বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা ও রোগমুক্তি কামনা করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দোয়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনায় কুমারখালী থানা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল খান খালিদ হোসেনের মৃত্যুতে মেহেদী রুমীর শোক পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা কুমারখালীতে প্রতিবন্ধী যুবতীকে গণধর্ষণ , গ্রেফতার ২ করোনা আক্রান্ত লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন হাসপাতালে করোনায় সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদের মৃত্যু মতিঝিল ও ওয়ারীর সব থানায় ‘এলএমজি চৌকি’ সব রেকর্ড ভেঙে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৮৩

গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষনে চলমান প্রকল্পের পরিবীক্ষন সমীক্ষায় স্থানীয়দের সাতে মতবিনিময় : তোপের মুখে কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

গড়াই পুনরুদ্ধার প্রকল্পের টেকসই ফলাফল জরিপ

গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষনে চলমান প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষসহ সমীক্ষার অংশ হিসেবে এই ড্রেজিং প্রকল্পের স্থায়ী ও টেকসই ফলাফল নিশ্চিতে আরও কোন বিষয় সংযোজনের প্রয়োজন আছে কি না সেসব পরামর্শ ও তথ্য সংগ্রহে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন সেক্টর-৪ আইএমইডি’র পরিচালক(উপ সচিব) খলিল আহমেদের(অন লাইন উপস্থিতি) সভাপতিত্বে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার সেমিনার কক্ষে এই মত বিনিময় ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিলেন আইএমইডি কর্তৃক সমীক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত পরামর্শক সংস্থা ডিপিডিএস লি: এসোসিয়েশন উইথ হলিমো কনসালটেন্সি লিমিটেড। এসময় সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএমইডির পরিবীক্ষন ও মূল্য্য়ান সেক্টর-৪র মহাপরিচালক (ডিজি) মো: আফজাল হোসেন, বিশেষ অথিথি ছিলেন গড়াই নদী ড্রেজিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী(অতি: দায়িত্ব) কেএম জহুরুল হক, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: সালাহ উদ্দিন, ড্রেজিং প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী তাজবির হোসেনসহ গড়াই ড্রেজিং প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ, আইএমইডির সমীক্ষা দলের সদস্যগণ। এবং স্থানীয় সুধীজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যাপক আহসান কবীর রানা, আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক শেহাব উদ্দিন, গনমাধ্যমকর্মী হাসান আলী, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মিলন মন্ডল প্রমুখ। শুরুতে সরকারের ৬শ ২৯ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে(২০১৮-২০২২) চলমান এই গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পর গুরুত্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কতটুকু হয়নি, বাকী কাজ আগামী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে কি না; অথবা কিভাগে সম্পন্ন করা যায় তার সম্ভাব্য দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ মুক্ত আলোচনা ও মতামতের মাধ্যমে আহ্বান করেন প্রধান অতিথি আইএমইডির পরিবীক্ষন ও মূল্য্য়ান সেক্টর-৪র মহাপরিচালক (ডিজি) মো: আফজাল হোসেন। এসময় মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ আহ্বান করে হাউজ ওপেন করে দেয়া হয়। তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত ব্যক্ত করে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মিলন মন্ডল বলেন, “দীর্ঘ ২০/২২ বছর ধরে কুষ্টিয়াতে গড়াই খননের নামে আসলে কি হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা স্থানীয়রা কিছু জানিন। মাঝে মধ্যে ড্রেজার থেকে ব্যারেল ভর্তি তেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হৈ-হট্টগোল হয়, তখন শুনি এসব নানা অনিয়মের কথা। কার্যত: সরকারের এতোবড় একটা প্রকল্প শত শত কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে ঠিকই এর কোন টেকসই ফলাফল আমরা পাচ্ছি না। আপনারা এক বছর নদী কাটা বন্ধ রাখেন, পরের বছরই নদীর বুকে ড্রেজিংএর আর কোন চিহ্ন খুজে পাওয়া যাবে না”। হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন বলেন, আজকে আমরা আপনাদের কাছে জানতে পারলাম যে, ফলপ্রসু ড্রেজিংএ স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ প্রতিনিধি, সুধি সমাজ, ও নদীর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা সম্পৃক্ত তাদের সাথে মতবিনিময় করা আবশ্যক। তারমানে এযাবৎকাল ধরে ড্রেজিং কর্তৃপক্ষ নিজেদের খেয়াল খুশিমতো কাজ করার ফলেই এতো অস্বচ্ছতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেজিং কৃর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃত ভাবেই স্থানীয়দের দুরে ঠেলে রেখে যাচ্ছেতায় অনিয়ম দুর্ণীতি করেছেন নির্বিঘেœ। কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহসান কবীর রানা বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষি, মৎস, জীববৈচিত্র, পরিবেশ ও জলপথ রক্ষা এবং সর্বোপরি খুলনা বিভাগের উপকুলীয় লবণাক্ততার আগ্রাসন থেকে একমাত্র সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন’কে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার প্রধান মিঠা পানির উৎস হলো পদ্মা নদীর শাখা শুধুমাত্র গড়াই নদীর পানি প্রবাহ। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অধিকতর গুরুত্ব বিবেচনায় এনে দীর্ঘদিন ধরেই এখাতে কয়েক সহ¯্র কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে গড়াই নদী খনন ও পূনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে সেটাকে ফলপ্রসু ও টেকসই করতে না পারলে এই প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্যই ব্যহত হবে। পরিবেশবিদ গৌতম রায় ঐতিহাসিক পটভুমি তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কলকাতা নদী বন্দরে জলযান চলাচল ও নাব্যতা সুরক্ষায় ফারাক্কা নির্মাণ করে ভগিরথি ও হুগলি নদীর পানি প্রত্যাহার করে নেয় ভারত। এরফলে বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের পদ্মা ও তার শাখা নদী গড়াই পানি স্বল্পতার মুখে নদীর তলদেশ ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা হারাতে বসে তার জল¯্রােত পূর্ণ যৌবন। আর তলদেশ ভরাট হয়ে সর্বশেষ পেটফুলে ধুধু বালির চর জেগে উঠে গড়াই’য়ের বুক চিরে। বন্ধ হয়ে যায় পানি প্রবাহ। এতে গড়াই সংযুক্ত উপকুলবর্তী রূপসা, বলেশ^র ও পশুর নদীর প্রবহমান মিঠা পানির উৎসের অপমৃত্যু ঘটায় বঙ্গপসাগরের লবনাক্ততা গ্রাস করেছে। বাংলার গর্ব সুন্দরবন পড়ে মহা বিপর্যয়ের মুখে। এ পরিস্থিতির উত্তোরণে হাতে নেয়া ব্যাপক কর্মযজ্ঞ; যা গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প নামে খ্যাত। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী হাসান আলী মোটাদাগের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৮ সালে প্রথম ধাপে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যায়ে গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প (এজজচ) (ঢ়যধংব-ও) এ ক্যাপিটাল ড্রেজিং, পরবর্তীতে ২০০৯ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৫বছর মেয়াদকাল ধরে ৯৪২.১ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যায়ে ২য় ধাপে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে গড়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প (ঢ়যধংব-ওও) এবং সর্বশেষ ৬শ ২৯ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে(২০১৮-২০২২)মেয়াদে গড়াই নদীর ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষনের প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান। এই গড়াই খনন প্রকল্পটিকে প্রকৃত অর্থে টেকসই ও ফলপ্রসু করার ক্ষেত্রে আরও কোন বিশেষজ্ঞ মতামত ও দিক নির্দেশনার প্রয়োজন হলে সেটাও নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান ড্রেজিংএর কোন ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে তার নিরসনে প্রয়োজনে আরও কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নির্দেশনা নেয়া এখন সময়ের দাবি। পরিশেষে এমন ফলপ্রসু আলোচনায় উঠে আসা মতামত ও সুনির্দিষ্ট মরামর্শ পেয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান এবং অংশ গ্রহনকারীদের ভুয়োসী প্রসংশা করেন। ঢাকা থেকে অন লাইনে যুক্ত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মত বিনিমিয়ে উঠে আসা বিষয়গুলিতে চরম ভাবে তোপের মুখে পড়েন ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানসহ ড্রেজিং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ। তবে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান চলমান গড়াই নদী ড্রেজিং প্রকল্পের নানা সুবিধা দিক তুলে ধরে নিজের স্বপক্ষ বক্তব্য রেখে মতবিনিময় ও কর্মশালার সমাপ্তি টানেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর