সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

২৬শে মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি

অনলাইন ডেস্ক: / ১৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে আগামী ২৬শে মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা পরীবাগে ব্যারিকডে নিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে নাগরিক সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্য রওয়ানা হন। কিন্তু পরীবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় পুলিশ লোহার বক্স ও বাশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পদযাত্রা আটকে দেয়। পরে সেখানেই জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ অন্যান্যরা ২৬ শে মার্চের ভেতরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে সমাবেশ শেষ করেন।
কারা হেফাজতে লেখক মুশতাক আহমেদসহ সকল হত্যার বিচার, ভিন্নমত-সমালোচনা-গণমাধ্যম দমানোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করেছিল বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ তাদের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল।

এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে সকাল ১১টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তারা না আসাতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। আর কামাল হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনানো হয়।
সমাবেশে নাগরিক ঐক্যর মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটা লোক একটা লেখার কারণে জেল খানার মধ্যে মারা গেছে। কি অসুখ হয়েছে আমরা জানি না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই উনি মারা যাবে কেন। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্য বলেছেন একটা লোক মারা গেলেই এত হইচই করেন কেন। লোকের অসুখ বিসুখ হবে না, মরবে না। এখন ওনি কেন বাসা থেকে বের হন না সেটা আমি জানি না। কিন্তু ওনি করোনাকে খুব ভয় পান। এতোগুলো লোক ওনার কাছে যাবে তাই তিনি পুলিশকে বলে রেখেছেন মৎস্যভবন এলাকায় তোমরা দাঁড়িয়ে যাও। ওরা যেন আসতে না পেরে। আইজিপি কয়েকদিন আগে বলেছেন, পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়। এখন আমি আইজিকে বলতে চাই, এই যে পুলিশরা মৎসভবন এলাকায় দাঁড়ালো তারা কি আমাদের পক্ষে? আমরা যেনো ওদিকে যেতে না পারি এজন্য তারা ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তিনি বলেন, আমরা সবাই চাই গণতন্ত্রের পথে, আন্দোলনের পথে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে যেই বাধা আসবে সেই বাধা গুড়িয়ে দিবো।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশে করে বলেন, ভারতীয় ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার পরিবেষ্টিত হয়ে অন্ধকার ঘরে থেকে আপনি আত্মরক্ষা করতে পারবেন না। আপনাকে আপনার পিতার বাণীটাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ‘আর দাবাইয়া রাখবার পারবা না’ চারদিকে তাকিয়ে দেখুন ক্রমেই জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আজকে কিশোরকে জামিন দেয়া হয়েছে। তার জামিনে খুব বেশি খুশি হয়েছি, উনার বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এজন্য ওনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে এই রায় অসম্পূর্ণ রায়। যারা সংবিধান ভঙ্গ করেছেন সেই র‌্যাব, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেননি। এটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সংবিধান ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, কিশোরকে আজ মুক্তি দেয়া হয়েছে তাই কিছুটা আনন্দিত আমি আবার চিন্তিতও বটে। কারণ কিশোরের ডায়বেটিস ও পায়ে সমস্যা হয়েছে। মুশতাক মারা যাওয়ার আগে বলেছিল আমাকে নিয়ে চিন্তা করোনা কিশোরের কথা চিন্তা করো। দেরীতে হলেও তার সুচিকিৎসা না হলে পা কাটা যেতে পারে। জামিন পেয়েও জীবনের প্রতি সংশয় রয়ে গেছে। আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, কোন লুকোচুরি নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে দিতে হবে। তা না হলেও কবরে লুকিয়ে আপনারা আত্মরক্ষা করতে পারবেন না। যদি বাঁচতে চান তাহলে এই আইন সংস্কার নয় বাতিল করে দেন।
বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অভিমুখে পদযাত্রা শুরু হলে প্রথমেই কদম ফোয়ারা এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। ব্যারিকেড ভেঙ্গে পদযাত্রাটি মৎস ভবনের দিকে যায়। সেখানে পুলিশ আবার ব্যারিকেড দেয়। পরে সেখান থেকে শাহবাগ মোড়ে ফের পুলিশ পদযাত্রাটি আটকানোর চেষ্টা করে। সেখানেও পুলিশ ব্যর্থ হলে পরীবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিন্টোল এলাকায় পদযাত্রা আটকানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর