বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে জিকে ক্যানেল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা ও রোগমুক্তি কামনা করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দোয়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনায় কুমারখালী থানা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল খান খালিদ হোসেনের মৃত্যুতে মেহেদী রুমীর শোক পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা কুমারখালীতে প্রতিবন্ধী যুবতীকে গণধর্ষণ , গ্রেফতার ২ করোনা আক্রান্ত লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন হাসপাতালে করোনায় সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদের মৃত্যু মতিঝিল ও ওয়ারীর সব থানায় ‘এলএমজি চৌকি’ সব রেকর্ড ভেঙে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৮৩

করোনা সংকটেও থেমে নেই বেগম হামিদা সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

করোনার মতো মরণব্যাধির মধ্যেও থেমে নেই কোচিং বাণিজ্য। বাংলাদেশ সরকারী নিয়ম অনুযায়ী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।তারপরেও সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মিত প্রাইভেট পড়াচ্ছেন কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বেগম হামিদা সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আনিচুর রহমান।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে স্কুলের কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে একসাথে অর্ধশত ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে গাদাগাদি করে সকাল থেকে পৃথকভাবে ৪ টি ব্যাচ পড়াতে শুরু করে শিক্ষক আনিচুর রহমান।করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও থেমে নেই তার প্রাইভেট সেন্টার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীরা জানায়, পরিক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে বাধ্য করছে তার কাছে প্রাইভেট পড়তে আসতে।এমনি অভিযোগ সহমত প্রকাশ করছে ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকেরা।অবিভাবকরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে আর্থিক সংকটে আছে অনেকে। সংসারের নিয়মিত খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন অধিকাংশ অবিভাবক। এমন পরিস্থিতিতে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের বাচ্চাদের। অবিভাবকেরা বলেন, সরকার যেখানে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাইভেট কোচিং বন্ধ রেখেছেন। তারপরেও কেন স্কুলের শিক্ষদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হবে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি টাকা খরচ করে ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট পড়ানো আমাদের জন্য কষ্টকর।

স্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। একই সঙ্গে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ।শিক্ষক নামধারী কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি কোচিং বাণিজ্য করে অবিভাবকদের বেকায়দায় ফেলে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের এই কৌশল বন্ধের দাবি জানিয়ে অবিভাবকরা বলেছেন, স্কুলের যে সব শিক্ষকরা প্রাইভেট কোচিং করান তাদের সবাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তারা ক্লাসে ঠিকমতো না পড়িয়ে প্রাইভেট কোচিং এ ব্যস্ত। শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা যেন এই শিক্ষকের প্রাইভেট সেন্টারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। করোনার মধ্যে আর্থিক সংকটেও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে।বরিয়া গ্রামের একজন দোকানের ব্যবসায়ী বলেন, আমার ছেলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। তার স্কুলের শিক্ষক আনিচুর রহমান স্কুলের বাইরে প্রাইভেট করান। করোনার কারণে তারা একদিনও প্রাইভেট সেন্টার বন্ধ করেনি। করোনার মধ্যেও আমার ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে মাসে ৫০০ শত টাকা দিয়েছি। স্যারের কাছে পড়তে না গেলে রেজাল্ট ভালো দেইনা। আমার ছেলেসহ তার অনেক বন্ধু স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে ভালো বুঝতে পারছে না। কিন্তু কি করবো? স্যারের কাছে না পড়লে রেজাল্ট ভালো হবে না তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট পড়তে দিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তাদের পড়ার টাকা যোগাড় করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলেন, কোচিং নিয়ে এই বাণিজ্য করা উচিত নয়। যে স্যারেরা এই কাজ করছে তারা অমানবিক আচরণ করছে। সরকারের উচিত এখনই এই বাণিজ্য বন্ধ করা। ছাত্রছাত্রী ও অবিভাবকদের প্রয়োজনে এসকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়া উচিত।

এমনই অভিযোগে একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য চাপ দেয়া কত টুকু যুক্তি রয়েছে এই বিষয়ে আনিচুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুটোফোনে বলেন সকলেই তো প্রাভইেট পড়াই। তাই আমি সীমিত পরিসরে পড়াচ্ছি। এবং তিনি এবিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বলেন।

এবিষয়ে বেগম হামিদা সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম মুটোফোনে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এভাবে প্রাইভেট কোচিং করানোর কোন নিয়ম নেই। এবং একজন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস ব্যাতিত বাহিরে প্রাইভেট পড়ানো আইনের পরিপন্থী।এই বিষয়ে আমার জানা ছিলোনা এখন জানতে পারলাম। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর