বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা ও রোগমুক্তি কামনা করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দোয়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনায় কুমারখালী থানা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল খান খালিদ হোসেনের মৃত্যুতে মেহেদী রুমীর শোক পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা কুমারখালীতে প্রতিবন্ধী যুবতীকে গণধর্ষণ , গ্রেফতার ২ করোনা আক্রান্ত লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন হাসপাতালে করোনায় সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদের মৃত্যু মতিঝিল ও ওয়ারীর সব থানায় ‘এলএমজি চৌকি’ সব রেকর্ড ভেঙে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৮৩

সোনারগাঁয়ে অবরুদ্ধ মামুনুল হককে ছাড়িয়ে নিলো হেফাজত কর্মীরা

ঢাকা অফিস / ১৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩০ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার ঘটনা নিয়ে তুলকালাম কা ঘটেছে। স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। খবর পেয়ে হেফাজতের শত শত কর্মী-সমর্থক ওই রিসোর্ট ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে রিসোর্টে ভাঙচুর চালায় তারা। পরে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ সময় উল্টো প্রশাসনের লোকজনও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা সটকে পড়েন। বিক্ষুব্ধ হেফাজতকর্মীরা মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সোনারগাঁয়ের অভিজাত হোটেল রয়েল রিসোর্টে। দুপুরের পর মামুুনুল হক তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর রুমে উঠেন। বিকালের দিকে আকস্মিকভাবে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ওই রুমে যান। তারা জোরপূর্বক রুমের ভেতর ঢুকে মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীর পরিচয় জানতে চান। একটি ভিডিওতে মামুনুল হককে বলতে শোনা যায়, তার সঙ্গে থাকা নারীর নাম আমিনা তাইয়্যেবা। ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি খুলনাতে বিয়ে করেছেন দুই বছর আগে। তার শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম বলে জানান মাওলানা মামুনুল হক। কিন্তু এটা মানতে রাজি হননি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উপস্থিত নেতাকর্মীরা। তারা মামুনুল হকের কাছে বিয়ের কাবিন দেখতে চান। তখন মামুনুল হক বলেন- আমি তোমাদের সব কথার উত্তর দেবো না। এক পর্যায়ে মামুনুল হককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশারফ হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম মোস্তফা মুন্না ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এদিকে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে হেফাজতের শত শত কর্মী- সমর্থক রয়েল রিসোর্ট ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে মাগরিবের নামাজের পর তারা হামলা চালায় রয়েল রিসোর্টে এবং মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে জিম্মিদশা থেকে ছিনিয়ে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ হেফাজতকর্মীরা ব্যাপক ভাঙচুর করে রয়েল রিসোর্টের ভেতর। এদিকে রয়েল রিসোর্টে হেফাজতের কর্মীদের ভাঙচুরের ঘটনায় উল্টো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশারফ হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম মোস্তফা মুন্নাসহ সরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা। মামুনুল হককে উদ্ধার করার পর হেফাজতের কয়েক শ’ কর্মী- সমর্থক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করে সোনারগাঁ থানা ঘেরাও করার উদ্যোগ নেয়। এসময় একটি হ্যান্ড মাইকে মামুনুল হক নেতাকর্মীদের শান্ত হতে বলেন। এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বারণ করেন। তিনি বলেন, আমি প্রমাণ করবো আমার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। তাছাড়া স্ত্রীকে নিয়ে আমি যেখানে সেখানে ঘুরতে যেতে পারি। কিন্তু ছাত্রলীগ-যুবলীগের উচ্ছৃঙ্খল লোকজন আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেছে। আমি আইনগতভাবেই বিষয়টি দেখবো। পরে হেফাজতের লোকজন মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে মোগরাপাড়া হাবিবপুর ঈদগাঁ মাঠে জমায়েত হন। সেখানে হেফাজতের নেতারা বক্তব্য রাখার পর রাত সোয়া ৮টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে মামুনুল হক ও তার স্ত্রীকে তুলে দেয়া হয়। তারা ঢাকার দিকে চলে যান। মামুনুল হক চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মহাসড়কের একটি বাস ও একটি ট্রাকে আগুন দেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে পুলিশ দাবি করেছে, তারা মামুনুল হককে ছেড়ে দিয়েছেন। আর হেফাজতের নেতাকর্মীরা বলছেন তারা জিম্মিদশা থেকে মামুনুল হককে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে গেছেন। বরং হেফাজতের হাজার হাজার লোকজনের কাছে অসহায় ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে প্রশাসন। অপরদিকে হেফাজতের স্থানীয় ও জেলার নেতারা দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এবং নাটকীয় ঘটনার আগে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দিয়ে নিয়ে আসে। হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান জানান, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক দু’টি বিবাহ করেছেন। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে শনিবার সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এসেছিলেন। পরে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী তাকে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে মামুনুল হকের পরনে থাকা জামাটিও ছিঁড়ে গেছে। সোনারগাঁ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) তাবিদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর