শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৮:০১ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে কাঁচা টমেটো

দৌলতপুর প্রতিনিধি : / ৩৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৮:০১ অপরাহ্ন
ছবি : কেমিক্যাল মেশানো টমেটো।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ক্ষতিকারক বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে অপরিপক্ক কাঁচা টমেটো। রাইপেন নামক বিষাক্ত কেমিক্যাল কাঁচা সবুজ টমেটোতে স্প্রে করে লাল করা হচ্ছে। আর লাল করা এসব কাঁচা টমেটো কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। উপজেলার আদাবাড়িয়া ও বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে প্রকাশ্যেই জীবন নাশক এমন কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে অবাঁধে ও নির্বিগ্নে।
দৌলতপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৫০হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। যার অধিকাংশই আদাবাড়িয়া ও বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। অতিলাভের আশায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত অপরিপক্ক টমেটোতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে বিভিন্ন আড়তে বিক্রয় করছে। আবার ক্ষেত থেকে কাচা টমেটো ক্রয় করে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই কেমিক্যাল স্প্রে করে তা রৌদ্রে শুকিয়ে ঢেকে রেখে লাল করে স্থানীয় বাজার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।
আদাবাড়িয়া ও বোয়ালিয়া ইউনিয়নের সবজি মাঠে গিয়ে কৃষক ইয়ারুল হাসান, বকুল হোসেন, আবু সাঈদ, আলতাফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও ক্রেতা ইয়ার আলীকে এসব কাজে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। তারা ক্ষেত থেকে কাচা টমেটো তুলে মাঠের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে স্তুপ করে তাতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে লাল করে সবজি ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করছেন। আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা বাজার ও বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা বাজার সহ বিভন্ন বাজারে কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ীদের অবাঁধে এসব কেমিক্যাল বিক্রয় করতেও দেখা গেছে। তবে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে টমেটো পাকানোর ঘটনা প্রকাশ্যে ও নির্বিগ্নে ঘটলেও প্রশাসনের নেই কোন নজরদারি। আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তোকালা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে বা আশপাশের মাঠে প্রতিদিন এমন কর্মযজ্ঞ চললেও পুলিশ থাকেন নির্বিকার ও নিশ্চুপ। এলাকাবাসীর দাবি ক্যাম্পের পুলিশকে ম্যানেজ করে এমন অবৈধ কর্মকান্ড চালায় ব্যবসায়ীসহ কৃষকরা। তবে তেকালা ক্যাম্পের পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের এ ধরণের অপরাধ না করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেকালা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্য বলেন, আমি নিজেও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে থাকি। শুধু এবছরই নয় এমনিভাবে প্রতিবছর স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশকে ম্যানেজ করে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর কাজ করে থাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। পার্শ্ববতী ধর্মদহ গ্রামের আরব আলী নামে এক যুবক জানান, তেকালা ক্যাম্পের পুলিশকে নগদ দুই হাজার টাকা দিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে টমেটোর রং লাল করে বিক্রয় করছি। তবে পুলিশের টাকার দাবি ছিলো আরও বেশি। এছাড়াও পুলিশ সহ সকলকে ম্যানেজ করার জন্য একটি চক্র কৃষকের কাছ থেকে বস্তা প্রতি টাকা আদায় করে থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টমেটোতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানোর বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিক না মেশাতে কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারি না। এছাড়ও বেশ দূরবর্তী হওয়ায় ওইসব এলাকায় নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয় না। আবার অনেকেই এমনকাজ করছেন সচেতনতার অভাবে।
এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে ভেজাল ও দূষণ রোধ কল্পে মাঠ পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘খাদ্যের নিরাপদতা শীর্ষক সেমিনার’ টমেটোতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানোর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এনিয়ে সচেতন মহলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর