মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

কুষ্টিয়ার সাত থানায় এসপির চোখ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৪১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

থানার ভেতর কী হচ্ছে, সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে পুলিশ, সেটা কার্যালয়ে বসেই দেখছেন পুলিশ সুপার। শুধু দেখছেন বললে ভুল হবে, সেখানে কী কথাবার্তা হচ্ছে তাও শুনতে পাচ্ছেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে থেকে এই ব্যবস্থা নিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এস তানভীর আরাফাত।

জানতে চাইলে এসপি বলেন, এমন তদারকিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ সহজভাবে সেবা নিতে পারবেন। মানুষ তাঁর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে থানামুখী হবেন এবং ভালোবেসেই সেবা নিতে পারবেন।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ছয়টি উপজেলায় পুলিশের সাতটি থানা রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতিটি থানার ডিউটি কর্মকর্তার কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে লাগানো সিসি ক্যামেরা পুলিশ সুপারের কক্ষে থাকা কম্পিউটার ও মুঠোফোনে সংযুক্ত করা হয়। এতে করে ২৪ ঘণ্টায় যেকোনো সময় এসপি থানাগুলোর কার্যক্রম সরাসরি দেখতে পান। যেকোনো থানার ভেতরে কী হচ্ছে, তা যেকোনো সময়ে সেকেন্ডের মধ্যে তিনি সরাসরি দেখে পরামর্শ দিতে পারেন বা সেবার মান নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কথা বলেন।

জনগণের করের টাকায় পুলিশের বেতন হয়। সেই জনগণকে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে যা যা করার প্রয়োজন, তার সবই করা হবে। জনগণ পুলিশকে ভয় পাবে না, ভয় পাবে অপরাধীরা।

              তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার।

অনেক সময় দেখা যায়, থানাগুলোতে ডিউটি অফিসারের কক্ষে সেবা নিতে যাওয়া মানুষদের সঙ্গে কেউ অসদাচরণ করেন। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের খারাপ ধারণার সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনায় থানায় গিয়ে সেবা নিতে মানুষ অনীহা দেখান। এ ছাড়া হাজতখানাগুলোতেও নানা রকম নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফলে সেবা নিতে যাওয়া মানুষদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা কেমন আচরণ করছেন, তা সহজেই দেখতে পাওয়া যায়। সঙ্গে সেখানকার কথাবার্তা শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব অবহেলা করার সুযোগও থাকে না।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য পুলিশ সব সময় প্রস্তুত থাকে। এসপি স্যারের তদারকি অবশ্যই একটা ভালো দিক। দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা তদারকি করছেন, এটা খুবই ভালো বিষয়। এতে কেউ ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। মানুষও তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবা যথাসময়ে পাবেন।

পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশকে আধুনিক করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনগণের করের টাকায় পুলিশের বেতন হয়। সেই জনগণকে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে যা যা করার প্রয়োজন, তার সবই করা হবে। জনগণ পুলিশকে ভয় পাবে না, ভয় পাবে অপরাধীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

এক ক্লিকে বিভাগের খবর