সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

‘রডের বদলে বাঁশের কাবারি’ আলোচিত মামলায় ৪জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে কেটে গেলো ৫বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

নানা বাধা অতিক্রম করে দীর্ঘ ৫বছর পর ‘রডের বদলে বাঁশের কাবারি’ শিরোনামে দুদকের করা আলোচিত সেই মামলায় অবশেষে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্য গঠন করেছেন আদালত। সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলামের আদালতে ৪আসামীর উপস্থিতি এবং ঊভয় পক্ষের কৌশুলীর যুক্তি তর্কের মধ্যদিয়ে আদালত ৪ আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বলে নিশ্চিত করেন দুদকের কৌশুলী আল-মুজাহিদ মিঠু। এর মধ্যদিয়ে দুদকের করা চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির বিচার কার্যক্রশুরু হলো বলেও জানালেন এই কৌশুলী। অভিযোগ আমলে নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে চার্যগঠন করা হলো তারা হলেন-১. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ইন্টা: লি: এর স্বত্ত্বাধিকার মনির হোসাইন, ২. প্রকল্প উপকরণ ক্রয় কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আয়ুব হোসেন, ৩. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের ভৌত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন। এবং ৪. ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স কনসোর্টিয়াম লি: এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুস সাত্তার। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০জুনে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলায় দর্শনা পৌর এলকার কলেজ পাড়ায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীণ ‘ফাইটোসেনেটারী ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে’র অবকাঠামো নির্মাণকালে নির্ধারিত ডিজাইন লঙ্ঘন, ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করে রডের বদলে বাঁশের কাবারি ব্যবহার করে ছাদ ঢালায় করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজস করে দূর্ণীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নিজে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারর ২কোটি, ৪২লক্ষ, ৩৮হাজার ২শ ২৭টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধনসহ সরকারের উন্নয়ন ভাবমুর্তিকে বিনষ্ট করেছেন বলে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। ষিবয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এঘটনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিনিয়র মনিটর ও ইভ্যুালুয়েশন প্রকল্পের পরিচালক মেরিনা জেবুন্নাহার বাদি হয়ে নির্মাণাধীন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ১১এপ্রিল দামুরহুদা মডেল থানায় দ:বি: ৪০৬/ ৪১৮/ ৪২৭ ধারায় মামলা করেন। পরে থানায় করা এই মামলাটি দুদক আইনে রূপান্তরিত হয়ে দুদক কুষ্টিয়া সমন্বিত কার্যালয়কে তদন্তভার ন্যাস্ত করা হয়। তদন্ত শেষ করে ২০১৮সালের ২০ নভেম্বর আদালতে চার্যশীট দেয় দুদক। দুককের কৌশুলী এ্যাড আল-মুজাহিদ বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষ করে প্রায় আড়াই বছর পূর্বে দাখিল এই অভিযোগ পত্রে আনীত অভিযোগে জড়িত ও দোষীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনেও সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। একদিকে ছিলো না নির্ধারিত কোর্ট, অন্যদিকে গেলো বছর পুরোটাই করোনা সংকটে আটকে ছিলো বিচারিক এই প্রক্রিয়াটি। তবে এখন খুব শীঘ্রই মামলাটির বিচারিক প্রকিয়া সম্পন্নের কাজটি শেষ হবে। বিজ্ঞ আদালত চার্জ শুনানীর সময় বিবাদী পক্ষের কৌশুলী হিসেবে যুক্তি তর্কে অংশ নেন এ্যাড. হাসানুল আসকারী হাসু, আসাদুজ্জামান খান ও আবু জাফর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর