রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

কুমারখালী সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক পলি রাণী পাত্রের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ভুয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৮৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

প্রমাণিত হলেও চাকরিতে বহাল!

ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদে এমপিওভুক্ত হয়েছেন প্রমাণিত হওয়ার পরও ৮ বছর ধরে চাকরিতে বহাল রয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক পলি রাণী পাত্র। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর মো.মফিজ আহমেদ ভূইয়া ও উপপরিচালক এস এম কামরুজ্জামানকে নিয়ে গঠিত দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ২০১৪ সালের ৩ মার্চ তারিখে পলি রাণী পাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদ্বয় লিখিত ভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক মোহা. আবুল কাশেমকে মামলার নির্দেশ দিলেও আজ অবধি মামলা করা হয়নি। উল্টো বন্ধ হয়ে যাওয়া এমপিও পুনর্বহালের জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত শিক্ষিকার পক্ষে মামলা করার পায়তারা করছেন প্রধান শিক্ষক মোহা. আবুল কাশেম। তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভোকেশনাল শাখার ভাষা ইংরেজি শিক্ষক পলি রাণী পাত্র ২০১১ সালে ২ এপ্রিল কুমারখালী পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ঐ বছরই ২৬ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক মোহা. আবুল কাশেম কর্তৃক স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র সহ অন্যান্য সকল কাগজপত্র এমপিও ভুক্তির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের অগ্রায়নপত্র নিয়ে ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ২০৪১/১ নম্বর স্মারকে প্রেরণ করেন। প্রধান শিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক এমপিও ভুক্তির জন্য প্রেরিত কাগজপত্রে ভোকেশনাল শাখার ভাষা ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পলি রাণী পাত্রকে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক কর্মচারিদের এমপিওভুক্তিকরণের জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সরবরাহ তথ্য ছকের (ক) ব্যক্তিগত তথ্য ছকের ৯ নম্বর কলামে নিবন্ধন সনদ বিষয়ে ইংরেজিতে নিবন্ধিত হওয়ার কথা পলি রাণী পাত্র উল্লেখ করেন, যার সনদ নম্বর ২১৭৪ এবং পাশের সাল ২০০৭। এমপিওভুক্তির কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক মোহা. আবুল কাশেম ও অভিযুক্ত পলি রাণী পাত্র। কিন্তু অভিযুক্ত পলি রাণী পাত্রের ইংরেজি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পলি রাণী পাত্রের ইংরেজি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাই পত্রের স্মারক নম্বর বেশিনিক/প.মূ.প্রা./পরীক্ষা-৩/সনদ যাচাই/৩৫৩/১০/৫৮৮,তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ। পলি রাণী পাত্র, পিতা নিমাই চন্দ্র পাত্র, পদবি সহকারী শিক্ষক(ইংরেজি),রোল নম্বর ১১০৬০৯৮০,নিবন্ধন নম্বর ৭০০২৯৬৫/২০০৭। সনদটি সঠিক নয় বলে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানায়। পলি রাণী পাত্র কর্তৃক জাল জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহা.আবুল কাশেমকে জানানো হয় এবং অনুলিপি জেলা প্রশাসক,জেলা শিক্ষা অফিসার ও অফিসার ইনচার্জ,কুমারখালী থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে পত্র প্রেরণ করা হয়। এনটিআরসিএ থেকে পাঠানো পলি রাণী পাত্রের ইংরেজি নিবন্ধন সনদ সঠিক নয় এমন চিঠি কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রাপ্তির পর তদন্ত করে ১৫/০১/২০১৩ তারিখে ২২৭ নং স্মারকে প্রধান শিক্ষক মোহা.আবুল কাশেমকে বাদী হয়ে পলি রাণী পাত্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দেন। প্রধান শিক্ষক মোহা.আবুল কাশেম ১৭/০১/২০১৩ তারিখে কুমারখালী থানা থেকে মামলার নথি বুঝে নিলেও আজ পর্যন্তও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তিনি মামলা করেননি। মামলা না করে বরং পলি রাণী পাত্রকে ২০১৩ সালে জুন মাসে অবৈধ ভাবে এমপিওভুক্তিকরণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন। যার ইনডেক্স নম্বর ১৩১৬০০০৮,বিষয় বাংলা,এমপিও কোড ১০,বেতন স্কেল ৮০০০ টাকা,পদবি সহকারী শিক্ষক। শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতি সন্দেহাতিত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় পলি রাণী পাত্রের এমপিও বন্ধ হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান এমপিও বন্ধ হলেও পলি রাণী পাত্র এখনও বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন এবং প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। আবার তিনি বিভিনড়ব সরকারি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন। তথ্য গোপন করে তিনি ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক হয়েও যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। পলি রাণী পাত্রের এমপিও বন্ধ থাকলেও প্রধান শিক্ষক মোহা. আবুল কাশেম অনৈতিক সুযোগ নিয়ে ঐ শিক্ষিকার এমপিও চালুকরণের জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে মামলার পায়তারা করছেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে। প্রতারণা ও সনদ জালিয়াতি একটি ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো তাকে এসব অভিযোগ থেকে বাঁচাতে এবং সরকারিকরণে তার নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি বিজড়িত বিদ্যালয়ে একজন সনদ জালিয়াতি কিভাবে শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে বহাল থাকেন তা নিয়ে কুমারখালী উপজেলার সচেতন মহলে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহা. আবুল কাশেম মুঠোফোনে বলেন, এখন ঐ শিক্ষিকার এমপিও বন্ধ রয়েছে। ঐ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেননি এমন প্রশেড়বর জবাবে তিনি বলেন,অনেক রাজনৈতিক ব্যাপার থাকে আসলে সেটা ফোনে বলা যাবে না। প্রধান শিক্ষক মোহা. আবুল কাশেমকে এ ব্যাপারে আরো প্রশড়ব করা হলেও তিনি ফোনে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। নতুন সরকারিকরণকৃত কুষ্টিয়ার কুমারখালী পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরো ৫/৬ জন শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ, বি.এড সনদ, অ্যাকাডেমিক সনদ ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ জাল বলে অভিযোগ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর