সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে গিয়ে দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৩৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ইবির কর্মকর্তারা। ছবি : সংগৃহীত

বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতিসৌধে হট্টগোলের পর এবার বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত বাংলা ভাস্কর্যে কর্মকর্তাদের দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের দুজন আহত ও কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশানের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতীক বেলুন উড্ডয়ন কর্মসূচীর পর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাখা ছাত্রলীগ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের করে।

এক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের একাংশের সংগঠন অফিসার্স অ্যসোসিয়েশন ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ অফিসার ইউনিট একসঙ্গে ফুল দিতে আসে। এ সময় একাধিক কর্মকর্তা জুতা পায়ে বেদিতে ওঠায় প্রতিবাদ করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। তাদের সাথে কর্মকর্তা সমিতির সদস্যরাও প্রতিবাদ জানাতে গেলে কর্মকর্তাদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যয়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক থেকে বাঁশের লাঠি নিয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের ফুল মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে ও পদদলিত হয়। কর্মকর্তাদের থামাতে গেলে কয়েকজন শিক্ষকও লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মারামারি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের নিরব ভূমিকায় থাকতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

এক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের এক পক্ষ অপর পক্ষকে লাঠিসোঠা নিয়ে ধাওয়া দিলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত কয়েকজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম, আজিজুর রহমান, কর্মচারী সোলাইমানসহ আরো কয়েকজন। পরে এ ঘটনার জন্য সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান কর্মচারী ও কর্মকর্তা নেতারা।

বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে এ ধরণের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রমৈত্রী। সংগঠনদুটির নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যারা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তারা যেই হোক মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা লালন করেনা উল্লেখ করে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

মারামারীর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বম্মণ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসান ও প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে তাদেরকে (কর্মকর্তাদের) শান্ত থাকার জন্য বলা হলেও তারা শোনেনি। এর বেশি কিছু বলার নাই।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে মুক্ত বাংলায় পুষ্পমাল্য প্রদানকালে একদল লোক অনাকাক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছে। এ ধরণের পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের এই আচরণকে অনভিপ্রেত এবং শহীদরে প্রতি অবমাননার শামিল বলে আমি মনে করি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর