রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী কলেজে ভুয়া সনদে প্রভাষক পদে চাকরীর অপরাধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৮৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি কলেজে ভুয়া সনদে ৯ বছর চাকরি করাকালীন কলেজটি জাতীয় করন হবার পর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক সাবিরা খাতুনের নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়। এবং কলেজের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় ঐ প্রভাষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মামলা নং ০৯ তাং ১৪/১০/২০২০।

জানা যায়, কুমারখালী বেসরকারি ডিগ্রি কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট জাতীয়করন হয়। কলেজটি জাতীয়করণ ঘোষণার পর সনদ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি পাঠানো হয় এনটিআরসিএ তে। তারমধ্যে ২৯ জন শিক্ষকের ফলাফল পাওয়া যায়। এবং সনদ যাচাইয়ে আরবী ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক সাবিরা খাতুনের নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত বলে অতি সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৬৯৭ স্মারকে সনদ যাচাই সংক্রান্ত চিঠি গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া কলেজের অধ্যক্ষকে ই-মেইল মারফত এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে অবগত করার জন্য ।

এনটিআরসিএর প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ব্যাচের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মর্মে সাবিরা খাতুনের দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদের রোল নম্বর ২১৪১০৭৯৬, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮০৫৫৯১১৪ যাচাইকালে সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়। এছাড়া নিবন্ধন পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ২৭ এবং তিনি ওই নিবন্ধন পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয়ে ভুয়া সনদে সাবিরা খাতুন ২০১১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রভাষক পদে কলেজে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর ২০১১ সালের ১ মে তিনি এমপিও ভুক্ত হন। এমপিও ভুক্তির পর থেকে দীর্ঘ নয় বছর যাবত অবৈধ পন্থায় তিনি সরকারি আর্থিক সুবিধা ভোগ করছিলেন।

কুমারখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শরিফ হোসেন জানান, প্রথমে প্রভাষক সাবিরা খাতুনের নিবন্ধন সনদ ভুয়া সংক্রান্ত বিষয়টি এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট মারফত জানতে পারি। পরবর্তীতে গত ১৩ অক্টোবর চিঠি পেয়েছি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এবং ১৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন কলেজের মোট ৫২ টি নিবন্ধন সনদ পাঠানো হয় এনটিআরসিএতে তার মধ্যে শুধু একটি সনদ জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

কুমারখালীর থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মামুনুর রশিদ বলেন, কুমারখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শরিফ হোসেন অভিযুক্ত প্রভাষকের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর