বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা ও রোগমুক্তি কামনা করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দোয়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনায় কুমারখালী থানা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল খান খালিদ হোসেনের মৃত্যুতে মেহেদী রুমীর শোক পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা কুমারখালীতে প্রতিবন্ধী যুবতীকে গণধর্ষণ , গ্রেফতার ২ করোনা আক্রান্ত লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন হাসপাতালে করোনায় সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদের মৃত্যু মতিঝিল ও ওয়ারীর সব থানায় ‘এলএমজি চৌকি’ সব রেকর্ড ভেঙে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৮৩

খুলনায় বিএনপির সমাবেশে বক্তারা : আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকার উৎখাত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে

খুলনা অফিস / ২৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোন দিন জনগণের ভোটে জয়লাভ করতে পারেনি। ৭৩ সালেও শেখ মুজিবর রহমানের খুনি মোস্তাককেও ভোট ডাকাতি করে জেতাতে হয়েছিল। এখন বিনাভোটে যাদেরকে এমপি বানিয়েছেন তারাও আপনার সাথে বেঈমানি করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি স্বরণার্থীর দল। ৭১ সালে ওরা ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল। আর আমরা শহীদ জিয়ার নির্দেশে মাঠে ময়দানে যুদ্ধ করেছি। শহীদ জিয়ার অর্জন কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগ সুযোগ পেলে শহীদ জিয়ার নাগরিকত্বও কেড়ে নেবে। তিনি বলেন, ভোট ডাকাতের সিইসি ট্রাম্পকে নির্বাচনী কৌশল শিখাতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা অনেক ডিগ্রি অর্জন করেছে, ভোট ডাকাতির জন্য একটি ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া উচিৎ। আওয়ামী লীগ না করলে শহীদ জিয়া ও শাহজাহান ওমরের মতো বীর উত্তমরাও রাজাকার হয়ে যাবেন। এত অত্যাচার-নির্যাতনের পরেও যদি আপনারা নিরব থাকেন তাহলে এ দেশ ও জাতীর অস্তিত্ব থাকবে না। ভুটান সিকিমের মতো হবে। এরা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। আওয়ামী লীগ ইয়াবা, ধর্ষণ ও ক্যাসিনো দলে পরিণত হয়েছে। তিনি এ লুটেরাদের কাছে দাবি জানিয়ে বা আলোচনা করে লাভ নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই এদেরকে উৎখাত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশের ছয় সিটিতে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের নেতৃত্বে পূর্ব ঘোষিত মহাসমাবেশের দ্বিতীয় কর্মসূচির দিন গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত খুলনা বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

সকাল থেকেই পুলিশের বাধা উপক্ষো করে সমাবেশস্থলে আসা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করলে দুপুরে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর ২ টা ৩৯ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশী বেষ্টনীর মধ্যে মহাসমাবেশ শুরু করে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি। মহাসমাবেশের কুরআন তিলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল গফ্ফার। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথ উদ্যোগে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিএনপি মনোনীত কেসিসি মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগরী সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চোধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক হুইপ এম মশিউর রহমান ও হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব বরিশাল সিটির মেয়র প্রার্থী মুজিবর রহমান সরোয়ার ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, চট্টগ্রামের ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তরের তাবিথ আওয়াল ও ঢাকা দক্ষিণের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দীন, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, সেকেন্দার জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আমীর এজাজ খান, শফিকুল আলম তুহিন, আজিজুল ইসলাম দুলু প্রমুখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, লুটেরারা জুট মিল, চিনির কল সব বন্ধ করে দিয়েছে। ছাত্রলীগ নামের লুটেরারা ৫ হাজার একর জমির মালিক হয়েছে। চোরাই মেয়র, চোরাই এমপি ভোট দেখলেই ভয় পায়। তিনি বলেন, এই বছরই পরিবর্তনের বছর। এই বছরই জনতার প্রধানমন্ত্রীর বছর। এই বছরই তারেক রহমান ফিরে আসবে। এ জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হতে হবে। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার হরণ করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করেছে। প্রশাসনের লোককে ঘুষ দিয়ে নির্বাচন করেছে। ব্যাংক, শেয়ার বাজার ও পদ্মা সেতুর টাকা লুট করেছে। তিনি মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের কথা উল্লেখ করে বলেন কোথায় আপনার বেয়াই, সময় হলে ওকে খুঁজে বের করা হবে। এম মশিউর রহমান বলেন, শহীদ জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা যখন যুদ্ধ করেছি, তখন আওয়ামী লীগ নেতারা ভারতে গিয়ে ফূর্তি করেছে। শহীদ জিয়ার পাথরে লেখা নাম মুছতে পারবেন কিন্তু এদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে লেখা নাম মুছতে পারবেন না। তিনি শাহজাহান খানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় মুজিবের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাতে চেয়েছিলেন। হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ১৮ রুটে পরিবহন ধর্মঘট ঘোষণার পরেও সমাবেশ সফল হয়েছে। এ লজ্জা এখন কোথায় রাখবেন। যে কোন মুহূর্তে জনগণ গণপিটুনি দিয়ে সরকারের পতন ঘটাবে। মুজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, গণতন্ত্র বাদ দিয়ে উন্নয়ন হতে পারে না। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জনযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এটা কোন একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। তিনি বলেন, মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) । এ ছাড়া আমাদের আর কোন পিতা নাই। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে বলেন, নর্তকী নিয়ে ফূর্তি করেন। সব হিসাব রাখা হচ্ছে, সময় বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রশাসনের উদ্দেশ্য করে বলেন, ভোট চোরদের রক্ষা করবেন না। দালাল নির্বাচন কমিশনার, মির্জাফর তৈরী করা নির্বাচন কমিশনার চাই না। স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই। ডা. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সমাবেশে আসতে পদে পদে বাধা দিয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ একটি পুলিশী রাষ্ট্র। ইভিএম একটি ভোট চুরির মেশিন। ধানের শীষে ভোট দিলে নৌকা হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ একটি যন্ত্র, রাজাকার ঢুকলে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায়। তাবিদ আওয়াল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। এই মাফিয়া সরকারের পতন ঘটিয়ে এ সব কালো আইন বাতিল করা হবে। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, সমাবেশে আসতে পথে পথে আমাকে বাধা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ব্যারিকেট দিয়ে সমাবেশে আমাকে যখন ঢুকতে বাধা দেয়, তখন আমি বলি লাঠিচার্জ করেন বা গুলী করেন। তারপরও আমি সমাবেশে যাব। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে লেখক মুশতাক প্রায় ১০ মাস কারাভোগের সময় মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যার দায় সরকারেই নিতে হবে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও এ লুটেরা সরকারের পতন ঘটনাতে হবে। এ জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান। সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শেখ হাসিনা খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট ডাকাতিকে সারা দেশে মডেল হিসাবে চালু করেছে। তিনি জাতী সংঘের তত্বাবধায়নে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর