রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন

ভেড়ামারায় নিরাময় ক্লিনিকে তড়িঘড়ি করে করা ভুল সিজারে নবজাতকের মৃত্যু

ভেড়ামারা প্রতিনিধি।। / ১৬৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা ভবনের সন্নিকটে গত মঙ্গলবার (২০/১০/২০) দুপুর ১১ টার সময় সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি হন মলি। সে ভেড়ামারা উপজেলার ফারাকপুরের ফজলুর স্ত্রী। মলির এটি ২য় সিজার। এর অাগে ১ম সন্তান জন্ম দেয়ার সময় সিজার করা হয়েছিল তার।

তখন থেকে জরায়ুতে টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। রোগীর স্বজনেরা জানান, তারা ডাঃ বদরুল জামানকে দিয়ে অপারেশন করাতে চেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী টিউমার অপারেশন ও সিজার বাবদ ১৮ হাজার টাকা চুক্তি হয়। কিন্তু রাত ঘনিয়ে এলে ডাঃ মোহাম্মদ অালীকে ডেকে এনে ওটিতে নেয়া হয় প্রসূতি মলিকে। জরায়ুতে বড় টিউমার থাকায় ও প্রয়োজনীয় সতর্কতার অভাবে ও রোগী অস্ত্রপচারকারী চিকিৎসকের তত্বাবধানে না থাকায় ঝুঁকি সম্পর্কে অাগেভাগে না জানা থাকায় ডাক্তারের অপারেশনের পর নবজাতক মৃত্যু মুখে পতিত হয়।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডাঃ মোহাম্মদকে কল দেয়ার অাগে অন্ততঃ দুজন ডাক্তারকে ক্লিনিকে ডাকলেও রোগ বর্ণনা ও ঝুঁকি বিবেচনায় তারা কৌশলে কেসটি হাতে নেননি। এদিকে সন্তান প্রসবের পর মৃত্প্রায় শিশুটিকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে পাঠানোর নাটক মঞ্চায়ন করেন ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ডাঃ মোহাম্মদ অালী কুষ্টিয়া মেডিকেল সংশ্লিষ্ট হওয়ার ক্লিনিক থেকে সরিয়ে অানা হয় ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে মৃত দেখানো হয়। গতকাল শিশুটির লাশ সৎকার করা হয়।

এদিকে অবহেলার অভিযোগ অনুসন্ধানে অারো জানা যায়, এনেসথেশিয়া না করে ইনজেকশনের মাধ্যমে অপারেশনটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। ওটি বেডে প্রসূতি তার দেহে কাটাকাটি শুরু হলে তীব্র ব্যাথা অনুভব করে সে। ডাক্তারকে জানানোর পর অার কোন কিছু বলতে পারেনা সে। তার সদ্য প্রসূত নবজাতক মারা গেছে এখরটিও প্রসূতি মলিকে জাননো হয়নি এখনো।

প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে ক্লিনিক মালিক অাবু বক্কর সিদ্দিক ও ম্যানেজার মজির উদ্দীনের সাথে কথা বলেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগী ও পরিবারের সদস্যদের সাথে চুক্তি ও বিশ্বাস ভঙ্গ করার বিষয়ে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এনেস্থিসিয়া না করে পিঠে ইনজেকশম দিয়ে দেহের অাংশিক অবশ করে এতো জটিল দুটো অপারেশন একবারে করা কতটুকু যৌক্তিক এই প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন তারা যা করেছেন তা সঠিক করেছেন। সংশ্লিষ্ট সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ অালীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন ব্যাস্ত পাওয়া যায়। উল্লেখ্য নিরাময় ক্লিনিকের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিনিয়তই সংবাদ প্রকাশিত হলেও ক্লিনকটিতে একের পর এক অনাকাংখিত ঘটনা/দূর্ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর