চালানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘‘শ্রমিকদের মধ্যে বেতন ও কর্মঘণ্টা নিয়ে অসন্তোষ ছিলো। তবে শনিবারের বিােভে শ্রমিক ছাড়াও স্থানীয় লোকজন অংশ নেয়। তারা গাড়ি পোড়ায়, ভাঙচুর করে।’’

বাঁশখালী থানার ডিউটি অফিসার এসআই আল মামুন জানান, ‘‘প্ল্যান্টের মধ্যেই পুলিশ ক্যাম্প আছে। সকালে শ্রমিকরা বিােভ করলে গুলির ঘটনা ঘটে। তারপর আরো পুলিশ পাঠানো হয় চট্টগ্রাম থেকে। অতিরিক্ত পুলিশ যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’’

নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে দেশের বৃহৎ শিল্প গ্রুপ এস আলম-এর কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয় প্রায় আট বছর আগে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের রিরোধিতা করে স্থানীয়রা আন্দোলন করেন। তখন গুলিতে চারজন নিহত হন। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে স্থানীয়রা শুরু থেকেই পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে এর বিরোধিতা করে আসছেন।

এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সাল নাগাদ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার কথা। এই প্রকল্পে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানে ৩০ ভাগ বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানা গেছে। বাঁশখালীর প্রত্যন্ত এলাকায় সমূদ্রের তীরে এর অবস্থান। ফলে সাংবাদিকরা বা প্রশাসন ওখানকার খোঁজ খবর তেমন পান না। পুলিশ ফাঁড়ি ছাড়াও কেন্দ্রটিতে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। প্রায় তিন হাজার শ্রমিক সেখানে কাজ করেন। ব্যবস্থাপনায় চীনা নাগরিকরাও আছেন।

এনিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম লাভলুকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএস পাঠানো হলে তার জবাবও দেননি।-সূত্র-ডয়চে ভেল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর