বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

র‌্যাবের উজ্জ্বল ভূমিকার বিবরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ

ঢাকা অফিস / ৭৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ব্রিফিং নোট

 

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ খরং প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাব’র উজ্জ্বল ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় এলিট ফোর্সটির সদস্যরা যে বিচার এবং শাস্তির মুখোমুখি হন, তা ডাটা বা পরিসংখ্যান আকারে তুলে ধরেছে ঢাকা। এ নিয়ে ১৪ পৃষ্ঠার একটি নোট যুক্তরাষ্ট্রকে শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে এটা বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, গুমের মতো স্পর্শকাতর এবং চরম মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ঢালাওভাবে র‌্যাব সদস্যদের দোষারোপ করা হলেও আদতে সব ঘটনায় র‌্যাব সম্পৃক্ত নয়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব কখনো কখনো বলপ্রয়োগ করে। তবে ‘কিল্ড ইন অ্যাকশন’-এর প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কঠিন পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা গুলি ছুড়েন উল্লেখ করে বাংলাদেশের অবস্থান পত্রে বলা হয়, উন্নত রাষ্ট্র্রেও কিল্ড ইন অ্যাকশন হয়, সেটাও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে! সদ্য ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে (৮ম পার্টনারশিপ ডায়ালগ) নোটটি (নন-পেপার) শেয়ার করা হয়েছে। যার একটি কপি হাতে পেয়েছে মানবজমিন। ওই পেপারে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা র‌্যাব’র সাবেক ও বর্তমান ৭ পদস্থ কর্মকর্তার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি, তাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাবের কর্মকা তথা সফলতার খ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে র‌্যাব’র বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগের তদন্ত, বিচার এবং জবাবদিহিতার আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত স্থান পেয়েছে। নন- পেপারটিতে এটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে যে, এলিট ফোর্সটিতে ব্যক্তির পদমর্যাদা যাই হোক, আইন লঙ্ঘনে কোনো দায়মুক্তি নেই বরং অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করে সদস্যের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততা মোতাবেক উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে শুরু করে পুলিশ আইন পর্যন্ত যেসব আইনি কাঠামোর অধীনে এলিট ফোর্সটি পরিচালিত হয় তা অপরাধের বিচার নিশ্চিতের গ্যারান্টি। তবে ওই নন-পেপারে ব্যক্তির অপরাধের দায়ে গোটা সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন শাস্তির আওতায় ফেলার বিষয়েও প্রশ্ন রাখা হয়। উদাহরণ দেয়া হয় বিশ্ব পরিস্থিতি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেরও। সরকারি সূত্র বলছে, নন-পেপারটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের মিশন রয়েছে এমন সব রাষ্ট্রকে শেয়ার করা হচ্ছে। কারণ এ নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে চায় ঢাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব তা শেয়ার করলেও এ নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে পররাষ্ট্র সচিবের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে আন্ডার সেক্রেটারি বিষয়টি ‘জটিল’ এবং ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে নিষেধাজ্ঞার পর থেকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ র‌্যাব’র বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ না আসায় খানিক স্বস্তি প্রকাশ করে আলোচনা অব্যাহত রাখার আভাস দিয়ে গেছেন তিনি। কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে অংশীদারি সংলাপের বড় অংশ জুড়ে ছিল র‌্যাব’র ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি। ২০শে মার্চের ওই বৈঠকে লিখিত এবং মৌখিকভাবে জ্যেষ্ঠ সচিব মাসুদ বিন মোমেন দাবি করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন নয় বরং নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ১০ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ও পররাষ্ট্র দপ্তরের তরফে র‌্যাব এবং এর বর্তমান ও সাবেক ৭ কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের ওপর এমন নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। ঢাকাস্থ তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে তলব করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান। সরকারের তরফে এ নিষেধাজ্ঞাকে দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে নিন্দা করা হয়। তবে পরবর্তীতে এক চিঠিতে নিষেধাজ্ঞাটি পুনর্বিবেচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে অনুরোধ করেন ড. মোমেন। নন-পেপারেও সেই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে শেয়ার করা নোটে যা আছে: ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব): অ্যানফোর্সমেন্ট এজেন্সি অব বাংলাদেশ আপহোল্ডিং সিকিউরিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক ওই নোটের শুরুতেই র‌্যাব’র ওপর নিষেধাজ্ঞায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং একতরফা ওই নিষেধাজ্ঞা সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা, চরমপন্থা ও মানব পাচারের মতো সংঘটিত অপরাধ পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলায় সক্রিয় একটি সংস্থার সামগ্রিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। র‌্যাব গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এতে বলা হয়, নাইন-ইলেভেনের দুর্র্ধষ হামলার পর দেশে দেশে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক ওই লড়াইয়ে দৃঢ় সমর্থক বাংলাদেশ। সেই সময়ে বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নানামুখী সীমাবদ্ধতা, যা মার্কিন পররাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে উল্লেখ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বিশেষত সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার মতো বহুমাত্রিক বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্স হিসেবে ২০০৪ সালে র‌্যাব’র যাত্রা। এতে বিভিন্ন বাহিনীর চৌকস সদস্যদের যুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বহুমাত্রিক এবং অত্যন্ত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, জার্মানি, কানাডা, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষকরা র‌্যাবকে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২৪৬ জন র‌্যাব সদস্য বিদেশে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। র‌্যাব কর্মকর্তারা ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন প্রোগ্রামের অধীনে ২০১১ সাল থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন বলেও নোটে উল্লেখ করা হয়। র‌্যাবকে প্রশিক্ষিত এবং সুসজ্জিত একটি বাহিনী উল্লেখ করে নোটে বলা হয়, দেশের ভেতরে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। যার প্রমাণ ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা পরবর্তী র‌্যাব’র যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অনুমোদিত কান্ট্রি রিপোর্টেও তা উল্লেখ করা হয়েছে। নোটে বলা হয়, ২০০৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। যার মধ্যে ছিল সিরিজ বোমা হামলা, আত্মঘাতী হামলা ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনা। এসব সামাল দিতে র‌্যাব অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। কেবলমাত্র ২০১৯ সালেই র‌্যাব ১৪৪টি জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে জানিয়ে নোটে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষজনের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে র‌্যাব’র অবদান অনস্বীকার্য। এত কিছুর পরও প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাব এবং এর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বন্ধু দেশের নিষেধাজ্ঞা সামগ্রিকভাবে বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, মানব ও মাদক পাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ, সামাজিক সহিংসতা, নারীদের প্রতি অবমাননা রুখতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে। যা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে। র‌্যাব জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়- ১৪ পৃষ্ঠার ওই নোটের বিস্তৃত অংশজুড়ে ছিল সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় র‌্যাব’র অবদানের ফিরিস্তি। সচিত্র ওই বর্ণনায় মোটা দাগে র‌্যাব’র ‘ইমপ্রেসিভ’ ট্র্যাক রেকর্ড, মানুষের আস্থা ও নির্ভরতা, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র‌্যাব’র সহযোগিতা, এন্টি নারকোটিক্স ড্রাইভ, অপারেশনস অ্যাগেইন্সট ট্রাফিকিং ইন পারসন, কমবেটিং ট্র্যাডিশনাল ক্রাইমস ইনক্লুডিং ইলিগ্যাল ফায়ারআর্মস ট্রেডিং ইত্যাদির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। কঠিন এই দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে গিয়ে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ র‌্যাব’র ২৮ জন সদস্যের আত্মত্যাগ এবং হাজারো সদস্যের জীবন ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়টি নোটে উল্লেখ করে বলা হয়, এতদসত্ত্বেও র‌্যাব সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কখনো ভয় পাননি বা পিছপা হননি। তবে জীবন-ঝুঁকির মতো কঠিন সব অপারেশনে সম্পৃক্ত থাকলেও র‌্যাব সদস্যরা যে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নন, সেটাও নোটে সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়। প্রায় ৫ পৃষ্ঠাজুড়ে ‘জবাবদিহিতার’ সেই ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। সেখানে ৩টি পয়েন্টে তার বর্ণনা করা হয়। তবে সেখানে গুম বা নিখোঁজ হওয়া অনেকের সাগরে সলিল সমাধি হওয়ার দাবিও করা হয়! কিন্তু নোটে গুমের তালিকায় থাকা কোন কোন ব্যক্তির সলিল সমাধির প্রমাণ মিলেছে তা উল্লেখ করা হয়নি। এতে পেশাদার কূটনীতিক মারুফ জামান, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুবশ্বের হাসান, সাংবাদিক উৎপল দাস, ব্যাংকার শামীম আহমেদ, কলামিস্ট ফরহাদ মাজহার, হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়া এবং খুঁজে পাওয়ার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। নোটে বলা হয়, তাদের গুম বা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে মহলবিশেষ বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। তাদের স্বজনরা এ অপরাধের জন্য র‌্যাবকে অভিযুক্ত করেছিল, কিন্তু পরে, তারা নিজেরাই হয় নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন অথবা দৃশ্যমান হয়েছেন। র‌্যাব’র অভ্যন্তরীণ মনিটরিং, এবং… নোটে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যখনই র‌্যাব’র কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে কর্তৃপক্ষ তা তাৎক্ষণিক আমলে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। র‌্যাব কেবলমাত্র আত্মরক্ষার জন্য (শেষ অবলম্বন হিসেবে) শক্তি ব্যবহার করে উল্লেখ করে নোটে বলা হয়- বেশির ভাগ ক্ষেত্রে র‌্যাবকে এমন সব অপারেশনের জন্য নিয়োগ করা হয় যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও অপারেশন চলাকালে যে হতাহতের ঘটনা ঘটে তা অপারেশনের সংখ্যার তুলনায় নগণ্য। নোটে বলা হয়, তারপরও সদস্যদের অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে র‌্যাব ২০১২ সালের ৩১শে জানুয়ারি ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস-এর সহায়তায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেল (আইইসি) গঠন করে। ওই সেলের ৬ ব্যাচে মোট ৯০ জন কর্মকর্তাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্তে সক্ষমতা অর্জন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দায়িত্বে থাকা আইইসি সেলে এখন পর্যন্ত ১২১টি অভিযোগ জমা পড়েছে জানিয়ে নোটে বলা হয়, যার মধ্যে ৬৫টি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে, আর ২৬টির সত্যতা মিলেনি। ৩টি অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। বাকি ২৭টি অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা অন্য বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণ থাকায় তা ঝুলে আছে। নোটে উল্লেখ করা হয়, র‌্যাব-পুলিশ বা অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যদের আইন ও পেশাদারী কর্ম থেকে বিচ্যুতিকে মোটেও প্রশ্রয় দেয়া হয় না। জবাবদিহিতার উদাহরণ হিসেবে নোটে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সেভেন মার্ডারে ১৪ র‌্যাব সদস্যের মৃত্যুদংে ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদে র বিষয়টি তুলে ধরা হয়। যদিও ওই দ াদেশ এখনো কার্যকর হয়নি। গুম প্রসঙ্গে সরকারের দাবি ডিসএপিয়ারেন্স বা বলপূর্বক গুম বলে বাংলাদেশের আইনে কিছু নেই দাবি করে নোটে বলা হয়, তবে দ বিধি অনুসারে ‘কিডনাপিং বা এবডাকশন’ নামে অপরাধ রয়েছে। দ বিধির বিধান অনুসারে অপহরণ শাস্তিযোগ্য। এটা দেখা গেছে যে, দুর্বৃত্তরা পূর্ব শত্রুতা হিসেবে একজন ব্যক্তিকে অপহরণ করে। অনেক সময় অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে। কিন্তু মানুষ অভিযোগের আঙুল তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে। এতে জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ায়। নোটে নিখোঁজ বা গুমের অভিযোগগুলোকে জাস্টিফাই করা হয় এই বলে, প্রতি বছর বেশকিছু বাংলাদেশি নাগরিক মানব পাচারকারীদের শিকার হন। তাদের বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কে স্বজনরা অবগত থাকেন না। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি অবৈধভাবে নৌকা ও মাছ ধরার ট্রলারে সমুদ্রপথে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করে। এই অবৈধ অভিবাসীরা ট্রানজিট রুট কিংবা বা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আটক হন কিংবা নৌকা ও ট্রলারে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত মৃত্যুবরণ করেন। যেহেতু তারা অবৈধ পথে ভ্রমণে গেছেন তাই বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের ভ্রমণের রেকর্ড থাকে না। দুর্ভাগ্যবশত, কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্টে এই ধরনের কেসকে ‘বলপূর্বক গুম’ বলে চালিয়ে দেয়া হয়। পক্ষপাতদুষ্ট এসব রিপোর্টে এটাও প্রচার করা হয় যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সমালোচকদের দমনে বাংলাদেশে গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নোটে বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্থান পাওয়া ভিকটিমদের প্রায় সবাই সাধারণ নাগরিক। তারা রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নন এবং তাদের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীলও নয়। অতএব, বাংলাদেশ সরকার তাদের গুম করার কোনো কারণ নেই। তবে নোটে এটাও উল্লেখ করা হয় যে, সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর এমন কাউকে আটকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রচলিত আইনে তা করা হয়। নোটে গুমের ঢালাও অভিযোগ খ ন করে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের টার্গেট করে যদি সরকার গুম করতো তাহলে হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে এমনটা করা যেতো, যা আদৌ হয়নি। বরং অপহরণ বা গুমের কোনো অভিযোগ এলে তার রহস্য উন্মোচন তথা ভিকটিমকে উদ্ধার অবধি সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে, লেগে থাকে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর অধিকতর উন্নয়ন ও সংস্কারে ওয়াশিংটনকে পাশে চায় ঢাকা বাংলাদেশের সংবিধানকে মৌলিক মানবাধিকারের রক্ষাকবচ উল্লেখ করে নোটে বলা হয়, এখানে আইনের শাসন ও মান বজায় রাখা হয়। বাংলাদেশ প্রায় সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র উল্লেখ করে বলা হয়, ফলে বাংলাদেশে প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রয়োগের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হয়। নোটের সমাপনীতে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ উল্লেখ করে বলা হয়, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সংলাপ, যোগাযোগ এবং সহযোগিতা সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস চরমপন্থাকে দেশীয় এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধির অন্তরায় হিসেবে দেখে। এমন বাস্তবতায়, বাংলাদেশ তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর অধিকতর উন্নয়ন ও সংস্কারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখতে চায়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে নোটে বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে শুধুমাত্র সংলাপ এবং আলোচনাই বন্ধু রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার এই অস্বস্তিকর অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর