শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

কুষ্টিয়ায় ঘাতক ট্রাক্টর কেরে নিল হতভাগ্য এক কৃষকের পরিবারের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ২৬৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

ট্রাক্টরের চাকায় কৃষক রবিউলের সংসার যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। সারাদিনের কৃষি কাজের টাকা দিয়ে চলছিল ৪ সদস্যের সংসার। টানাপোড়ানোর লেগেই থাকতো সংসারে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো তাদের। এর মাঝেও ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে কোরআনে হাফেজ বানিয়েছেন। ছেলেকে আরো শিক্ষিত করার স্বপ্ন বুনে সে। স্ত্রীর কষ্টের মাঝেও যেন কোন আক্ষেপ নেই।

গতকাল বুধবার বিকেলে লাশ যখন দাফন করার প্রস্তুতি চলছিল তখন বাড়িতে শোকের মাতম চলছিল। পরিবার ওআত্মিয় স্বজন শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছে ফারুকের প্রিয় মুখের দিকে। মা বাবা বাকরুদ্ধ। কি হবে আগামি দিন গুলোতে। সব কিছুই যেন আজ শেষ হয়ে গেল। এভাবেই শেষ হল একটা কৃষক পরিবারের আগামী দিনের সব স্বপ্ন। শত চেষ্টা করেও কেউ পারবে কি কৃষকের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন পুরন করতে? সেটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতেই বলে দিবে।

গতকাল বুধবার সকাল ১১টা। কুষ্টিয়া ইবি থানার মনোহরদিয়া গ্রামে কে জানতো দানব ট্রাক্কর মহুর্তে কেড়ে নিবে তাজা প্রাণ।
হাফেজ পাস করার পর করোনাকালীন সময় বাড়িতে বাবার কাজে সহযোগিতা করতো ফারুক।
ঘটনার সময় সে মাঠে বাবার ভাত দিয়ে বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌচ্ছানো মাত্র অবৈধ্য দানবরুপী ট্রাক্টরটি কৃষি জমি থেকে মাটি নিয়ে ভাটায় যাচ্ছিল ওই গাড়িতে উঠতে গিয়ে ছিটকে পড়ে হাফেজ ফারুক । আর মহুর্তে চাকায় পিষ্ট হয় সে।

ঘটনার কথা বর্ননা করে ডুকরে কেঁদে উঠে ফারুকের সহপাঠী ও চাচাত ভাই তারেক বিন সালমান। সব শেষ। এভাবেই শেষ হয়ে গেল ফারুকের জীবন প্রদীপ। সাথে সাথে পরিবারটাও নিঃস্ব হয়ে গেল। কিভাবে শান্তনা পাবে ওর বাবা মা। এসব অনুমোদনহীন যানবাহন প্রতিনিয়তই কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ গুলো। কিন্তু রাস্তা চলাচলের অনুমতি না থাকলেও কিভাবে চলে এসব নছিমন, করিমন,ভটভটি, ট্রলি আর ট্রাক্কর ?

এ অদৃশ্য চলাচলের অনুমতি দেয়া প্রশাসনেই পারেন বন্ধ করতে। কিন্তু কেমন করে বন্ধ হবে। মোটর সাইকেল চালাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগে অথচ এসব যানবাহন চালাতে তা লাগেনা। অদক্ষরাই প্রতিনিয়ত সড়কে মৃত্যুর মিছিল বানাচ্ছে আর প্রশাসন নীরব। ফারুক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মনোহরদিয়া ইউনিয়নের কনদরপদিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের পূত্র। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত কয়েক শতক বসতভিটেই রবিউলের স্ত্রী ছেলে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চত করে বলেন, এই ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তাই ময়না তদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর