বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা ও রোগমুক্তি কামনা করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দোয়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনায় কুমারখালী থানা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল খান খালিদ হোসেনের মৃত্যুতে মেহেদী রুমীর শোক পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা কুমারখালীতে প্রতিবন্ধী যুবতীকে গণধর্ষণ , গ্রেফতার ২ করোনা আক্রান্ত লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন হাসপাতালে করোনায় সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদের মৃত্যু মতিঝিল ও ওয়ারীর সব থানায় ‘এলএমজি চৌকি’ সব রেকর্ড ভেঙে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৮৩

কুমারখালীতে গভীর রাতে স্কুল ভবন বিক্রি করলো শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন

ভবন বিক্রির টাকা গেলো শিক্ষা অফিসারের বিকাশে

রেজুলেশন, দরপত্র আহবান ও কোন প্রকার নিয়মনীতি ছাড়াই কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শানপুকুুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে এ স্কুল ভবন বিক্রির বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন ও প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এনিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় চলছে।তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেছেন উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেলিনা খাতুনের নির্দেশে ঘর বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রিত টাকার ১৩ হাজার ৯০০ টা বিকাশের মাধ্যমে এটিও স্যারকে পাঠানো হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে পুনরায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেন অভিযুক্ত সেই এটিও। স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৬ মার্চ) রাতের আঁধারে সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও তার লোকজন প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভবন মাত্র ১৪ হাজার টাকায় শানপুকুড়িয়া গ্রামের মৃত মোবারকের ছেলে বাচ্চুর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। বাচ্চু তার লোকজন দিয়ে সারারাত বিদ্যালয়ের ভবনের ইট, বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও ছাউনির টিন ভেঙে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন ভবনটির ক্রেতা শানপুকুড়িয়া এলাকার বাচ্চুর বাড়িতে টিন, পুরাতন ইট, সিমেন্টের খুঁটি, বাঁশসহ অন্যান্য মালামাল স্তুপ করা রয়েছে। এ ব্যাপারে বাচ্চু বলেন, সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ ও প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে আলোচনা করে আমি এ ভবন ১৪ হাজার টাকায় কিনেছি। অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, এটিও স্যারের নির্দেশে ১৪ হাজার টাকায় ঘর বিক্রি করে ১৩ হাজারর ৯০০ টাকা এটিও স্যারকে দিয়েছি।বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি জানে।নিজের ভুল স্বীকার করে মাপ চেয়ে তিনি আরো বলেন, ঝামেলা হওয়ায় এটিও স্যার পুনরায় টাকা বিকাশে ফেরত দিয়েছে, বর্তমানে টাকা আমার কাছে আছে।বিষয়টি সমাধানের জন্য মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সভাপতির বাড়িতে বসাবসি করেছি।আর এটিও স্যারের সাথে সম্পর্ক ভাল হওয়ায় মাঝেমাঝে টাকা লেনদেন করার কথাও জানান সহকারি শিক্ষক হারুন অর রশিদ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ৭ই মার্চ সকালে স্কুলে গিয়ে ভবন ভাঙা দেখতে পাই।পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ স্কুলের পুরাতন ভবন বিক্রয় করেছে। আমার অবর্তমানে তিনি একাই পুরাতন ভবনটি বিক্রি করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, আমি তার শাশিÍর দাবি জানাচ্ছি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও চাঁপড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মনোয়ার হোসেন লালন বলেন, স্কুলের পুরাতন ভবন বিক্রয় করতে হলে ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন ও নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিক্রয় করতে হয়। অথচ সহকারী শিক্ষক হারুন আমাদেরকে না জানিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে এ ভবন বিক্রয় করে টাকা এটিও ম্যাডামকে বিকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শানপুকুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন বিক্রয়ের বিষয়ে আমি কোনো কিছু জানিনা। সহকারী শিক্ষক রাতারাতি এ ভবন বিক্রয় করেছে।সে দোষ স্বীকার করে মাপ চেয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমারখালী নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। কুমারখালী শিক্ষা অফিসার ও কুমারখালী থানা পুলিশের ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানিয়েছি। তারা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, তবে বিষয়টি অবগত হয়েছি। লিখিত পেলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা খাতুন বলেন, পুরাতন ভবন অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ এর বিরুদ্ধে শানপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের সভাপতি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করেছি।বিক্রিত টাকা বিকাশে গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, সহকারি শিক্ষক হারুন আমার কাছ থেকে জমি রেজিস্টারি করার জন্য টাকা ধার নিয়েছিল, ধার শোধ হিসেবে ১৩ হাজার ৯০০ টাকা বিকাশ করেছিল।তিনি আরো বলেন, ভবন বিক্রির টাকা কিনা আমার জানা নেই,তবে হারুনকে আবার বিকাশেই সেই টাকা ফেরত দিয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত চলছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষককে শোকজ করার জন্য ক্লাস্টার্ড এটিও কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর