রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

পলাশের জবানবন্দি কুষ্টিয়ার মিরপুরে ধর্ষনের ফলে জন্ম নেয়া শিশুর লাশ উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৭৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার মিরপুরে চাঞ্চল্যকর ধর্ষনের ফলে জন্ম নেয়া শিশুর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ২৩ অক্টোবর সকালে মিরপুরের কূর্শা ইউনিয়নের মাঝিহাট এলাকায় ভিকটিমের বাড়ির পাশে পুকুর পাড় থেকে আদালতের নির্দেশে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি, মিরপুর থানার ওসি, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ এলাকার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিরপুর থানার ওসি।

গত ১৭ অক্টোবর “বঙ্গবন্ধু আদর্শ ঐক্য পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি পলাশের কান্ডে তোলপাড়, মিরপুরে সরলতার সুযোগে ৭ মাস ধরে শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভপাত করিয়েও রেহাই পাচ্ছে না পরিবারটি” শিরোনামে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক হাওয়া পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন করা হয়। মিরপুর থানা বিষয়টি টের পেয়ে ভিক্টিম কে থানায় নিয়ে আসে এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামি কে ঐ দিনই আটক করা হয়। এবিষয়ে মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলা নং-১২, তারিখ ১৭.১০.২০২০ইং। কুষ্টিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দী শেষে আসামি নুরুজ্জামান পলাশ কে জেল হাজতে পাঠানো হয়। জানাযায়, কুর্শা ইউনিয়নের মাঝিরহাট গ্রামের মৃত সোহরাব মাস্টারের ছেলে বঙ্গবন্ধু আদর্শ ঐক্য পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি  নুরুজ্জামান পলাশ মোল্লা(৩৫) একই গ্রামের মৃত আঃ মালেকের মেয়ে তৃষার (ছদ্মনাম) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

প্রেমের সম্পর্কের শুরু থেকেই ভুক্তভুগী মেয়েটির সাথে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলে অভিযুক্ত পলাশ। প্রায় ৭মাস ধরে এভাবে শারিরীক সম্পর্ক হওয়াতে একপর্যায়ে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে যায়। তবে মেয়েটির গর্ভবতীর দিন যখন দিন দিন বাড়তে থাকে ঠিক তখনই লোকলজ্জার ভয়ে এবং আসামীর চাপে বাচ্চাটিকে ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার সময় নিজ বাসাতেই গর্ভপাত করান।

তবে নামপ্রকাশ করতে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, গর্ভপাত করানোর পর বাচ্চাটি বেঁচে ছিলো, পরবর্তীতে নুরুজ্জামান পলাশ জোরপূর্বক মেয়েটিয়ে দিয়ে ওই নবজাতক বাচ্চাটিকে ঔষুধ খাইয়ে মেরে ফেলে এবং পরবর্তীতে বাড়ির পাশেই এক ঝোপে মাটিচাপা দেয়। এবিষয়ে ভুক্তভোগী তৃষার (ছদ্মনাম) সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার সাথে পলাশের ৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক। আর এই প্রেমের সম্পর্ক থেকেই আস্তে আস্তে শারিরীক সম্পর্কতে জড়িয়ে পড়ি এবং এর মধ্যেই আমি গর্ভবতী হয়ে যাই। এখন পলাশের সাথে আমার কোন যোগাযোগ হচ্ছেনা, আমার কোন খোজখবর রাখেনা। তবে পলাশের ভাই আমাকে নানা মহলে চরিত্রহীনা বানানোর চেষ্টা করছে। মেয়েটির মা জানান, আমার মেয়ের সাথে পলাশের শারিরীক সম্পর্ক গড়ে ওঠার কারনেই আজ আমাদের এমন দশা। আমার স্বামী নেই, মা ও মেয়ে এই বাড়িতে থাকি। অভিযুক্ত পলাশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি। তবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বেশ কয়েকজন সহ পলাশের ভাই হাজির হয় মেয়েটির বাড়িতে। সেসময় তিনি জানান, এই মেয়ে একাধিক মানুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখায় এমন দশা। আমার ভাই এর সাথে জড়িত না।

তবে এলাকাবাসী বলছে, মেয়েটির পরিবার অনেক গরীব, আর তাই বাড়ি করতে পলাশ কিছুটা হেল্প করে। আর এই সুযোগ নিয়েই আস্তে আস্তে প্রেমের সম্পর্ক গড়িয়ে এমন শারিরীক সম্পর্ক। অভিযুক্ত নুরুজ্জামান পলাশ কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা হান্নান মোল্লার ভাতিজা ও বঙ্গবন্ধু আদর্শ ঐক্য পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি হওয়ায় এবং তার ভাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি হওয়াতে পরবিারটি ভয়ের মুখে পড়ে আছে। তবে বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া ঐতিয্যবাহী সংগঠন বঙ্গবন্ধু আদর্শ ঐক্য পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতির মতো একটি পদে থেকে যদি এমন জঘন্য কাজ করে তাহলে সংগঠনটির সুনাম ব্যাপক ক্ষুন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর