বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঘুষ দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করতে হলো ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে! রওশন আরা খাতুনের মৃত্যুতে মেহেদী রুমীর শোক কুষ্টিয়ায় উর্দ্ধমুখী সংক্রমনে ২৪ঘন্টায় আক্রান্ত ১২২, মৃত্যু-৫, জেলায় মোট মৃত্যু ২৬২জন ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু কুষ্টিয়ায় করোনায় আরো চার জনের মৃত্যু এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৩ দেশের একটি : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বড় বড় পন্ডিতরা টিকার নামে মুলা দেখিয়ে যাচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউপি নির্বাচনে ভোট কলঙ্কের আরেকটি অধ্যায়ের যোগ হলো : পীর সাহেব চরমোনাই লকডাউনের নামে সরকার প্রতারণা করছে : মির্জা ফখরুল উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর দাবি বিএনপির তিন দেশে নারী পাচারে ১০টি নাম ব্যবহার করতো নদী

হাহাকার

ঢাকা অফিস / ৪৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ১১:০২ অপরাহ্ন

সর্বত্র হাহাকার। হাসপাতালে ভর্তির জন্য হাহাকার যেমন, তেমন ভর্তিকৃত রোগীদের হাহাকার আইসিইউ’র জন্য। হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরেও মিলছে না সিট। কোথায় শয্যা খালি নাই। এম্বুলেন্স নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত রোগীর স্বজনরা। আবার শয্যা পাওয়ার আগেই অনেক রোগী এম্বুলেন্সেই মারা যাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অসহায়। শয্যা দিতে না পেরে তাদেরও মনে হাহাকার। চোখের সামনে রোগীর করুণ আকুতি তাদের হৃদয়কেও তছনছ করে দিচ্ছে। কিন্তু কিছুই যে করার নেই। একটি আইসিইউ শয্যা পাওয়ার জন্য হাহাকার করছেন শত শত রোগীর স্বজনরা। ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনেক জটিল রোগীও আইসিইউ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল সেবাও নিতে পারছেন না বেশির ভাগ মানুষ। বেসরকারি হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডেও ১০-১২ দিন করোনা চিকিৎসা নিলে লাখ টাকার উপরে বিল আসছে। গরিব অসহায় রোগীর জন্য এ অর্থ ব্যয় করা দুঃসাধ্য। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সংক্রমণ বাড়ায় রোগীদের অবস্থা জটিল হচ্ছে। রোগীরা হাসপাতালমুখী হওয়ায় সব ধরনের শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ উপজেলা-জেলা পর্যায়ে করোনা চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে ছুটে আসছে ঢাকায়। এতে করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনার প্রাথমিক ও মধ্যম মানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে অনেক রোগীদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন হবে ন্?া। এছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিমানবন্দর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে যতগুলো আইসিইউ শয্যা ও ভেন্টিলেটর পড়ে আছে সেগুলো দ্রুত স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে অন্তত ১০টি আইসিইউ শয্যাসহ ইউনিট করলেই সংকট কিছুটা কমানো যাবে। ইব্রাহীম মজিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে আমার মা কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনদিন আগে তার অক্সিজেন লেভেল অনেক কমে যায়। চিকিৎসকরা মা’কে দেখে বলেন, তার আইসিইউ প্রয়োজন। কিন্তু কুর্মিটোলা হাসপাতালে কোনো আইসিইউ ছিল না। তারপর বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে আইসিইউ’র খোঁজ নেয়া হয়। কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। কিছু জায়গায় আইসিইউ ছিল তবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন বা সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। সাত ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকার ৫০টির মতো আইসিইউতে খোঁজ করে একটি আইসিইউ’র ব্যবস্থা হয়। শুধু ইব্রাহিম মজিদ নন, করোনা আক্রান্ত জটিল রোগীরা আইসিইউ’র জন্য হাহাকার করছেন। কোথাও আইসিইউ মিলছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত মায়ের জন্য আইসিইউ খুঁজতে খুঁজতে ব্যর্থ হয়েছেন বনশ্রীর বাসিন্দা জাহিদ পারভেজ। তিনি বলেন, করোনা পরীক্ষায় সোমবার আমার মায়ের পজিটিভ আসে। মঙ্গল, বুধবার তার শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলেও বৃহস্পতিবার ভোরবেলা থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন লেভেল মেপে দেখা যায় বিপদসীমায় চলে যাচ্ছে। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আইসিইউ সাপোর্ট নেয়ার পরামর্শ দেন। তারপর থেকে একে একে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছি। কোথাও একটি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করতে পারিনি। পরে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সাপোর্ট নিতে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে মা’কে ভর্তি করি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে ঢাকার সরকারি করোনা ডেডিকেটেড ১৩টি হাসপাতালের এগারোটিতে ১৬২টি আইসিইউ শয্যা আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব শয্যায় গতকাল পর্যন্ত একটি শয্যাও খালি ছিল না। এছাড়া বেসরকারি করোনা ডেডিকেটেড ২৯টি হাসপাতালে ৩৭৭টি আইসিইউ শয্যা আছে। বেসরকারি হাসপাতালেও সংকট রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কেবলমাত্র কোনো রোগী ছাড়পত্র পেলে বা মৃত্যু হলেই শয্যা খালি হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা খালি হলেও সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব হাসপাতালের ব্যয় বহন করা কঠিন। কারণ সরকারি হাসপাতালের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি খরচ হয়। শুধু আইসিইউ শয্যাতে নয় সাধারণ শয্যাতে চিকিৎসা নিতে বেসরকারি হাসপাতালের খরচও কয়েকগুন বেশি। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এক সাংবাদিক। পহেলা বৈশাখের দিন তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশকিছু ওষুধের নাম উল্লেখ করে লিখেছেন ৯ দিন টানা অক্সিজেন দিয়ে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে, হসপিটালে ১ লাখ টাকা বিল দিয়ে ১১ দিন পর বাসায় ফিরলাম নতুন বছরে। একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স রুমানা খাতুন একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমি যে কেবিনে ডিউটি করছি সেখানে ৩০টা বেড আছে। ৩০টা বেডেই কন্টিনিউ রোগী থাকছে। বাড়তি রোগীর কারণে আমাদের নার্সদেরও বেশ চাপের মধ্য পড়তে হয়েছে। এটাও বাস্তবতা যে, বেড খালি না থাকায় অনেক সময় নতুন রোগী এলে ফিরিয়েও দেয়া হচ্ছে। করোনা ডেডিকেডেট একটি সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইশান জাহান বলেন, এখনকার অবস্থায় যেটা হচ্ছে- রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল ভালো আছে, কথা বলছে এ রকম অবস্থায় হঠাৎ করে রোগী বলছে যে আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এমন ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা শুরু করার সুযোগও অনেক সময়ও অনেক রোগী দিচ্ছেন না। অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে মারাও যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আসলে এটা খুবই দুঃখজনক যে, সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না যে, পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক। যখন একজন রোগী নিয়ে হাসপাতালে যান তখন সেই ব্যক্তিটাই বুঝেন যে, হাসপাতালের একটা সিট পাওয়ার জন্য, একটা অক্সিজেনের সিলিন্ডারের জন্য, একটা আইসিইউ বেডের জন্য কী পরিমাণ হাহাকার চলছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, আইসিইউতে সেসব রোগীকে পাঠানো হয় যাদের প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দিতে হয়। এই অক্সিজেন হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এই সেবাটা যদি সাধারণ ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের পাশপাশি রোগীদের শয্যার পাশে সেট করা যায় তবে আইসিইউ চাহিদা অনেকটা কমে যাবে। আমরা জানি বিমানবন্দরে গত দশ মাস ধরে অনেকগুলো আইসিইউ শয্যা ভেন্টিলেটরসহ পড়ে আছে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারেও আরও অনেক আইসিইউ শয্যা পড়ে আছে। এগুলো যদি দ্রুত স্থাপন করা যেত তবে আইসিইউ সংকট অনেকটা কমে যেত। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের দু’টো কাজ। আমাদের যে আইসিইউ যন্ত্রপাতি পড়ে আছে সেগুলো দ্রুত সেট করে ফেলতে হবে। তার সঙ্গে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা স্থাপন করা। প্রয়োজনে আরও কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা। হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা যদি সাধারণ শয্যার পাশে দেয়া যায় তবে আইসিইউ ব্যয়টা কমানো যাবে। আর অনেক বেসরকারি হাসপাতাল অযৌক্তিকভাবে বেশি খরচ নেয়। ক্রসচেক করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআর’র সাবেক পরিচালক ডা. বেনজীর আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, রোগী কম হলে আইসিইউ বা সাধারণ শয্যার চাহিদা আনুপাতিকহারে কমে আসবে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই জায়গাটায় অনেক মনোযোগ দিতে হবে। চলাফেরায় বিধি-নিষেধ আরও কার্যকর করতে হবে। যারা শনাক্ত হয়েছে তাদের সঙ্গরোধ করা। তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদেরকে আলাদা রাখা। এসব করলে আক্রান্ত কম হবে। আর আক্রান্ত কম হলে হাসপাতালে চাপ কমবে। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের করোনা চিকিৎসার জন্য সরকার একটা নিয়ম বেঁধে দিতে পারে। করোনা ব্যবস্থাপনায় কত বিল হবে। যেহেতু করোনাকালে মানুষের আয় কমে গেছে তাই একটা রেট নির্ধারণ করে দিলে কিছুটা সমাধান হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর