মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল শাবি : বাসভবন ঘেরাও নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে মার্কিন দূত-মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের জবাবদিহিতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কুষ্টিয়ায় নিখোজ যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ৯ পুলিশ কর্মকর্তার রদবদল সন্ত্রাসবাদকে না বলুন এই স্লোগানে কুষ্টিয়ায় উগ্রবাদ প্রতিরোধে পুলিশের মতবিনিময় সভা অক্সফামের রিপোর্ট : করোনায় শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে, মরছে গরিব, বাড়ছে বৈষম্য কুষ্টিয়ার মিরপুরে অবাধে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি সরকারি চিনিকলে বিক্রির তিনগুণ লোকসান কুষ্টিয়ায় গত চার মাস পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু চলতি অধিবেশনেই পাস হচ্ছে নির্বাচন কমিশন আইন

মৃত্যু, কারাগার, কী করবে বিপর্যস্ত হেফাজত

ঢাকা অফিস / ৫৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০৮ অপরাহ্ন

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চ বিরোধী সমাবেশ করে আলোচনায় আসে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে সরব এই ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠনটি। এরই মধ্যে গত ১৪ মাসে মারা গেছেন হেফাজতের দুই আমীর ও দুই মহাসচিব। সংগঠনটির মধ্যমসারির নেতাদের বেশির ভাগই এখন কারাগারে। এই অবস্থায় কী করবে হেফাজত? তা নিয়ে সংগঠনটির ভেতর- বাইরে চলছে নানা আলোচনা । সংশ্লিষ্টরা বর্তমান সময়কে হেফাজতের জন্য কঠিন সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বলছেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ ও সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার মতো মুরব্বি খুঁজে বের করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হেফাজতের সামনে। সবার সঙ্গে আলোচনা করতে সক্ষম হেফাজতে বর্তমানে এমন মুখও দেখা যাচ্ছে না। হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন রাব্বানী মানবজমিনকে বলেন, ‘সারা দেশে হেফাজতের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা। অধিকাংশ নেতা কারাগারে। এরই মধ্যে বছরের মাথায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা মারা গেলেন। মোটকথা কিছুটা হলেও নাজুক অবস্থায় আছে হেফাজত। তবে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’ এদিকে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর থেকে ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মঈনুদ্দিন রুহী, রুহুল আমীন, দেলোয়ার হোসাইন, আবুল হাসনাত আমিনী, আব্দুল জব্বার, মুফতি আব্দুস ছাত্তার, মুফতি নাছির উদ্দিন ও আলতাফ হোসেনসহ অনেকে হেফাজতের আলাদা কমিটি করার বিষয়ে সক্রিয়। তারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব জেলা, থানা, শহর ও নগর কমিটিগুলো নবায়ন করে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। শফীপন্থিরা গতকাল চট্টগ্রামে বৈঠক করেছেন। আজ রাজধানীর শান্তিনগরে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে শফীপন্থি নেতা ও হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, ‘আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সারা দেশের আলেম ওলামাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। কৌশলগত কারণে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’ কওমি ঘরানার মাদ্রাসা প্রধানদের সর্বাত্মক সমর্থন নিয়ে হেফাজতের আমীরের আসনে বসেছিলেন আল্লামা আহমদ শফী। হেফাজতের ওপর একটা সময় পর্যন্ত সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। যদিও মৃত্যুর আগে নিজ মাদ্রাসার ছাত্রদের আন্দোলনের মুখেই দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। এ সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন হেফাজতের আমীর। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায়। পরে গত বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর মারা যান আহমদ শফী। তার মৃত্যুর পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে একটি মামলা এখনো চলমান। এরই মধ্যে আমীরের পদে আসেন প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। বছর না যেতে তিনিও মারা যান। অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বাবুনগরী। এদিকে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মাথায় ২০২০ সালের ১৩ই ডিসেম্বর মারা যান মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। অসুস্থ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হেফাজতে ইসলামের সম্মেলনে মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন নূর হোসাইন কাসেমী। অবশ্য সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগরীর আমীরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কাসেমীর মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী। গত শনিবার অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে গত সোমবার দুপুরে তিনি মারা যান। এশার নামাজ শেষে ঢাকা থেকে তার মরদেহ চট্টগ্রামে নেয়া হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। গত আগস্টে বাবুনগরীর ইন্তেকালের পর হেফাজতের আমীর হন তারই মামা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তার বয়স নব্বইয়ের বেশি। আমীর হওয়ার পর দু’বার তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এদিকে গত মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৭ জন মারা যান। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৯টি মামলা হয়। গত ১১ই এপ্রিল হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ১৮ই এপ্রিল গ্রেপ্তার হন আলোচিত নেতা মাওলানা মামুনুল হক। পরদিন রাতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা ধানমণ্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় যান। হেফাজত নেতারা দফায় দফায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। হেফাজতের বৈঠক আজ নুরুল ইসলাম জিহাদীর মৃত্যুর পর সেদিনই হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয় মাওলানা সাজিদুল ইসলামকে। তিনি ১নং যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এদিকে আজ বিকাল চারটায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বসবেন হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখরাজুল উম্মাহ মাদ্রাসায় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। হেফাজত সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে পূর্ণাঙ্গ করার বিষয় ছাড়াও সারা দেশের হেফাজতের নেতাকর্মীদের নামে মামলা এবং কারাগারে যারা রয়েছেন তাদের নিয়ে আলোচনা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর