মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির প্রতীকী অনশন পালন কুষ্টিয়ায় পণ্যে পাটজাতদ্রব্য ব্যবহার না করার অপরাধে জরিমানা কিশোরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি পরিবারের ৮৩টি বসতঘর পুড়ে ভস্মীভ’ত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির প্রতিকী অনশন পালিত কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনগনকে জনসম্পদে পরিনত করতে হবে : ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, এমপি ফতুল্লায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় তালিকা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধীরা সাংবাদিকদের মধ্যে আর কোনো বিভক্তি থাকবে না : রুহুল আমিন গাজী কুষ্টিয়ায় তিন দিনেও খোঁজ মেলেনি অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রের, ফোনে মুক্তিপণ দাবি

আওয়ামীলীগ নেতা মান্নান খানের সাথে তরুণীর মুঠোফোনের অডিও ফাঁসের ঘটনায় কুষ্টিয়া জুড়ে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৭২০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

স্বামী পরিত্যক্তা তরুণী এক গৃহবধুর সাথে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা এক উপজেলা চেয়ারম্যানের মুঠোফোনের অডিও কেলেংকারীর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় কুষ্টিয়া জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই তরুণীর সাথে মুঠোফোনে কথোপোকথনের একাধিক অশ্লীল অডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি এখন “টক অব দ্যা টাউন” এ পরিণত হয়েছে। অশ্লীল কথোপোকথনের অডিও ছাড়াও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের সাথে এক সন্তানের জননী স্বামী পরিত্যক্তা ওই তরুণীর রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে সময় কাটানোর ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। লালন গানের শিল্পী স্বামী পরিত্যক্তা সুন্দরী ওই গৃহবধুর বাড়ি কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া মন্ডলপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে। সোস্যাল মিডিয়ায় মান্নান খান এবং ওই গৃহবধুর অডিও কেলেংকারীর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা ওই গৃহবধুর মুখোমুখি হন। এ সময় তাকে (ওই গৃহবধুকে) মুঠোফোনে কথোপোকথনের ওই অডিও ক্লিপগুলো শোনানো হলে তিনি ওই অডিও ক্লিপ গুলো তার এবং মান্নান খানের বলে স্বীকার করেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের সাথে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি হোটেলে একাধিকবার দেখা সাক্ষাত হওয়ার এবং একান্তে সময় কাটানোর বিষয়টিও অকপটে শিকার করে নেন ওই তরুণী।

স্বামী পরিত্যক্তা তরুণী ওই গৃহবধুর সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের অডিও কেলেংকারীর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলা এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলা এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, আব্দুল মান্নান খানের এই নৈতিক স্খলনের বিষয়টি কোন ভাবেই সমর্থন করার মত নয়। এটা চরমভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। এর দায় মান্নান খানকেই নিতে হবে। আওয়ামীলীগ কোন অবস্থাতেই এর দায় নেবে না। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ওই গৃহবধু জানান, প্রায় দু’বছর আগে প্রতিবেশী মিলন নামের এক যুবকের মাধ্যমে কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের জয়নাবাদ গ্রামের শিক্ষানবীশ আইনজীবী আনিসুর রহমান লালের সাথে তার পরিচয় হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে আনিসুর রহমান লাল ( আমার নেতা-খুব প্রভাবশালী) এ কথা বলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের সাথে তার (ওই গৃহবধুর) পরিচয় করিয়ে দেয়। পরিচয়ের পর ওই গৃহবধুর গান শুনে আব্দুল মান্নান খান তার প্রতি আসক্ত হন। এর পর থেকে চলতে থাকে দিনের পর দিন মুঠোফোনে কথোপোকথন। ওই গৃহবধু জানান পরিচয় হওয়ার পর তিনি এবং আব্দুল মান্নান খান রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন এবং সময় কাটিয়েছেন। আব্দুল মান্নান খানের সাথে তার মুঠোফোনে কথোপোকথনের অডিও কিভাবে ছড়িয়ে পড়ল জানতে চাইলে ওই তরুণী দাবি করেন, আনিসুর রহমান লাল তার মোবাইলের মেমোরি কার্ড বের করে নিয়ে গিয়ে এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকার হোটেলে অবস্থানের ছবিটিও লালের লোকজন তাদের অজান্তে গোপনে ধারণ করে বলেও তিনি দাবি করেন। এদিকে এই অডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আব্দুল মান্নান খান স্থানীয় রাজনীতিতে অনেকটাই কোনঠাঁসা হয়ে পড়েছেন। দলীয় কোন কর্মসূচীতে তাকে আর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নৈতিক স্খলন কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। কোন ব্যক্তি বিশেষের অনৈতিক কর্মকান্ডের দায় আওয়ামীলীগ কোন ভাবেই বহন করবে না। এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের সাথে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আব্দুল মান্নান খান এবং ওই তরুণীর মধ্যে মুঠোফোনে কথোপোকথন তুলে ধরা হলো :

মান্নান খান : একটু আদর করো।
তরুণী : এখন আবার অবেলা করে কিসের আদর?
মান্নান খান : আদরের কোন বেলা নেই।
মান্নান খান : একটু আদর করো তাই শেষ।
তরুণী : অনেক আদর করেছি তোমায়। আদর করা যাবে না। আবার পড়ে।
মান্নান খান : না একটু করো লক্ষী, শোনা আমার, লক্ষী আমার।
তরুণী : পড়ে আদর করছি শোনা।
মান্নান খান : শোনা একটু কিস দাও। শোনা একটু কিস দাও। একটা চুমু খাও সোনা।
তরুণী : আচ্ছা ঠিক আছে, নেন। হয়েছে।
তরুণী : আরো।
মান্নান খান : শোনা যায়নি। একটু জোরে খাও।
তরুণী : ওরে আল্লাহ! এর চেয়ে জোরে হবে না।
এর পর মান্নান খান জোরে শব্দ করে চুমু খেয়ে খেলে ওই তরুণীকেও জোরে শব্দ করে চুমু খেতে শোনা যায়।
মান্নান খান : আসল চুমু কবে খাবা? তাই বলো ? অরজিনালী কবে খাবা?
তরুণী : ও দিন তারিখ ধার্য করেন।
মান্নান খান : আমি তো সব সময় হাতে সময়।
তরুণী : আচ্ছা ঠিক আছে। আমিও আছি।
অপর একটি কথোপোকথন :
মান্নান খান : মোবাইল ক্যা বন্ধ রাখো।
তরুণী : না পাখি মোবাইল বন্ধ রাখিনি।
মান্নান খান : দেখা হবে? দেখা করা যাবে না? ?
তরুণী : দেখা করা যাবে না এটা কেমন কথা। দেখা করা যাবে।
মান্নান খান : কোথায়?
তরুণী : কবে দেখা করবেন আপনি?
মান্নান খান : কালকেই করি। কোথায়?
তরুণী : কালকে।
মান্নান : হু।
তরুণী : আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি নাস্তা করেন। কালকে কথা বলবোনে।
মান্নান খান : না ভয় করছে এখন। আমার দেখে।
তরুণী : না। ভয় করছে না। ভয় করবে কেন? আপনি কি হাতি? না বাঘ না ভাল্লুক। যে আপনার দেখে ভয় করবে?
মান্নান খান: সেদিন কি মনে হয়েছিল? বাঘ না ভাল্লুক।
তরুণী : সেদিন তেমন কিছু মনে হয়নি। তবে নার্ভাস লাগছিল।
মান্নান খান: তোমার সাথে দেখা হলো কবে?
তরুণী : মনে নাই।
মান্নান খান : সত্যি কথা কবা না।
তরুণী: হেসে, সত্যি কথা কওা কি মানা নাকি?
মান্নান খান : তে বুলতিছো না কবে দেখা হলো?
তরুণী : আমার মনে নাই দেখা হয়েছে এই টুকু মনে আছে। কিন্তু কিবার ছিলো কত তারিখ ছিল। অতটা এখন আর মনে হচ্ছে না। এরকম হয় না।
মান্নান খান: হু রাখি দাও ক্যা?
তরুণী: মানুষ আসছে বাসায় তাই রেখে দিলাম।
মান্নান খান : আমার যে ভালো লাগছে না।
তরুণী : এত কথা বললে কি ভালো লাগে নাকি।
মান্নান খান : কথা ভললিই ভালো লাগে।
তরুণী: কথা বললে ভালো লাগে না।
মান্নান খান : ভালো লাগে আমার।
তরুণী : অল্প কথা বললে ভালো লাগে। বেশি কথা বললে ভালো লাগবে না।
মান্নান খান: তাই কাছে শুয়া রাখলি ভালো লাগে?
মান্নান খান: ফোন রেখে দিলে আবারও রিং দেবোনে।
তরুণী: না বলছি, একা একা ঘুমাতে খুব ভালো লাগে।
মান্নান খান: একা একা ঘুম আসে না। তুমি তো আমার পাগল করে দিছো? যে গান শুনালে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর